সিন্ডিকেটের কবলে হাটহাজারীর বাজার

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সুমন পল্লব, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। মাছ, মুরগি, ডিম ও কাঁচা সবজিসহ প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে একের পর এক দামের চাপ তৈরি হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, বাজারের সরবরাহ, পাইকারি ক্রয়-বিক্রয় এবং খুচরা পর্যায়ের বেচাকেনায় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ থাকায় প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অভিযোগের তীর উপজেলার ইছাপুর, পৌরসদর বড় বাজার, সরকারহাট, চৌধুরী হাট, লালিয়ারহাট, বৌ বাজার, আমান বাজার, মদুনাঘাট বাজার ও মদনহাটসহ বিভিন্ন বাজারের দিকে। স্থানীয়দের দাবি, এসব বাজারে পণ্য সরবরাহ ও মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রভাবশালী কিছু ব্যবসায়ী বা চক্রের আধিপত্য রয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বাজারে পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শনের নিয়ম থাকলেও বাস্তবে তা কতটা কার্যকর এ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অনেক ক্রেতার অভিযোগ, দোকানে মূল্যতালিকা থাকলেও বাস্তব বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে তার মিল পাওয়া যায় না। বাজারে গিয়ে ক্রেতাদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ- পণ্যের দাম কেন এত দ্রুত বাড়ছে, তার স্পষ্ট উত্তর নেই। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, লইট্টা মাছ, রুই মাছ, চিংড়ি, রূপচাঁদা, মুরগি, ডিম এবং বিভিন্ন ধরনের কাঁচা সবজির দামে অস্বাভাবিক ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, কোনো কোনো পণ্য এক বাজারে যে দামে বিক্রি হচ্ছে, অন্য বাজারে সেটির দাম আরও বেশি। আবার একই বাজারেও দোকানভেদে দামের পার্থক্য দেখা যায়। এতে সাধারণ ক্রেতারা যেমন বিভ্রান্ত হচ্ছেন, তেমনি প্রকৃত বাজারদর সম্পর্কে ধারণা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে। একজন ক্রেতার ভাষায়, বাজারে ঢোকার আগে যে টাকা নিয়ে আসি, বের হওয়ার সময় দেখি প্রায় সব শেষ। কোন পণ্যের দাম কেন বাড়ল, তার হিসাব কেউ দিতে পারে না। আরেক ক্রেতা বলেন, মাছ-মাংসের পাশাপাশি এখন ডিম ও সবজির মতো সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের খাবারের উপকরণও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

ফলে অনেক পরিবারকে প্রয়োজনের তুলনায় কম পণ্য কিনে সংসার চালাতে হচ্ছে। এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং এ রাখছি।