নানা সংকট চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে

প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  তামীম রহমান, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর স্বাস্থ্যসেবার আস্থার জায়গার মধ্যে অন্যতম। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের পাশাপাশি এ হাসপাতালটিও বহু মানুষকে স্বল্প খরচে সরকারি সেবা দিয়ে আসছে। এটির অবস্থান নগরের আন্দরকিল্লা এলাকার রংমহল পাহাড়ের ওপর। পুরনো ও জরাজীর্ণ ভবন, সংকীর্ণ জায়গা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা ও অরক্ষিত পরিবেশে এই হাসপাতালে ব্যাহত হচ্ছে সেবা। তিন বছর আগে ১০ তলা দুটি ভবন নির্মাণের প্রস্তাব এলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী না থাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের কারণে অনেক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হতে চায় না।

হাসপাতালটিতে চিকিৎসকের ৪২টি পদসহ উপজেলা, ওএসডি ও প্রেষণের মোট ৮১টি পদ আছে। এরমধ্যে চিকিৎসকের পদ খালি নেই। অন্যদিকে নার্সদের ১৫৫টি পদের মধ্যে ১৪৫ জন কর্মরত আছেন। করোনাকালে আইসিইউ বেড চালু করার জন্য সার্জারি ও অর্থোপেডিক বিভাগের শয্যা ৫০টি থেকে কমিয়ে ১৮টি করা হয়।

গড়ে প্রতিদিন হাসপাতালের অন্তর্বিভাগে ১৭১ জন, বহির্বিভাগে ১ হাজার ২০০ এবং জরুরি বিভাগে ১৪০ থেকে ১৫০ জন রোগী আসেন চিকিৎসাসেবা নিতে। হাসপাতাল ভবনটি পুরনো হওয়ায় জরুরি বিভাগের সামনে রোগী দাঁড়ানোর মতো জায়গা নেই। অন্যদিকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সংকটের কারণে রোগীদের এক ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে হস্তান্তরে সমস্যা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, অন্তর্বিভাগে এখন যে পরিমাণ রোগীর চাপ তাতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন মেডিক্যাল অফিসার থাকার কথা থাকলেও এখন সেখানে মোট সাতজন কাজ করছেন।

এর মধ্যে মেডিসিনে দুজন, গাইনিতে দুজন, সার্জারিতে দুজন ও ইএনটিতে (নাক, কান, গলা) একজন। অন্যদিকে চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগে রোগীদের চাপ সবচেয়ে বেশি হলেও মাত্র ছয়জন চিকিৎসক দিয়ে বিভাগটি চালাতে হচ্ছে। বহির্বিভাগে চিকিৎসক সংকটের কারণে বিকালের পর শিশু ও অন্যান্য বিভাগে রোগী এলে চমেক হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মোহাম্মদ একরাম হোসেন বলেন, ‘এই হাসপাতালের ভবন ও নকশা শত বছরের পুরনো হওয়ায় এটি এখন আর রোগীবান্ধব নয়। বিশেষ করে জরুরি বিভাগ খুব ছোট। এটি সম্প্রসারণের সুযোগও নেই। বক্ষব্যাধি বিভাগের পাশে অব্যবহৃত এলাকায় একসময় দুটি নতুন ভবন তোলার প্রস্তাব উঠেছিল। কিন্তু তা আর অগ্রসর হয়নি। শিশু ওয়ার্ডে রোগী পরিবহনের কোনো র‌্যাম্প নেই।