পাহাড়ি এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মধু চাষ

প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  বাবুল খাঁন, বান্দরবান

বান্দরবানের রুমা থানচি রোয়াংছড়ি আলীকদম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হারে বেড়েছে মধু চাষ। পাহাড়ি আবহাওয়া ও জলবায়ু মধু চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় দিন দিন মধু চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে চাষিরা। পাহাড়ি জঙ্গল থেকে রাণী মৌমাছি সংগ্রহ করে কাঠের বক্সে বন্দি করে রাখা হয়। সেখান থেকে পরে পাহাড়ের বিভিন্ন প্রজাতির গাছের ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে মৌমাছিরা বক্সের চাকে জমা করে। প্রতিটি বক্সে ২৫ থেকে ৫০ হাজার মৌমাছি মধু জমা করে। এভাবে কয়েক মাস পরিচর্যার পর প্রতিটি বক্স থেকে ৩ থেকে ৬ কেজি মধু পাওয়া যায়। পাহাড়ে চাষকৃত অ্যাপিস সেরানা মৌমাছির মধুর গুণগত মান ভালো হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও রয়েছে ভালো। প্রতি কেজি মধু বিক্রি হয় ২ থেকে ৩ হাজার টাকায়।

রোয়াংছড়ি উপজেলার এক মধু চাষি বলেন, ‘মৌ রানিকে বাড়িতে এনে একটি কাঠের বাক্সে রাখি। কয়েক দিনের মধ্যে সেই বাক্স ও এর চারপাশ মৌমাছির গুঞ্জনে সরব হয়ে ওঠে। রানি মৌমাছি বাক্সে আবদ্ধ করার পর কয়েক মাসের মধ্যেই বাক্স থেকে মধু আহরণ করা যায়। কৃষি কাজের পাশাপাশি এ চাষ করছি। শুধু মেগ্য মার্মা নন, পরিবারের বাড়তি আয়ের জন্য ওই গ্রামের ক্যনুমং মার্মা, উসাইন মং, মেনুপ্রসহ ১৮টি পরিবার বাড়ির আঙিনায় বিশেষভাবে তৈরিকৃত বাক্সে মৌ চাষ করছেন।

পার্বত্য মৌচাক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, ‘যারা অস্বচ্ছল পরিবার, ভিটে-মাটি নেই তারা যেন প্রকৃতি থেকে অর্থ উপার্জন করে স্বাবলম্বী হতে পারে। আমরা সে চেষ্টাই করছি। মৌ চাষে তেমন খরচ নেই, মৌমাছিকে খাবার দিতে হয় না। সে জন্য অসচ্ছলদের কাছে এই চাষ খুবই সুবিধাজনক। এ বিষয়ে বান্দরবান কৃষি অফিসের উপ-পরিচালক এমএম শাহনেওয়াজ বলেন, বান্দরবান হলো প্রাকৃতিক সম্পদের ভরপুর একটি জেলা। এ জেলা মৌ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বাড়ির আঙিনায় কিংবা আশপাশে যে কোনো খালি জায়গায় মো বক্স বসিয়ে মৌ চাষ করা সম্ভব। সঠিকভাবে মৌ চাষ করার জন্য এ পর্যন্ত অনেক চাষিদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন মৌমাছি চাষের সরঞ্জামাদি বিতরণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও আমরা মৌ চাষিদের সহায়তা করার চেষ্টা করব।