হাটহাজারী পৌরসভার ভবন ঝুঁকিপূর্ণ
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
সুমন পল্লব, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসভার একটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে ভবনটির ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশ থেকে পলেস্তারা খসে পড়েছে, বের হয়ে এসেছে রড-সিমেন্টের মূল কাঠামো। সামান্য কম্পন কিংবা ভূমিকম্প হলে যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়তে পারে, এমন আশঙ্কায় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের ছাদের বড় একটি অংশ সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। পলেস্তারা খসে পড়ে ভেতরের লোহার রড বেরিয়ে আছে। দেয়ালের বিভিন্ন জায়গায় গভীর ফাটল, কোথাও কোথাও কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ার স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যেই প্রতিদিন শত শত মানুষ জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ নানা সেবা নিতে এই ভবনে প্রবেশ করছেন। অন্য কর্মচারী বলেন, ভূমিকম্প হলে পালানোরও সময় পাব না। পরিবারকে বিদায় জানিয়েই যেন প্রতিদিন কাজে আসি। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক। পৌরসভায় প্রধান সহকারী সুমন বড়ুয়া জানান, প্রতিদিন অফিসে ঢুকেই প্রথমে ছাদের দিকে তাকাতে হয়, আজ নতুন করে কোথাও ভাঙল কি না। কাজের চেয়ে মৃত্যুভয়ই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক বৃদ্ধ সেবাগ্রহীতা বলেন, ছাদ থেকে পলেস্তারা পড়তে দেখে বুক কেঁপে উঠেছে। জানি ঝুঁকি আছে, তবুও কাজের জন্য আসতেই হয়। এক নারী সেবাগ্রহীতা জানান, শিশুকে নিয়ে ভেতরে ঢুকতেই ভয় লাগে। কখন কোন অংশ ভেঙে পড়ে বলা যায় না। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝুঁকির বিষয়টি বারবার জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। ভবনটি সংস্কার বা বিকল্প স্থানে দপ্তর সরিয়ে নেওয়ার কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। সচেতন মহল মনে করছেন, বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের দাবি, অবিলম্বে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে বিকল্প ভবনে পৌরসভার কার্যক্রম স্থানান্তর করা হোক অথবা জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজ শুরু করা হোক। অন্যথায় যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা যার দায় এড়াতে পারবে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে পৌরসভার পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী জিসান বিন মাজেদ জানান- এই পৌরসভা ১২ বছর আগে প্রতিষ্ঠার পর ইউনিয়ন পরিষদে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পরবর্তীতে জায়গা সংকলন না হওয়ায় পরিত্যাক্ত উপজেলা আদালত ভবনে স্থানান্তর করে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বর্তমানে ভবনটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কর্মকর্তা কর্মচারী এবং সেবা প্রার্থীরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্য থাকে। পৌরসভার নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় নতুন ভবন নির্মাণ করা যাচ্ছে না। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন পৌরসভা নিজস্ব জায়গায় ভবন রয়েছে, কিন্তু এই পৌরসভাটি ১নং মডেল পৌরসভা হওয়ার পর নিজস্ব কোনো ভবন নাই। এরইমধ্যে আমাদের পৌর প্রশাসক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় চেষ্টা করছে একটা পৌরসভার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ব্যবস্থা করা। জায়গা ব্যবস্থা হলে ভবনের জন্য মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হবে।
পৌর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিসান বিন জাসেদ মুঠো ফোনে এই বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি জানান, আমি যোগদান করেছি কয়েকদিন হয়েছে। এই বিষয়ে পৌর প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি একটি পৌরসভার জন্য স্থায়ী ভবন নির্মাণ করা। এই বিষয়ে পৌর প্রশাসক (ডিডিএলডি) গোলাম মাঈন উদ্দীন হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ চেষ্টা করা হলেও নির্বাচনের কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকায় তিনি মুটোফোন রিসিভ করেননি।
