ঈদ সামনে রেখে দর্জিপাড়ায় ব্যস্ততা বেড়েছে
প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে দর্জিপাড়ায় এখন বিরামহীন ব্যস্ততা। রোজার প্রথম সপ্তাহ থেকেই অর্ডার নেওয়া শুরু হলেও শেষ মুহূর্তে এসে কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। সকাল থেকে গভীর রাত, কোথাও কোথাও সেহেরি পর্যন্ত মেশিনের শব্দ থামছে না। উপজেলার বিভিন্ন বাজার হাটহাজারী সদর, বড়দিঘির পাড়, মিরেরহাট, ফতেপুর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা—সবখানেই ছোট-বড় টেইলার্স দোকানে উপচে পড়া ভিড়।
নতুন কাপড় হাতে নিয়ে মাপ দিতে আসছেন নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্করাও। অনেকেই অভিযোগ করছেন, সময়মতো ডেলিভারি পাবেন কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন, আবার দর্জিরা বলছেন, অর্ডারের চাপ সামলাতে অতিরিক্ত কারিগর নিয়োগ করেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। স্থানীয় একাধিক টেইলার্স মালিক জানান, এবার ঈদ সামনে রেখে থ্রি-পিস, গাউন, কুর্তি, পাঞ্জাবি, পায়জামা, ফতুয়া, শেরওয়ানি ও শিশুদের পোশাকের অর্ডার বেশি। বিশেষ করে তরুণীদের মধ্যে কাস্টমাইজড ডিজাইনের পোশাকের চাহিদা বেড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন ডিজাইন দেখে গ্রাহকরা ছবি নিয়ে আসছেন, সেই অনুযায়ী কাটিং ও সেলাই করতে হচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় একটি পোশাক তৈরিতে সময়ও বেশি লাগছে। দর্জিরা বলছেন, আগে যেখানে একটি সাধারণ সালোয়ার-কামিজ বানাতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগত, এখন নকশা, লেইস, হাতের কাজ ও ফিনিশিং মিলিয়ে সময় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। হাটহাজারী বাজারের এক প্রবীণ দর্জি জানান, তিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে এ পেশায় আছেন, কিন্তু ঈদের আগের এমন চাপ প্রতিবছরই বাড়ছে।
মানুষের আয়-রোজগার বেড়েছে, পোশাকের প্রতি সচেতনতা বেড়েছে, তাই রেডিমেডের পাশাপাশি টেইলার্সের চাহিদাও কমেনি। বরং মাপ অনুযায়ী আরামদায়ক পোশাকের জন্য অনেকে এখনও দর্জির ওপরই নির্ভর করেন। এদিকে অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন অনেকেই। দোকানের সামনে নোটিশ ঝুলছে ‘ঈদের অর্ডার বন্ধ’। তবুও পুরনো গ্রাহকদের অনুরোধে সীমিতভাবে কাজ নিচ্ছেন কেউ কেউ। কয়েকজন কারিগর জানান, রাত জেগে কাজ করায় শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন তারা।
রোজা রেখে দীর্ঘসময় মেশিন চালানো সহজ নয়, তবুও গ্রাহকের সন্তুষ্টির কথা ভেবে কাজ করে যাচ্ছেন। কর্মচারীদের বাড়তি বেতন ও ওভারটাইম দিতে হচ্ছে মালিকদের। অন্যদিকে গ্রাহকদের অভিযোগ, সেলাই খরচ গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। একটি থ্রি-পিস সেলাইয়ে যেখানে আগে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা লাগত, এখন তা ১২০০ থেকে ১৮০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। পাঞ্জাবি ও পায়জামার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা।
দর্জিরা বলছেন, কাপড়, সুতা, বোতাম, লেইসসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে, বিদ্যুৎ বিল ও দোকান ভাড়াও বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই সেলাই চার্জ বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন তারা। উপজেলা জুড়ে প্রায় কয়েকশ’ ছোট-বড় টেইলার্স দোকান রয়েছে, যেখানে ঈদের মৌসুমে অতিরিক্ত কর্মসংস্থান তৈরি হয়। অনেক শিক্ষার্থী ও বেকার যুবক অস্থায়ীভাবে কাজ নিচ্ছেন। কেউ কাটিং মাস্টারের সহকারী, কেউ বোতাম লাগানো বা ফিনিশিংয়ের কাজ করছেন। এতে তাদেরও কিছু বাড়তি আয় হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে হাটহাজারীর অর্থনীতিতে এক ধরনের মৌসুমি গতি সঞ্চার হয়। কাপড়ের দোকান, লেইস-ফিতা বিক্রেতা, বোতাম ও এক্সেসরিজ ব্যবসায়ী- সবার বিক্রি বেড়ে যায়। এক দোকানি জানান, ঈদের আগে শেষ ১০ দিনেই তার মাসিক বিক্রির অর্ধেকের বেশি হয়ে যায়।
