চট্টগ্রামে পর্যটন শিল্পে রাঙামাটির অবস্থান অনন্য

প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  রাঙামাটি প্রতিনিধি

চারিদিক পাহাড়বেষ্টিত স্বচ্ছ নীল জল। মধ্যে বয়ে চলছে অসংখ্য নৌকা। পাশেই নাম না জানা পাখিদের ওড়াউড়ি। কাপ্তাই হ্রদে এমনি প্রকৃতির এই সান্নিধ্য পেতে রাঙামাটিতে পর্যটকরা ছুটে আসেন। রাজবন বিহার-ঝুলন্ত সেতু কিংবা শুভলং পর্যন্ত নৌকা ভ্রমণ এর মধ্যেই বেশিরভাগ পর্যটক সময় কাটান। তবে কিছু পর্যটক পাড়ি জমান রাঙামাটির শহর থেকে আরও দূরে। তাদের গন্তব্য হয় হৃদে ডুবে থাকা ছোট ছোট পাহাড়-টিলায় গড়ে উঠা ইকো রিসোর্ট-কটেজ। ইট-পাথরের শহর ছেড়ে প্রকৃতির কোলে এখন সময় কাটানোর জন্য পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এসব রিসোর্ট-কটেজ। জানা যায়, ২০০২ সালে রাঙামাটি শহরের কাছেই কাপ্তাই হ্রদের বুকে ‘পেদা টিং টিং’ নামের একটি রেস্তোরাঁ চালু হয়।

২০০৫ সালে কাউন্দ্যামূখ এলাকায় ‘চাং পাং’ নামে আরেকটি রেস্টুরেন্ট চালু হয়। এরপর থেকে পর্যায়ক্রমে রেস্তোরাঁ-রিসোর্ট গড়ে উঠতে শুরু করে। গত ৫-৭ বছরের মধ্যে দ্বীপকেন্দ্রিক রিসোর্ট-রেস্তোরাঁ বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে ২৫ থেকে ৩০টির মতো রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। পর্যটকদের রিসোর্টগুলোতে রাখা হয়েছে নানা সুযোগ সুবিধা। দিনে হ্রদে সাঁতার কাটা কিংবা গাছের ছায়ায় বসে গান-আড্ডা। পাশাপাশি বেম্বো চিকেন, বাঁশকোড়ল, হ্রদের তরতাজা মাছ ভাজা, ভর্তাসহ নানা পদের পাহাড়ি খাবার তো রয়েছেই। বিকালে চাইলে বন্ধুরা মেতে উঠতে পারেন ফুটবল কিংবা ক্রিকেট খেলায়। দিনভর ঘোরাঘুরি পর হ্রদের বুকে জেগে থাকা দ্বীপে তাঁবু বা কটেজে রাত কাটানো পর্যটকদের কাছে বেশ রোমাঞ্চকর। প্রকৃতি সহায় হলে রাতে তারা ভরা আকাশের পানে হারিয়ে যেতে পারেন প্রিয়জনের সঙ্গে। লংগদুর একটি ইকো রিসোর্টে বেড়াতে আসা পর্যটক তাহমিদ ফয়সাল বলেন, রাঙামাটির শহর থেকে দূরে কাপ্তাই লেকের কোলে এ রিসোর্টগুলো বেড়াতে আসার জন্য আদর্শ জায়গা। প্রকৃতির মধ্যে কোলাহলমুক্ত পরিবেশ এক কথায় মনোমুগ্ধকর।

আরেক পর্যটক শাওন আজহার বলেন, বেড়াতে এসে খুবই ভালো লাগছে। চারিদিকে সবুজ সামনে লেকের স্বচ্ছ পানি। খাবারের বৈচিত্র?্য সঙ্গে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা-গান। এর চাইতে অবকাশ কাটাতে বেস্ট অপশন আর নেই। সরকারের উচিত এই ইকো পর্যটনকে আরও প্রমোট করা। লংগদুর কাপ্তাই ইকোভ্যালি রিসোর্টের প্রতিনিধি অর্ণব জানান, গত বছরের জুন মাস থেকে এ রিসোর্ট চালু করি। এখানে আপাতত ৫টা রুম ও তাঁবুতে ৪০-৫০ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। খাবার-থাকার জন্য প্যাকেজ আছে। আবার পর্যটকরা চাইলে খাবারের মেনুতে পরিবর্তনও আনা যাবে। আছে ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন খেলার ব্যবস্থা। লেকের পানিতে গোসল করতে লাইফ জ্যাকেটেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আছে চাইলে নৌকায় ভ্রমণও করা যাবে। আমাদের রির্সোট তৈরির সময় প্রকৃতির যেন কোনো ক্ষতি না হয় সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকৃতির কোনো ক্ষতি না করে কাপ্তাই হ্রদ কেন্দ্রিক পর্যটনে যদি সরকার আরও নজর দেয় তাহলে এই এ পর্যটন আরও বিকশিত হবে। জীবনযাত্রার উন্নয়ন হবে স্থানীয় মানুষের।