চন্দনাইশে আখ চাষিরা লাভবান
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
এস.এম.জাকির, চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম)

প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও চন্দনাইশের বিভিন্ন এলাকায় আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো দাম পেয়ে লাভবান হয়ে আখচাষিরা বেজায় খুশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, আখের রস মানবদেহের শরীরে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হিসেবে কাজ করে থাকে। তাছাড়া রক্তকণিকা স্বচ্ছ করে। তাই মানুষ আখের রস মিষ্টি পানীয় ও শরীরে উপকার হিসেবে পান করে থাকে।
চন্দনাইশে উৎপাদিত আখ চট্টগ্রামের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। উপজেলার শঙ্খ নদীর তীরবর্তী বৈলতলী, জাফরাবাদ, চাগাচর, সাতবাড়িয়া, হাছনদন্ডী, বরমা, চর বরমা, লালুটিয়া ও পাহাড়ি এলাকা ধোপাছড়ি, দোহাজারী, হাশিমপুর, কাঞ্চননগর বিভিন্ন এলাকায় আখের চাষ হয়ে থাকে। বিশেষ করে শঙ্খ নদীর পাড় ঘেঁষে বিশাল এলাকায় আখের চাষ ভালো হয়। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এসব এলাকায় প্রচুর আখের চাষ হলেও সম্প্রতি কালের বন্যায় আঁখ চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়। আখচাষি মোবারক জানালেন মাত্র ছয়মাস আগে এক কানি জমিতে ৫০ হাজার টাকা খরচে আখ চাষ করেছেন। বন্যার কারণে আঁখ চাষের কিছু ক্ষতি হয়েছে।
বন্যা পরবর্তী তিনি পুনরায় আঁখ চাষে পরিচর্যার মাধ্যমে আঁখ ভালো ফলন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান। হাছনদণ্ডীর কৃষক আবুল কালাম বলেছেন, ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে সে যে আখ চাষ করেছে, বন্যা পরবর্তী তা এখন ৯০ হাজার টাকায় কিনতে চাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। চর বরমা এলাকার জাফর ৮০ হাজার টাকা খরচ করে আখ চাষ করেছে, বন্যায় কিছুটা ক্ষতি হলেও এখন সে আঁখ চাষের মূল্য লক্ষাধিক টাকায় বিক্রি করা যাবে বলে জানান তিনি। তাদের মতে, আখ চাষে সময় খুব বেশি লাগে না। এছাড়া তেমন কোনো সারেরও প্রয়োজন হয় না। আগাছা পরিষ্কার করে বিভিন্ন প্রজাতির পোকা থেকে বাঁচিয়ে রাখতে হয় আখকে। রাতের বেলায় পাহারা বসাতে হয়। আখ চাষি জমির আহমদ জানালেন, চন্দনাইশের আখের চাহিদা সারা দেশে। কারণ, এ এলাকার মাটি আখচাষের জন্য খুবই উপযোগী। তাছাড়া এ এলাকার আখের রস খুবই সুস্বাদু। আখ থেকে গুড় তৈরি করা যায় বলে আখের চাহিদা রয়েছে প্রচুর। সাধারণ মানুষ জন্ডিস রোগের পথ্য হিসেবে আখের রস পান করে থাকে। তারা আরও বলেন, কোনরকম প্রশিক্ষণ ও সাহায্য-সহযোগিতা ছাড়াই তাদের পূর্ব পুরুষের ন্যায় আখচাষ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ ও কম সুদে ঋণ পেলে আখচাষে আরও এগিয়ে আসবে চাষিরা। এজন্য তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্য মতে, গত বছর উপজেলায় ১৮৫ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হলেও এ বছর চাষ হয়েছে প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে। চাষাবাদ গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। সরকার যদি সরাসরি আখচাষিদের নিকট থেকে আখ কেনার উদ্যোগ নিতেন তাহলে কৃষকেরা আখের সঠিক মূল্য পেত। চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আজাদ হোসেন বলেছেন, আখচাষে যে সময় লাগে, সে সময়ে কৃষকেরা অন্যান্য ফসল উৎপাদন করে আখের চেয়েও লাভবান হতে পারে। এছাড়াও সরকারিভাবে অন্যান্য ফসলের জন্য প্রণোদনা দেওয়া হলেও আখের জন্য দেয়া হয় না। মূলত এসব কারণেই উপজেলাতে আখ চাষ কমে যাচ্ছে।
