টেকনাফ স্থলবন্দর পুনরায় চালুর দাবি

প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  জিয়াবুল হক, টেকনাফ (কক্সবাজার)

কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য গত ১০ মাস ধরে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে এক হাজার অধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। নতুন নির্বাচিত সরকারের উদ্যোগে বাণিজ্য পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যবসায়ীরা জানান, টেকনাফ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় তাদের কোটি কোটি টাকা মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের কাছে আটকে আছে। দীর্ঘদিন ধরে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তারা। একইসঙ্গে রাজস্ব আদায় বন্ধ থাকায় সরকারও বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে।

বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার বলেন, গত ১০ মাস ধরে ব্যবসা বন্ধ থাকায় আমরা চরম আর্থিক সংকটে আছি। ব্যাংক ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করতে না পেরে চাপের মুখে পড়েছি। গুদামে পড়ে থাকা অধিকাংশ মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে সীমান্ত বাণিজ্য চালু থাকলে স্থানীয় অর্থনীতি সচল থাকে, শত শত শ্রমিক ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট মানুষ কাজ পান। কিন্তু দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় পুরো বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে।

নতুন সরকার যদি দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে পুনরায় সীমান্ত বাণিজ্য চালুর ব্যবস্থা করে, তাহলে ব্যবসায়ীরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও চাঙ্গা হবে। শ্রমিকরা জানান, বন্দর বন্ধ থাকায় তাদের আয়-রোজগার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকে অন্যত্র কাজের সন্ধানে গেলেও স্থায়ী কোনো সমাধান পাচ্ছেন না। স্থানীয় শ্রমিক আবুল হাসেম বলেন, টেকনাফ স্থলবন্দর চালু হলে আমরা আবার পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবো। গত ১০ মাস ধরে কাজ না থাকায় আমাদের সংসার প্রায় অচল হয়ে গেছে। আগে প্রতিদিন বন্দরে কাজ করে যা আয় করতাম, তা দিয়েই কোনো রকমে সংসার চলতো। এখন ধার-দেনা করে দিন কাটাতে হচ্ছে। সন্তানদের পড়ালেখার খরচ চালাতে পারছি না, বাজার-সদাই করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। দ্রুত যদি বন্দর চালু না হয়, তাহলে আমাদের মতো অনেক শ্রমিক পরিবারসহ মানবেতর অবস্থায় পড়ে যাবে। জানা যায়, মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মি রাখাইন সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর নাফনদী এলাকায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়। সংগঠনটির বাধার কারণে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানি-রপ্তানি করতে পারছেন না। কবে নাগাদ আবার সীমান্ত বাণিজ্য চালু হবে তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণাও নেই। তবে শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ বন্দরনির্ভর মানুষজনের প্রত্যাশা, নতুন সরকার কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে দ্রুত বাণিজ্য পুনরায় চালু করবে।