ভুট্টা চাষে কৃষকের দিন ফিরছে
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
জিয়াবুল হক, টেকনাফ (কক্সবাজার)

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় ভুট্টার আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি মৌসুমে যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই এখন সবুজের সমারোহ। মাঠ জুড়ে ঝিলমিল করে বাতাসে দোলছে ভুট্টার সবুজপাতা। সহজ চাষ পদ্ধতি, পোকার আক্রমণ রোগবালাই কম হওয়া, কম সেচ , বাজারে ভালো চাহিদা থাকা, কম খরচে বেশি মুনাফা অর্জন করায় দিন দিন এ চাষ বেশ জনপ্রিয়তা হয়ে উঠছে। বিগত বছরগুলোর চেয়ে এবছর কৃষকরা এ চাষ করেছেন বেশি। চলতি মৌসুমে জমিতে ফলনের আকৃতি ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টেকনাফ সদর ইউনিয়ন, সাবরাং ইউনিয়ন, শাহপরীর দ্বীপ, বাহারছড়া ইউনিয়ন, হ্নীলা ও হোয়াইক্যংসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ভুট্টার চাষ হয়েছে। গ্রামগুলোর চারদিকে সাড়ি সাড়ি হয়ে গাছগুলো দাঁড়িয়ে আছে। রয়েছে কিছু সবুজ আবার কিছু বাদামি রঙের। দেখলেই মন জুড়িয়ে যায়। গাছে ঝুলছে ভুট্টার মোচা। এরইমধ্যে অনেক গাছ থেকে চলছে মোচা কেটে নেওয়ার কাজ। কৃষকেরা মাঠ থেকে ভুট্টা কেটে হাটবাজার গুলোতে বিক্রি করছে। কেউ বা সেগুলো মাড়াইয়ের কাজ করছেন। সবমিলিয়ে এ উপজেলার কৃষকেরা ভুট্টা নিয়ে এক প্রকার ব্যস্ত সময় পার করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন বলে এখানকার কৃষকেরা জানান। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই এলাকায় কৃষকরা দিন দিন এখন ভুট্টা চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ভুট্টা সাধারণত সেদ্ধ ও পুড়িয়ে খাওয়া যায়। এছাড়া ভুট্টার পাতা গো-খাদ্য হিসেবে, মোচা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, সাধারণত বেলে ও ভারি এটেল মাটি ছাড়া অন্য সব মাটি ভুট্টা চাষের উপযোগী। তবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাযুক্ত উর্বর বেলে দো-আঁশ মাটি ভুট্টা চাষের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় প্রায় ১৬৩ হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদ হয়েছে। সরকার এ চাষে আগ্রহ সৃষ্টি করতে কৃষকদেরকে বিনামূল্যে বীজ ও সার প্রদান করেন। দিন দিন বাড়ছে এ চাষের আবাদ। তাছাড়া রোগ-বালাই এবং উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে ভুট্টা চাষের আবাদ।
টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ হাজীর পাড়া এলাকার কৃষক মো. শামসু বলেন, তিনি গত দুই বছর ধরে কৃষি অফিসের পরামর্শে বাড়ি সংলগ্ন ৩০ শতক জায়গায় ভুট্টা আবাদ করেন। এ চাষে বীজ ও সার বিনা মূল্যে সরকার থেকে পেয়েছেন বলে জানায়। ভুট্টা আবাদ করতে পানি, জমি প্রস্তুত, লাগানোসহ তার ৮ হাজার টাকা তার খরচ হয়। এক সাপ্তাহ আগে ভুট্টা কাটা হয়েছিল। বর্তমানে জমিতে যে অবস্থা দেখা যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে কেনো দুর্যোগ না ঘটলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে।
টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মিঠাপানির ছড়া কৃষক ইদ্রিস মিয়া বলেন, সার বীজসহ অন্যান্য উপকরণ সরকার কর্তৃক পাওয়ায় ৪৫ শতক জায়গায় তিনি ভুট্টা চাষ করেছেন। বোরো ধান চাষে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হওয়ায় ফলে উৎপাদন খরচই উঠে না। কিন্তু ভুট্টার উৎপাদন খরচ যেমন কম দামও তেমন বেশি থাকে। এ জন্য তিনি গত কয়েক বছর ধরে ভুট্টা আবাদ করছেন। তিনি আরও বলেন, এই জমিতে যদি ধান চাষ করা হতো তাহলে ৭-৮ হাজার টাকার বেশী ধান পাওয়া যেতো না। স্থানীয় বাজারে প্রতিমণ শুকনো ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকায় । ভুট্টা আবাদে খরচ বাদে অন্তঃত ৮০ হাজার টাকা তার আয় হবে জানায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, টেকনাফ উপজেলায় সব ধরনের ফসল উৎপাদনে আমরা কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছি। যাতে করে কৃষকরা সহজভাবে কৃষি উপকরণ পেয়ে ফলন বৃদ্ধি করতে পারে। বিশেষ করে ভূট্টা চাষ করতে আগ্রহী কৃষকদের মাঝে উন্নত মানের ভূট্টার বিজ ও সার বিনামূল্যে দেওয়া হয়। বীজ, সার ও তেলের জন্য সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি। গত বছরের চেয়ে এবার লাভজনক ভুট্টা চাষাবাদ কিছুটা বেশি হয়েছে। আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
