অবহেলিত জনপদের নাম 'ননাইয়ারমার ঘাট'

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  বিকাশ নাথ, বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এক জনপদের নাম ননাইয়ারমার ঘাট। এখানে ১৩৫টি পরিবারের মানুষের বসবাস। যারা পশ্চিম গোমদন্ডী (প্রস্তাবিত চরখিজিরপুর ইউনিয়ন) ইউনিয়নের বাসিন্দা। তবে শিক্ষা, চিকিৎসা ও যোগাযোগের মতো মৌলিক সব নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ওই এলাকার বাসিন্দারা। যাদের যোগাযোগের এক মাত্র ভরসা নৌকা। পটিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী হাবিলাসদ্বীপ ও কোলাগাঁও ইউনিয়নের পাশে অবস্থিত ননাইয়ারমার ঘাট কর্ণফুলীর প্রবাহমান বোয়ালখালী খালের তীরঘেঁষে গড়ে ওঠা সবুজ-শ্যামল জনবসতি। চলাফেরা, বাজার-সওদা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার জন্য এখানকার মানুষজন পটিয়ার ওপর নির্ভরশীল। অথচ প্রশাসনিকভাবে তারা বোয়ালখালীর বাসিন্দা। এ জনপদে ১৩৫টি পরিবারের বসবাস। ভোটার সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। ভোট দেন বোয়ালখালীতে, প্রশাসনিক সেবাও নিতে হয় বোয়ালখালী থেকেই। তবে এপার-ওপার যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। কর্ণফুলী নদী, বোয়ালখালী খাল, দু'মুখো খাল ও পটিয়ার গরুলুটা খালবেষ্টিত এ জনপদটি পশ্চিম গোমদণ্ডী ইউনিয়নের একেবারে শেষ প্রান্তে অবস্থিত। ব্রিটিশ আমল থেকেই ননাইয়ারমার ঘাটের নৌকাই এখানকার মানুষের প্রধান পারাপারের মাধ্যম। বোয়ালখালী উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্র জানা গেছে, তৎকালীন এমপি মোছলেম উদ্দিন আহমদ থাকা কালীন শাকপুরা ইউনিয়নের লালার হাট এলাকার সারাং বাড়ি দিয়ে পটিয়া সংযোগ, শাকপুরা মিলিটারী পুল এলাকার পুরাতন থানা দিয়ে পটিয়া সংযোগ ও ননায়মার ঘাটে সংযোগ সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। পরিদর্শন টিম যাচাই-বাছাই করে ননায়মার ঘাট সেতু রেখে অন্য দুটি সেতুর প্রস্তাবনা বাতিল করা হয়। পরিদর্শনকালে জানানো হয় ব্রিজ নির্মাণের নিয়ম হচ্ছে ১কিমি উজান-ভাটাতে কোনও ব্রিজ থাকা যাবে না। মিলিটারি পুল ও বেঙ্গুরা পটিয়া সংযোগ সেতুর দূরত্বের কারণে সেতু দুটি বাতিল হয় বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. নাছের উদ্দিন বলেন, প্রায় দেড় কিলোমিটার হেঁটে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা নিতে হয় এখানকার ছেলে-মেয়েরা। কাঁচা ও ভাঙাচোরা সড়ক মাড়িয়ে পটিয়ায় যেতে হয় পড়াশোনা ও চিকিৎসার জন্য। এতে শিশু, প্রসূতি মা ও বৃদ্ধদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। জরুরি সেবা নেওয়ার সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। এলাকাবাসি মো. ইসমাইল বলেন, এ এলাকার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নেন পাঁচুরিয়া থেকে আর চাকরিজীবীরা কোলাগাঁওয়ের কালারপুল হয়ে চট্টগ্রাম নগরে যাতায়াত করেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার করেন সফর আলী মুন্সিরহাট থেকে। এখানকার বেশিরভাগ মানুষ কৃষিজীবী। কেউ কেউ খাল-নদীতে মাছ ধরে, নৌকা ও সাম্পান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।