খাগড়াছড়িতে আলোচনায় এক টন ওজনের সম্রাট
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নুরুচ্ছাফা মানিক, খাগড়াছড়ি

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে জমে উঠতে শুরু করেছে খাগড়াছড়ির কোরবানির পশুর হাট। আর সেই হাটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণে পরিণত হয়েছে বিশাল আকৃতির এক ষাঁড় ‘সম্রাট’। কুচকুচে কালো রঙ, মাথা ও শরীরের নিচে সাদা ছাপ, সুঠাম গঠন আর দানবীয় আকৃতির কারণে এরইমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে গরুটি। খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলা’র শেঠ এগ্রো ফার্মস লিমিটেড এ বিশেষ যত্নে লালন পালন করা হয়েছে ফ্রিজিয়ান জাতের এই বিশাল ষাঁড়কে। খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘সম্রাট’ এর বর্তমান ওজন প্রায় ১ হাজার ১০০ কেজি অর্থাৎ এক টনেরও বেশি! আর তাই এবারের কোরবানির বাজারে গরুটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ লাখ টাকা। খামারের কর্মচারী ওয়ালি উল্লাহ বাবু জানান, জন্মের পর থেকেই ‘সম্রাট’কে আলাদা পরিচর্যায় বড় করা হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা রাসায়নিক ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্যে গরুটিকে লালন করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন শুধু খাবার ও পরিচর্যাতেই খরচ হচ্ছে হাজার টাকার বেশি।
‘সম্রাট’ এর খাবারের তালিকাও বেশ রাজকীয়। প্রতিদিন তাকে খাওয়ানো হয় কাঁচা ঘাস, খড়-ভুষি, ভুট্টা, বাঁধাকপি, মিষ্টি কুমড়া, ধানের কুঁড়া এবং চালের ভাত। পাশাপাশি সকাল বিকাল গোসল, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়। খামারের আরেক কর্মচারি জুলহাস মিয়া বলেন, গরুটিকে পরিবারের সদস্যের মতো করেই বড় করা হয়েছে। তাই এখন ‘সম্রাট’ শুধু একটি গরু নয়, খামারের মূল কেন্দ্রবিন্দু। শুধু ‘সম্রাট’ নয়, খামারটিতে এবছর কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে আরও ১৭টি ষাঁড়, ৩টি মহিষ, ৩টি পাহাড়ি গয়াল এবং কয়েকটি গাড়ল। খামারে বর্তমানে সাতজন কর্মচারী দিন রাত পশুগুলোর দেখভাল করছেন। খামারের জিএম জানান, এখানে ফ্রিজিয়ান, শাহীওয়াল, ব্রাহামা-শাহীওয়াল ক্রসসহ বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে। বেশ কয়েকটি গরুর ওজন ৮০০ থেকে ৯০০ কেজির মধ্যে। তবে সবার নজর কেড়েছে ‘সম্রাট’। আমরা খামার থেকে গরু বিক্রি করি। তবে আমাদের মূল সেলস সেন্টার চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ী। এদিকে খাগড়াছড়ি প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণ করে আরও ৫ হাজারের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের মতে, পাহাড়ি অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে লালন-পালন হওয়ায় এখানকার গরুর মাংসের মান অনেক ভালো, তাই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা আগেভাগেই গরু কিনতে ছুটে আসছেন। মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সোমেন চাকমা জানান, পাহাড়ের গরুর একটি আলাদা বৈশিষ্ট্য হলো দেখতে রুষ্ট পুষ্ট হলেও এদের মাংসে চর্বি কম। কাঁচা ঘাস এবং শুকনো খড় এখানকার গরুর প্রধান খাবার। এ অঞ্চলের গরুতে রাসায়নিক কোনো কিছু ব্যবহার করা হয়না। তাই এখানকার গরুর মাংস শতভাগ নিরাপদ। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ‘সম্রাট’-কে এক নজর দেখতে ভিড় বাড়ছে খামারে। এখন দেখার বিষয় শেষ পর্যন্ত কে হচ্ছেন এই ‘রাজকীয়’ ষাঁড়ের মালিক!
