হাটহাজারীতে স্থায়ী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নেই
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
সুমন পল্লব, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ ও শিক্ষাবান্ধব উপজেলা দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (একাডেমিক সুপারভিশন) ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। ফলে উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। শিক্ষক নিয়োগ, এমপিও সংক্রান্ত কাজ, একাডেমিক তদারকি, শিক্ষার মান উন্নয়ন, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নসহ গুরুত্বপূর্ণ নানা কার্যক্রমে তৈরি হয়েছে জটিলতা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে হাটহাজারীতে স্থায়ী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পদটি শূন্য রয়েছে। বর্তমানে পাশের একটি উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে হাটহাজারীর কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। কিন্তু অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় তিনি নিয়মিত অফিস করতে পারছেন না। সপ্তাহে এক বা দুইদিন অফিসে এলেও অধিকাংশ সময় শিক্ষক ও সেবাপ্রার্থীদের অপেক্ষা করেই ফিরে যেতে হচ্ছে। হাটহাজারীর একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নানা প্রশাসনিক কাজে প্রায়ই উপজেলা শিক্ষা অফিসে যেতে হয়। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়মিত না থাকায় ফাইল জমে থাকে। অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রে স্বাক্ষর পেতে সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এক শিক্ষক বলেন, এমপিও সংক্রান্ত কাজ, শিক্ষকদের বদলি, টাইম স্কেল, অবসরজনিত কাগজপত্রসহ অনেক জরুরি কাজ আটকে আছে। শিক্ষা অফিসে গেলে বলা হয় কর্মকর্তা নেই অথবা পরে আসতে হবে। এতে আমাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, তদারকির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে। কিছু বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস না হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষের সমস্যা ও শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে প্রয়োজনীয় নজরদারিও কমে গেছে।স্থানীয় শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, প্রশাসনিক দুর্বলতার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপর। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, কোচিং নির্ভরতা, পাঠ্যসূচি সম্পন্ন করা এবং বিদ্যালয়ে নিয়মিত একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এদিকে শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও বাড়তি চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। একজন কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে। এতে জনসেবার মান কমে গেছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, হাটহাজারী শুধু জনসংখ্যার দিক থেকেই বড় নয়, এটি চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা অঞ্চল হিসেবেও পরিচিত। এখানে বহু ঐতিহ্যবাহী স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা রয়েছে। অথচ এমন একটি উপজেলায় দীর্ঘদিন স্থায়ী শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকা শিক্ষা প্রশাসনের দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। তারা আরও বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার মান উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। স্মার্ট শিক্ষা ব্যবস্থা, ডিজিটাল ক্লাসরুম, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক শূন্যতা থাকলে এসব উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না। উপজেলার বিভিন্ন মহল দ্রুত একজন স্থায়ী ও যোগ্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
