খাল খননের সুফল পাচ্ছেন চার শতাধিক কৃষক

প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  এমরান হোসেন, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)

পাহাড়ি ঢল আর বানের পানিতে প্রতিবছর ডুবে যায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং এলাকার নিম্নাঞ্চল। এতে কৃষকের সোনালি ধান, বীজতলা পচে পানির নিচে। কোটি টাকার মাছ ভেসে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত হয় এলাকাবাসী। সেই দুঃখ এবার ঘুচতে চলেছে। গত বর্ষার আগে পাইন্দংয়ের পাটিয়াল খাল খনন হয়। দুই কিলোমিটারে খাল খননের ফলে এরইমধ্যে ৪ শতাদিক কৃষক সুফল ভোগ করছে। পাশাপাশি ওই এলাকায় বষা মৌসুমে জলাবদ্ধতাও কমে এসেছে।

সম্প্রতি সবুজবাগ গ্রামে পাইন্দং পাটিয়াল খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন হয়। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের উদ্যেগে কর্পোরেশন-এর প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম’র সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাল খনন কাজের উদ্যোক্তা, সাবেক ব্যাংকার জসিম উদ্দীন চৌধুরী। প্রধান আলোচক বিএডিসির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী তমাল দাস। উদ্বোধক ছিলেন পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান একে ছরওয়ার হোসেন স্বপন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন- বিএডিসির সাব এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার দিপন চাকমা, নাজিম উদ্দীন, মঈন উদ্দীন মনজু, পাইন্দং ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জসিম উদ্দিন, জামায়াত ইসলামির সভাপতি এরশাদউল্লাহ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন- অবসরকালীন জীবনে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আমার প্রিয় জন্মভূমির উন্নয়নে ও মানবিক সেবায় নিয়োজিত রাখতে চাই।

শৈশব থেকে দেখে আসছি এই খালটি ভরাট হয়ে গ্রামের পানি নিষ্কাশনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে যার ফলে বর্ষা মৌষুমে অল্প বৃষ্টিতে বন্যা হয় ও শুষ্ক মৌষুমে পানি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে এলাকার কৃষি কাজের ব্যাঘাত ঘটে। এলাকাবাসীর আবেদনে আমি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন এর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে সাড়া দিয়ে দ্রুততম সময়ে এই মরা খালটি পুনরায় খনন করার উদ্যেগ গ্রহন করেন। তাই আমি ওনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

পাইন্দং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একে ছরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন- জসীম উদ্দীন চৌধুরীর মত সুশীল সমাজের কৃতি ব্যক্তিরা যদি গ্রামিন জনপদের সামাজিক উন্নয়নে এগিয়ে আসেন তাহলে এই দেশ অচিরেই সোনার বাংলায় পরিনত হবে। ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান- প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তো।

তারপর পাহাড়ি ঢলের আতঙ্কতো আছে। এ কারণে অনেকে ফসল ও মাছ চাষের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছিল। এখন খাল পুন:খনন হওয়ায় এলাকার কৃষকরা খুশি। সবাই সুফল পাচ্ছেন বলে তারা জানান। বিএডিসির সাব এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার দিপন চাকমা জানান- গত অর্থবছরে খালটির খনন কাজ শুরু হয়। এতে সময় লাগে দেড় মাস।

বর্তমানে খাল খনন হওয়ায় এলাকার চাষিদের মুখে হাসি ফুটছে। নতুন করে চাষে নামার স্বপ্ন দেখছেন অনেকে। উপজেলা কৃষি অফিসার আবু সালেক বলেন- উপজেলার পাইন্দংয়ের পাটিয়াল খাল পুনর্খননের ফলে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ায় স্থানীয় শতশত কৃষক সেচ সুবিধা পাচ্ছেন, যা আমন ও বোরো আবাদের পাশাপাশি শীতকালীন সবজি চাষে সহায়তা করছে।