রাউজানে তরমুজের ফলনে খুশি
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
কামরুল ইসলাম , রাউাজন (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ডুল্লাপাড়া বিলে এবার প্রায় ১০ হেক্টর (১২০ কানি) জমিতে তরমুজের বিশাল চাষ করে সাড়া ফলেছেন তরমুজ চাষি হাসান। দিগন্তজোড়া সবুজ মাঠ এখন বড় বড় তরমুজে ভরপুর। স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় বরগুনা থেকে আসা একদল উদ্যমী কৃষক এই তরমুজ চাষ করে এলাকায় রীতিমতো কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছেন। তবে মাঝে মধ্যে যেভাবে কাল বৈশাখীর ছোবল ও শীলা বৃষ্টির হচ্ছে রিতিমত সঙ্কায় আছেন তরমুছ চাষিরা। তরমুজ চাষি হাসান জানায়, নোয়াপাড়া ডুল্লাপাড়া বিলের প্রায় ১২০ কানি জমিতে প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ হাজার তরমুজের চারা রোপণ করা হয়। এতে খরচ হয় প্রায় ৫০ লাখ টাকা। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে সুদূর বরগুনা থেকে আসা অভিজ্ঞ কৃষকরা গত কয়েক মাস ধরে হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে এই ফসল ফলিয়েছেন। রাউজান উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর চাষিদের শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে আসছে। বর্তমানে ক্ষেত থেকে তরমুজ তোলার উৎসব শুরু হয়েছে। সংগৃহীত তরমুজগুলো ট্রাকে করে স্থানীয় বাজারসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাইকারি আড়তে পাঠানো হচ্ছে। আকার ও স্বাদে ভালো হওয়ায় বাজারে এই তরমুজের চাহিদাও বেশ ভালো। সরেজমিনে দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন জায়গা হতে মানুষ প্রতিদিন এই বিশাল তরমুজ বাগান দেখতে আসছেন। অনেকে বাগান থেকেই সরাসরি তরমুজ কিনে নিজেরা খাচ্ছেন এবং পরিবারের জন্য হাসিমুখে নিয়ে যাচ্ছেন। চাষিরা জানান, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন আশানুরূপ হয়েছে। যদি আগামী কয়েকদিন আবহাওয়া ঠিক থাকে এবং কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটে, তবে বিনিয়োগের টাকা তুলে বড় অঙ্কের মুনাফা করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন। তারা বলেন, ‘আমরা বরগুনা থেকে এসে এখানে জমি লিজ নিয়ে চাষ করেছি। কৃষি অফিসের সঠিক পরামর্শ পাওয়ায় গাছগুলো বেশ সতেজ ছিল। এখন বাজারদর ভালো পেলে আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে।’ তবে সংখার কথা সম্প্রতি কাল বৈশাখী মাঝে মধ্যে ছোবল আর শীলা বৃষ্টি হওয়া বহু তরমুজও নষ্ট হয়েছে তার পরও আশা বাকী সময়টুকু ঠিক থাকলে লাভের মুখ দেখতে পাব। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রাউজানে মোট ১৮ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু নোয়াপাড়া ডুল্লাপাড়া বিলেই চাষ হয়েছে ১০ হেক্টর। এছাড়া রাউজানে অন্যান্য অংশ, হিঙ্গলা, কেউটিয়া গ্রাম এবং রাউজান পৌরসভার পশ্চিম সুলতানপুর, ডাবুয়া, হলদিয়া, বাগোয়ান, কদলপুর এলাকায় তরমুজের চাষ হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুম কবির এই প্রতিবেদককে জানান রাউজানের মাটি ও জলবায়ু তরমুজ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। স্থানীয়দের পাশাপাশি বহিরাগত অভিজ্ঞ চাষিদের এই উদ্যোগ দেখে স্থানীয় বেকার যুবকরাও ভবিষ্যতে তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠবেন বলে তারা আশাবাদী। উল্লেখ এবার রাউজানে জেব্রা কিংস ৬ হেক্টর, গ্লোরি ৪ হেক্টর, রেড বোল ৪ হেক্টর, সেম্পিয়ান ২ হেক্টর, ব্ল্যাক ডায়মন্ড ২ হেক্টরসহ সর্বমোট ১৮ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের তরমুজ চাষ করা হয়।
