বোয়ালখালীতে কচুর লতির বাম্পার ফলন

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  বিকাশ নাথ, বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় কচুর লতির চাহিদা বেশি থাকায় কম খরচে ও অল্প পরিশ্রমে অধিক লাভ হওয়ায় কচু ও কচুর লতির চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবছর বোয়ালখালী উপজেলার সব ইউনিয়নে বানিজ্যিক ভিক্তিতে কচুর চাষ হয়েছে। কৃষকরা মৌসূমের প্রথম দিকে কচু বিক্রি করেছেন। এখন অনেক কৃষক কচুর লতি বিক্রি করে লাভবান হয়েছে। সমগ্র উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে কচুর লতির বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি থাকলেও খুচরা বাজারে দাম সাধারণ ক্রেতাদের হাতের নাগালের বাইরে। বর্তমানে প্রতি আটি ৮০ টাকা আবার কোথাও ৬০/৭০ টাকা দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে। কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কচুর কয়েকটি জাত রয়েছে যেমন- পানি কচু, গুরা কচু, মান কচু ও বাংলা কচু উল্লেখযোগ্য। উৎপাদিত কচুর মধ্যে পানি কচুর চাহিদা বেশি।

পানিতে উৎপাদিত হয় বলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে এ কচু পাইন্ন্যা কচু নামেই জনপ্রিয়। কচু চাষে খরচ কম কিন্ত লাভ বহুমুখী। উৎপাদিত কচুর লতি থেকে লতি, কচুর ফুল ( পোপা), কচু শাক, কচুর কাণ্ড (ঢাল) ও কচুর মূল সবই সবজি হিসাবে বেশ চাহিদাও রয়েছে এখানকার সব পরিবারে। তাছাড়াও পুষ্টিমানের দিক দিয়েও সব কচুর গুনাগুন অনেক বেশি। বিশেষ করে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগিদের জন্য একটি উৎকৃষ্ট সবজি। বোয়ালখালী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, পোপাদিয়া, আমুচিয়া, আহলা কড়লডেঙ্গা, শ্রীপুর - খরণদ্বীপ, পশ্চিম গোমদন্ডী, শাকপুরা, সারোয়াতলী, পূর্ব গোমদন্ডী ও চরণদ্বীপ সহ সর্বএ প্রত্যন্ত এলাকায় ব্যাপক ভিক্তিতে এসব কচুর চাষ হয়েছে। তাছাড়াও এ কচু এখানকার চাহিদা মিটিয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা, ফেনি, কুমিল্লা, সিলেট ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় বড় বাজার গুলোতে পাওয়া যাচ্ছে। আমুচিয়া ইউনিয়নেন কচু চাষি মো. আবু জাফর, আলী আকবর, হাফিজুর রহমান ও মো. কবির জানান, পতিত জমিতে গত কয়েক বছর ধরে কচুর চাষ করে লাভবান হয়েছেন তারা।

কচুর চাষ এবং উৎপাদন পদ্ধতি সহজ হওয়ায় পানি কচু চাষে আগ্রহী হন তাদের মত আরো অনেকেই।তাছাড়া কচু চাষে তেমন পুজির প্রয়োজন হয় না। অল্প পুজিতে অধিক লাভবান হওয়ায় ধানচাষ ছেড়ে অনেকেই কচু চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। আগে এ উপজেলায় পারিবারিক পর্যায়ে সীমিত আকারে কচুর চাষ হতো। কিন্ত এখন কচু চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এ নিয়ে আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন বাণিজ্যিকভাবে কচু চাষ করা হচ্ছে। কৃষকরা জানিয়েছেন এক কানি (৪০ শতক) জমিতে প্রায় ৬৭ হাজার কচু রোপণ করা যায়। এ জন্য খরচ পড়ে আনুমানিক ৮/ ১০ হাজার টাকা। মাএ ৩৪ মাসের মধ্যে কচুর ফরন পাওয়া যায়। কচুর লতি, ফুল (পোপা), কচুর লতি ও কচু বিক্রি করে কানি প্রতি আয় হয় প্রায় ৮০ হাজার বা ১ লাখ টাকা আয় করা যায়। এ প্রসঙ্গে বোয়ালখালী উপজেলার কৃষি অফিসার মো. শাহানুর ইসলাম বলেন, পানি কচু চারা রোপণ করার ৪০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে কচুর লতি বের হয়। কচুর ফুল ও লতি বিক্রি করেই চাষের প্রাথমিক খরচ উঠে আসে। এছাড়াও কচুর চারা রোপণ করার ১৪০ থেকে ১৭০ দিনের মধ্যে পুনাঙ্গ কচুর ফলন পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, এ বছর রবি মৌসুমে ৩৫ হেক্টর জমিতে পানি কচুর আবাদ করা হয়েছে। খরিপ-২ মৌসুমে বেশি পরিমান পানি কচু অথাৎ ৭০-৮০ হেক্টর জমিতে পানি কচু আবাদ হয়।