আট বছরেও চালু হয়নি জয়িতা ভবন

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  বাবুল খাঁন, বান্দরবান

সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণের আট বছর পরও চালু হয়নি বান্দরবানের জয়িতা ভবন। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত পড়ে থাকা ভবনটি সংস্কার করে চালুর জন্য এবার আবারও দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড (সিএইচটিডিবি) ।

তবে নতুন বরাদ্দের আওতায় এখনও কোনো কাজ শুরু হয়নি। বান্দরবান জেলা সদর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে ভাণ্ডারীপাড়ায় বান্দরবান-কেরানীরহাট সংযোগ সড়কের পাশে ২০ শতক জমির ওপর নির্মাণ করা হয় পাঁচতলা জয়িতা ভবন। ২০১৮ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ভবনটি নির্মাণ করে। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যতিক্রমী বিপণিকেন্দ্র হিসেবে ভবনটি নির্মাণ করা হলেও গত আট বছরেও তা চালু করা সম্ভব হয়নি। ভবনটিতে রয়েছে ৪৫টি দোকান কক্ষ, দুটি ভিআইপি কক্ষ, ফুড কোর্ট ও কিডস কর্নার। বান্দরবান সদর উপজেলায় নিবন্ধিত নারী সমিতির সংখ্যা ৬৪টি।

এসব সমিতিতে প্রায় দুই হাজার নারী উদ্যোক্তা থাকলেও জয়িতা ভবনে দোকান নিয়ে ব্যবসা করার ব্যাপারে তাদের আগ্রহ নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের বান্দরবানের উপ-পরিচালক সুপন চাকমা জানান, ভবনটি নির্মাণের পর তৎকালীন উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরীর উদ্যোগে মাত্র আটজন নারী উদ্যোক্তাকে দোকান নিতে রাজি করানো হয়েছিল। তারা দোকান নেওয়ার জন্য ব্যাংকে ২০ হাজার টাকা করে জমাও দিয়েছিলেন। কিন্তু আট বছরেও তাদের কেউ দোকানের পজিশন বুঝে নিতে আসেননি। দীর্ঘদিন ব্যবহার ও তদারকিবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় বর্তমানে ভবনটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দরজা-জানালার কাচ ভেঙে ফেলা হয়েছে। চুরি হয়ে গেছে ভিআইপি কক্ষের এয়ার কন্ডিশনার, আসবাব ও বিভিন্ন মূল্যবান ফিটিংস। ফুড কোর্ট ও কিডস কর্নারের সরঞ্জামও নেই। এমনকি ভবনের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রিল ও রেলিং খুলে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল হক বলেন, এ জয়িতা ভবনে নারীরা কোনো দোকান খুলেননি। ফলে ভবনটি বছরের পর বছর কুকুর-বিড়ালের আস্তানা হয়ে আছে। শুনেছি এটি চালু করতে আবার দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মরা লাউগাছে পানি ঢাললে সেটা কি আর কদু ফলাতে পারবে? এদিকে দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকা ভবনটি সংস্কার করে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। বোর্ডের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমার নির্দেশনায় জয়িতা ভবন সংস্কারে দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ অর্থ ব্যয়ের জন্য ‘বান্দরবান সদর উপজেলায় নিবন্ধন করা নারী সমিতিভিত্তিক ব্যতিক্রমী ব্যবসায়ী উদ্যোগ বান্দরবানের পাঁচতলার নারী বিপণিকেন্দ্রের সংস্কার প্রকল্প’ নামে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী সোমনাথ চৌধুরী জানান, প্রকল্পের জন্য টেন্ডার আহ্বান এবং ঠিকাদারের অনুকূলে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি।

অন্যদিকে, ভবনটি সংস্কারের পর আদৌ চালু করা সম্ভব হবে কি না এ নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভবনটির অবস্থান, নিরাপত্তা ও নারী উদ্যোক্তাদের অনাগ্রহের বিষয়টি আগে সমাধান করা জরুরি। মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুপন চাকমা বলেন, দুই বছর বান্দরবানে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থেকে তার মনে হয়েছে, ভবনটির অবস্থান ও নিরাপত্তাজনিত কারণে সেখানে নারী উদ্যোক্তাদের বিপণিবিতান পরিচালনা করা কঠিন হতে পারে।