রাঙামাটিতে ৩৭২.৬১ একর বনভূমি উদ্ধার

প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  চৌধুরী হারুনুর রশীদ, রাঙামাটি

পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ ও ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের আওতাধীন রাঙামাটির বেতবুনিয়া এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমি বেদখল এবং অবৈধভাবে বসতি স্তাপনের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।

২০২৬ সালে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও, উদ্ধার হওয়া ভূমির পরিমাণ খুবই সামান্য। স্থনীয় সচেতন মহল দ্রুত ও কঠোর উচ্ছে অভিযানের দাবি জানিয়ে আসছে যাতে সরকারি সম্পদ রক্ষা করা যায়। জেলা পরিষদ ও প্রশাসন- পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নীতি অনুযায়ী অবৈধভাবে বন্দোবস্ত দেওয়া ভূমি ও পাহাড়ের মালিকানা স্বত্ব বাতিল করার কথা থাকলেও, অনেক ক্ষেত্রে জেলা পরিষদ ও ভূমি প্রশাসন অবৈধ দখলকারীদের উচ্ছেদ করতে কার্যকর ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হয়। বিশেষ করে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও রির্জাভ ফরেষ্ট বেতবুনিয়া খাসখালী অধিকাংশ ভুমি বেদখলে করেছে অভিযোগ বনবিভাগের। কাশখালী-বেতবুনিয়া-কলমপতি-তিকোনিয়াসহ কাউখালীর প্রায় ১৮০৭ একর অধিক বেদখল রয়েছে বলে বনবিভাগ সুত্রে জানাগেছে। ফ্যাসিস্ট সরকারে আমলে সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংশু প্রু চৌধুরী কৌশলে ডি-রির্জাভ প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন বনবিভাগের কিছু জায়গা দখলমুক্ত করে চারা রোপণ করেছেন। কলমপতি রাজামিঞা গং ৩৭.৭৫ একর জবর দখল করে একটি বিদ্যালয়ের কাছে দানপত্র মূলে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ঝুম নিয়ন্ত্রণ বনবিভাগের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) তরিকুল রহমান বলেন, ১৯৬১ সালে গেজেট সৃষ্টির রাঙামাটি খাগড়াছড়ি ৫৬ হাজার একর ৪ ও ৬ ধারা রির্জাভ ঘোষণা করা হয়। রাঙামাটিতে ২৫ হাজার রির্জাভ ফরেষ্ট ২০ ধারায় রের্কডভুক্ত ৬২৯ একর । প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি ইশতেহারমতে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে কাউখালীতে। এরইমধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ করেছি । সারাদেশে সামাজিক বনায়ন করতে পারলেও পাহাড়ে কোনো ধরনের সামাজিক বনায়ন করতে পারেনি।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলাগুলোতে সংরক্ষিত বনভূমি অবৈধভাবে কেটে বসতভিটা ও বাগান তৈরি করার অভিযোগ রয়েছে। ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের বন বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাঙ্গামাটির ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগ এবং দক্ষিণ বন বিভাগ এই এলাকায় নিয়মিত টহল ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা ও নোটিশ প্রদান করে আসছে।

বনবিভাগের দাবী বর্তমানে (২০২৪-২০২৬) পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ, রাঙামাটির আওতাধীন কাপ্তাই ও কর্ণফুলী রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং বিভিন্ন প্রকল্পের বাগান রক্ষায় বন বিভাগ নিয়মিত তদারকি করে আসছে বলে জানা গেছে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রচেষ্টা চলমান। তবে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের কারণে তা পুরোপুরি রোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের প্রায় ৬,৩০৪ একর অধিক সংরক্ষিত বনভূমি অবৈধভাবে বেদখল বৃদ্ধি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বনবিভাগ সূত্র জানায়- পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। হেডম্যান-কার্বারী বা জেলা পরিষদ কর্তৃক কোনো জমি হস্তান্তর বা বন্দোবস্তের ক্ষেত্রে অবশ্যই যথাযথ আইনি নথিপত্র এবং বন বিভাগের ছাড়পত্র যাচাই করা প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে বনবিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বনবিভাগে সুত্রে জানাগেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের ১৯টি রেঞ্জের ৩৫টি বিটের কর্মকর্তাদের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৩ হাজার একর বনভূমি দখলে রেখেছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা।