সাড়ে ৫০০ বছরের ঐতিহ্য বহন করছে হাটহাজারীর ফকির মসজিদ

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সুমন দাশ গুপ্ত পল্লব, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার দেওয়ানগর এলাকায় অবস্থিত ফকির মসজিদ সুলতানি আমলের এক অনন্য ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে আজও টিকে আছে। ইতিহাসবিদদের মতে, সুলতান শামসউদ্দিন ইয়ুসুফ শাহের শাসনামলে ১৪৭৪ থেকে ১৪৮১ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মসজিদটি নির্মিত হয়। সময়ের পরিক্রমায় একসময় মসজিদটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে এবং জঙ্গলাকীর্ণ অবস্থায় হারিয়ে যেতে বসে। প্রায় দুই শতাব্দী আগে সুফি সাধক হযরত মুকিম শাহ এই পরিত্যক্ত মসজিদটি পুনরাবিষ্কার করেন এবং এখানে আবার নামাজ ও ধর্মীয় কার্যক্রম চালু করেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত দরবেশ ও নির্লোভ জীবনযাপনে অভ্যস্ত, স্থানীয় মানুষের কাছে যিনি ‘ফকির’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। তাঁর সাধনা, ত্যাগ ও অবদানের কারণেই এলাকাবাসী মসজিদটিকে ‘ফকিরের মসজিদ’ বলে ডাকতে শুরু করে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফকির মসজিদ নামে পরিচিতি পায়। মুকিম শাহের কবর বর্তমানে মসজিদের প্রবেশপথের পাশেই অবস্থিত এবং তাঁর বংশধররাই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মসজিদ ও সংলগ্ন স্থাপনার দেখভাল করে আসছেন। ষড়গম্বুজ ও চার মিনারবিশিষ্ট ইট-চুন-সুরকির এই মসজিদটি চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্য ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও দীর্ঘদিনের ব্যবহারে দেয়ালের ফাটল, প্লাস্টার খসে পড়া ও গম্বুজের ক্ষতির চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মসজিদের আওলাত ও মুকিম শাহের বংশধর মোহাম্মদ আবদুল কাদের বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষ হযরত মুকিম শাহ ছিলেন একজন ফকির স্বভাবের দরবেশ মানুষ। তাঁর নামেই এই মসজিদ পরিচিতি পেয়েছে। এটা শুধু ধর্মীয় স্থান নয়, আমাদের বংশগত ইতিহাসও বটে, তাই সংরক্ষণ খুব জরুরি।’ মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিদিন শত শত মুসল্লি এখানে নামাজ আদায় করেন, জুমার দিনে আরও বেশি মানুষ আসে। কিন্তু মসজিদটি অত্যন্ত পুরনো হওয়ায় নিয়মিত সংস্কার দরকার, যা আমাদের পক্ষে একা করা সম্ভব নয়। স্থানীয় ইতিহাস গবেষক ড. মাহফুজুল হক বলেন, ফকির মসজিদ চট্টগ্রামের সুলতানি আমলের বিরল নিদর্শন। নামকরণের পেছনেও রয়েছে সুফি ঐতিহ্যের ইতিহাস। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত হলেও দ্রুত গেজেট ও সংরক্ষণ কার্যক্রম শুরু না হলে এই গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।‘স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সরকারি উদ্যোগ ও পরিকল্পিত সংরক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে ফকির মসজিদকে রক্ষা করা গেলে এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মূল্যবান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে টিকে থাকবে।