চট্টগ্রামে নাগরিকসেবা অ্যাপ উদ্বোধন

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম শহরের নাগরিক জীবনকে আরও সহজ, গতিশীল এবং স্বচ্ছ করতে নতুন যুগে পদার্পণ করল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। প্রযুক্তির সহায়তায় নাগরিকদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল ওয়ান স্টপ সিটিজেন সার্ভিস অ্যাপ্লিকেশন ও ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপ।

গতকাল শনিবার এর উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। নগরের শহীদ সাইফুদ্দিন খালেদ সড়কে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম কেন্দ্রের মিলনায়তনে এ উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সড়ক কর্তনের অনুমোদনসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা একসঙ্গে পাওয়া যাবে এই অ্যাপে। সড়ক, মশা, আবর্জনা, সড়কবাতি, জলাবদ্ধতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নর্দমা, গণশৌচাগার এবং অবৈধ স্থাপনার বিষয়ে অ্যাপের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করতে পারবেন। যেকোনো সময় যেকোনো স্থান থেকে এসব বিষয়ে অভিযোগ কিংবা মতামত জানাতে পারবেন। এসব সমস্যা সমাধানে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা থাকবেন। এছাড়া গৃহকর, ট্রেড লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধন ইত্যাদি সেবা পাওয়া যাবে এই অ্যাপটি ব্যবহার করে। প্রায় ৮০ লাখ মানুষের দোরগোড়ায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ নামক ওয়ান-স্টপ সিটিজেন সার্ভিস অ্যাপ্লিকেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে।

এই সার্ভিসটি চালু করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের একটা টাকাও খরচ করতে হয় নি জানিয়ে সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, এই অ্যাপের মাধ্যমে নগরবাসী খুব সহজে ঘরে বসেই নিজেদের এলাকার সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সমাধানের অগ্রগতিও জানতে পারবেন। তারা সিটি কর্পোরেশনের সেবার মান নিয়ে, কার্যক্রম নিয়ে নিজেদের মতামত দিতে পারবেন। ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের এই অ্যাপটি নির্মানে এগিয়ে এসেছেন। এতে তাদের ব্যয় হয়েছে তিন কোটি টাকা।

মেয়র পদে ২০২৯ সাল পর্যন্ত মেয়াদ রয়েছে জানিয়ে অনুষ্ঠানে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, তিনি জোর করে মেয়র পদে বসেননি। আদালতের আদেশে তিনি মেয়রের দায়িত্ব নিয়েছেন। আদালত তাকে পাঁচ বছরের জন্য, অর্থাৎ ২০২৯ সাল পর্যন্ত মেয়র হিসেবে বৈধতা দিয়েছেন। তাই আদালতের এ আদেশের বিরুদ্ধে কারও অভিযোগ বা আপত্তি থাকলে পুনরায় আদালতের কাছে যেতে পারেন। দেশে সবার আগে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অনুরোধ জানিয়েছেন বলে জানান মেয়র শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, একটি বৈধ ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় নির্বাচন চান তিনি। আর নির্বাচন হওয়া দরকার, যাতে সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে যেন সবাই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন এবং জনগণ তাদের পছন্দমতো ভোট দিতে পারেন। এখন ওয়ার্ড কাউন্সিলর না থাকায় সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর থাকলে এখন যে সেবা দেওয়া হচ্ছে, তার চেয়ে আরও বেশি সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি। ওই নির্বাচনে মেয়র পদে জয়ী হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত হোসেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামসহ ১২টি সিটি কর্পোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করে অন্তবর্তিকালীন সরকার। ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের রায়ে মো. রেজাউল করিম চৌধুরীকে নির্বাচিত ঘোষণা বাতিল এবং মামলার বাদী শাহাদাত হোসেনকে নির্বাচিত মেয়র ঘোষণা করা হয়। ওই বছরের ৩ নভেম্বর মেয়র হিসেবে শপথ নেন শাহাদাত হোসেন। সিটি কর্পোরেশনের এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে থাকার কথা চট্টগ্রাম নগরের তিন সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান ও সাঈদ আল নোমান এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সন্তান ইসরাফিল খসরুর।

তবে তাদের চারজনের কেউ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, সিডিএ চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন অনুষ্ঠানে ছিলেন।

সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, সংসদ সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তারা অনুষ্ঠানে আসার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু কক্সবাজারের চকরিয়ায় একটি অনুষ্ঠান থাকায় আসতে পারেননি।