চন্দনাইশে সড়ক প্রশস্তকরণে ৩৩৬ কোটি টাকার প্রকল্প

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  এস.এম.জাকির, চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের সঙ্গে কক্সবাজারের সরাসরি সড়ক নেটওয়ার্ক তৈরি করতে আনোয়ারা-চন্দনাইশ হয়ে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার যোগাযোগ সহজতর করতে বিকল্প সড়ক হিসেবে শহীদ মুরিদুল আলম সড়কের ১৭ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সড়কটি প্রশস্তকরণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩৬ কোটি টাকা। চন্দনাইশের বরকল ব্রিজ থেকে পুরাতন কলেজ গেইট তথা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে সংযুক্ত অংশে ১৪৪ কোটি টাকা, আনোয়ারা কালাবিবি দিঘী থেকে বরকল ব্রিজ পর্যন্ত ১৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা। দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চন্দনাইশ গাছবাড়িয়া কলেজ গেইট থেকে আনোয়ারা কালাবিবির দীঘির মোড় পর্যন্ত ১৭ কি.মি. সড়কটির নামকরণ করা হয়েছে শহীদ মুরিদুল আলম সড়ক। আনোয়ারা-কর্ণফুলী টানেল থেকে সহজ পথে কক্সবাজার যাওয়ার লক্ষ্যে শহীদ মুরিদুল আলম সড়কটিকে সংযোগ সড়ক হিসেবে সম্প্রসারণের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে একনেকের সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন হয়ে আনোয়ারা-কালাবিবির দিঘী থেকে বরকল ব্রিজ পর্যন্ত অংশে ১৮২ কোটি টাকা, বরকল ব্রিজ থেকে গাছবাড়িয়া কলেজ গেইট পর্যন্ত অংশে ১০.২'শ কি.মি. দৈর্ঘ্য, ১০.৩ মি. প্রস্থ সড়কের জন্য ১৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। আনোয়ারা অংশে বাইপাস সড়ক, পুরো সড়কে থাকা বাক সোজা করে সড়কটি সরলিকরণ করতে অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে জানা যায়। যেকোনো সময় সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এই সড়কটি ৩৪ ফুট প্রশস্ত করার পাশাপাশি চন্দনাইশ অংশে প্রতিটি বাজার এলাকায় আরসিসি রিজিট টেনেল, ড্রেনের ব্যবস্থা ও ৯টি ব্রিজ কালবার্ট নির্মাণ করা হবে। কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চট্টগ্রামের বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্নের আনোয়ারা-কর্ণফুলী টানেল। কক্সবাজারগামী যানবাহনগুলোকে ক্রসিং পটিয়া হয়ে কক্সবাজার যাওয়ার পাশাপাশি চন্দনাইশ কলেজ গেইট ও বাঁশখালী টইটং হয়ে কক্সবাজার পৌছানোর উপর গুরুত্ব দিয়ে এই সংযোগ সড়কটি ৪ লাইনে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এটি আনোয়ারা-কালাবিবির দীঘি থেকে শুরু হয়ে আনোয়ারা সদর, বরকল ব্রিজ, চন্দনাইশ সদর, গাছবাড়িয়া কলেজ গেইট এসে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে সংযুক্ত হয়। এতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের দূরত্ব ১৭ কিলোমিটার কমে যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কক্সবাজার পর্যন্ত ব্যবসা বাণিজ্য ও শিল্প সম্ভাবনা বেগবান এবং যানজট নিরসনের লক্ষ্যে সড়কটি বর্তমান ১৮ ফুট থেকে ৩৪ ফুট প্রশস্ত করা হচ্ছে। সড়কটি চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মাধ্যমে মাতারবাড়ি পাওয়ার প্লান্ট, মহেশখালী গভীর সমুদ্র বন্দর ও টেকনাফ স্থল বন্দরের সাথে যুক্ত হবে। ফলে কর্ণফুলী টানেল ও ৬ লেনের সংযোগ সড়কের সাথে কক্সবাজারের সরাসরি নেটওয়ার্ক তৈরি হবে। দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেছেন, সবকিছু হচ্ছে টানেল মেগা প্রকল্পের প্রয়োজনে ও বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে। প্রস্তাবিত সড়কটি বাস্তবায়নে কেবলমাত্র সরকারি জায়গার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। সড়কটির বাঁকা অংশে সরলিকরণের লক্ষ্যে নতুনভাবে কিছু অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বিকল্প এ সড়কটি বর্তমানে গাড়ির চাপের কথা বিবেচনায় নিয়ে ১৮ ফুট থেকে প্রশস্ততা বাড়িয়ে ৩৪ ফুট করা হচ্ছে। ঠিকাদার কাজ শুরু করলে ২ বছরের মধ্যে সড়ক প্রশস্থকরণের কাজ সম্পন্ন করবে। এই সড়কটির কাজ সম্পন্ন হলে কক্সবাজারের সাথে চট্টগ্রামের দুরত্ব কমবে ১৭ কি.মি.। তখন যানবাহনগুলো সময় ও ফুয়েল বাঁচাতে টানেলের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে চন্দনাইশ ও আনোয়ারা এলাকার মানুষ কর্মমূখী ও বাণিজ্যিকভাবে অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে উন্নয়ন ঘটবে এইসব এলাকার।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি মাহাবুব চৌধুরী বলেছেন, কর্ণফুলী টানেল হয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার বিকল্প সড়কটি ৪ লাইনে প্রশস্ত হওয়ার কারণে এই এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হবে। টানেলের মাধ্যমে দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য দ্রুত বিস্তৃতি লাভ করবে। কক্সবাজার পর্যন্ত বিকল্প সড়কটি বাস্তবায়িত হলে বিশাল শিল্প জোন তৈরি হবে আনোয়ার ও চন্দনাইশ উপজেলায়। একইসাথে অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটবে দক্ষিণ চট্টগ্রামে।