টেকনাফে পেঁপে চাষ বাড়ছে

প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  জিয়াবুল হক, টেকনাফ (কক্সবাজার)

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা। পেঁপে কাঁচা সবজি ও পাকা ফল হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় স্থানীয় বাজারসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় দিন দিন এর চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। তাই কৃষকদের অনেকেই এখন পেঁপে চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। পাইকাররা এখন বাগান থেকেই পেঁপে কিনছে। যে কারণে কৃষকদের বাজারে নিয়ে যাওয়ার ঝামেলা থাকছে না। বরং যাতায়াত খরচ কমে যাওয়ার পাশাপাশি লাভের পরিমাণ বেড়েছে। টেকনাফ সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া গ্রামের কৃষক মো. ইউনুস। গেল বছর তিনি কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও পরামর্শে ২ কানি জমিতে পেঁপে চাষ করে লাভবান হয়েছেন। গত বছরের সফলতায় এ বছর তিনি আরও বেশি লাভের আশায় ৩ কানি জমিতে পেঁপে চাষ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি দামও পাচ্ছেন ভালো।

ইউনুস এর দেখাদেখি একই গ্রামের আবদুল গফুর ও বাদশাহ মিয়া পেঁপে চাষ করে সফলতা অর্জন করার পাশাপাশি তারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। পেঁপে কাঁচা সবজি ও পাকা ফল হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় স্থানীয় বাজারসহ কক্সবাজারের আশপাশে এই সবজি ও ফলের রয়েছে বেশ চাহিদা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ উপজেলায় প্রায় ২৫ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষ করা হয়েছে। উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন ও হোয়াইক্যং, টেকনাফ সদর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি পেঁপে চাষ করা হয়েছে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সবজি নিয়ে বাজারে পাইকারি ও স্থানীয় লোকজনের কাছে বিক্রি করছেন।

উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শফিউল আলম বলেন- কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও পরামর্শে পেঁপে চাষে বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের পরিবারে ফিরে এসেছে আর্থিক সচ্ছলতা।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন কবির বলেন- পেঁপে চাষে খরচ কম, রোগ বালাইয়ের ঝামেলা ও ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষ করে অনেকেই আর্থিকভাবে সচ্ছল। তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে পুষ্টিমান সমৃদ্ধ পেঁপে চাষে ভাগ্য বদলে ফেলা যায়। পেঁপে চাষে অর্থনৈতিকভাবে সরকারি সহযোগিতা পেলে দেশের বেকার সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। শিক্ষিত বেকার যুবকরা যদি চাষে অগ্রসর হয় তাহলে তারাও লাভবান হবে।