পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ছে আলীকদমের ‘পালং খিয়ং’ ঝর্ণা

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি

প্রকৃতি যেন তার রূপের ডালি সাজিয়ে বসেছে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায়। এখান কার গহিন অরণ্যে লুকিয়ে থাকা অসংখ্য ঝর্ণার মধ্যে অন্যতম মোহনীয় নাম ‘পালং খিয়ং’। মেঘ ছুঁয়ে আসা পাহাড় আর পাথুরে ঝিরিপথের শেষে এই ঝর্ণার দেখা মেলা যেন এক স্বর্গীয় অনুভূতি।

পালং খিয়ং ঝর্ণার বিশেষত্ব হলো এর শান্ত ও নির্জন পরিবেশ। পাহাড়ের বিশাল উচ্চতা থেকে স্বচ্ছ পানির ধারা যখন নিচের পাথুরে কুণ্ডে আছড়ে পড়ে, তখন তৈরি হয় এক অপূর্ব জলতরঙ্গ। ঝর্ণার চারপাশের ঘন সবুজ বনানী এবং বুনো ফুলের গন্ধ পর্যটকদের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। ঝর্ণার পাদদেশে জমা হওয়া স্বচ্ছ নীল জলে অবগাহন করার অভিজ্ঞতা পাহাড়প্রেমীদের কাছে এক অমূল্য স্মৃতি।

পালং খিয়ংয়ে যাওয়ার পথটি বেশ রোমাঞ্চকর এবং কিছুটা চ্যালেঞ্জিং।

ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে বাসে করে আলীকদম বাস স্টেশনে নামার পর আপনার যাত্রা শুরু হবে। স্টেশন থেকে প্রথমে মোটরসাইকেল অথবা টমটম রিজার্ভ করে আপনাকে যেতে হবে লং ঘাট (আমতুলী নদীর ঘাট)।

লং ঘাট থেকে আপনাকে ট্রলার বা নৌকা ভাড়া করতে হবে। এই যাত্রায় আপনি ‘তঞ্চঙ্গ্যা’ ভাষায় পরিচিত ‘তৈইন গাং’ (তৈইন খাল) দিয়ে উজান পানে এগিয়ে চলবেন। দুই পাশের সুউচ্চ পাহাড় আর খালের স্বচ্ছ জল আপনাকে মুগ্ধ করবে। ট্রলার থেকে নামতে হবে দৈসুরী বাজারে। এখান থেকেই শুরু হয় আসল রোমাঞ্চ। দৈসুরী বাজার থেকে শুরু হবে পাহাড়ি ঝিরি পথে হাঁটা। পাহাড়ের বাঁক আর পাথুরে পিচ্ছিল ঝিরিপথ পাড়ি দিতে দিতেই কানে আসবে ঝর্ণার গর্জন। ঘন অরণ্য আর পাখির ডাক আপনার ট্রেকিংয়ের কষ্ট ভুলিয়ে দেবে। পাহাড়ের বাঁক আর পাথুরে পিচ্ছিল পথ পাড়ি দিতে দিতেই কানে আসবে ঝর্ণার গর্জন। ট্রেকিং প্রিয় পর্যটকদের জন্য এই পথটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে আলীকদম জোন বা স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি সংগ্রহ করতে হয়।

বর্ষাকালে ঝিরিপথ ও পাহাড় পিচ্ছিল থাকে, তাই ভালো গ্রিপের জুতা ব্যবহার করা জরুরি। এছাড়া ঝর্ণা এলাকায় নেটওয়ার্ক না থাকায় দলবদ্ধভাবে ভ্রমণ করা শ্রেয়।

আলীকদমের এই পালং খিয়ং ঝর্ণা হতে পারে আপনার আগামী ভ্রমণের সেরা গন্তব্য। পাহাড়ের বিশালতা আর ঝর্ণার শীতল ছোঁয়ায় সতেজ হয়ে উঠতে ঘুরে আসতে পারেন এই অপার্থিব সুন্দর থেকে।

পালং খিয়ং ঝর্ণার যাতায়াত এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় অভিজ্ঞ টুরিস্ট গাইড সঞ্জয় তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, আলীকদমে এখন অনেক ঝর্ণা পর্যটকদের নজরে আসছে, তবে পালং খিয়ংয়ের সৌন্দর্য একদমই আলাদা। এই ঝর্ণায় পৌঁছাতে হলে অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় হতে হয়। পাহাড়ের চড়াই-উতরাই আর ঝিরিপথ পাড়ি দেওয়ার সময় পর্যটকরা যখন হঠাৎ ঝর্ণার বিশাল রূপটি দেখে, তখন তাদের সব ক্লান্তি মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায়।

সঞ্জয় তঞ্চঙ্গ্যা পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক করে আরও বলেন : পালং খিয়ং বেশ দুর্গম এলাকায়। তাই এখানে আসার আগে অবশ্যই অভিজ্ঞ গাইড সঙ্গে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে বর্ষার সময় ঝিরিপথে হড়পা বান (হঠাৎ ঢল) আসার ঝুঁকি থাকে, তাই আমরা পর্যটকদের আবহাওয়া দেখে সাবধানে পথ চলার পরামর্শ দিই। এছাড়া আমরা সবসময় চেষ্টা করি পর্যটকরা যাতে ঝর্ণা এলাকায় কোনো প্লাস্টিক বা ময়লা ফেলে পরিবেশ নষ্ট না করেন। তিনি আরও জানান, বর্তমানে পালং খিয়ং ভ্রমণে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর দেওয়া নিয়মকানুন মেনে চলা এবং দিনের আলো থাকতে থাকতেই লোকালয়ে ফিরে আসা পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ।