হাটহাজারীর প্যারালাল খালে পানি নেই, বিপাকে কৃষক
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
সুমন দাশ, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম)

কাইচ ধান চাষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল পর্যায়। এই সময়ে গাছের ভেতরে শিষের গঠন তৈরি হয় এবং কান্ডটি গর্ভাবস্থার মতো ফুলে ওঠে। ধানের ফলন কেমন হবে, প্রতিটি শিষে ধানের সংখ্যা কত হবে এবং দানা কতটা পুষ্ট হবে— তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে এই সময়ের পরিচর্যার ওপর। ধানে কাইচ থোড় আসার পর ফলন বাড়াতে এবং রোগবালাই মুক্ত রাখতে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে সবচেয়ে প্রথম ও প্রধান হল সেচ ব্যবস্থাপনা। কাইচ থোড় পর্যায় থেকে শুরু করে ধানের ফুল ফোটা পর্যন্ত জমিতে পর্যাপ্ত পানির উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে হাটহাজারী পৌরসভায় অবস্থিত প্যারালাল খালের চতুর্দিকে আমন ধানে কাইচ থোড় দৃশ্যমান। ওই এলাকার শত শত প্রান্তিক কৃষক আমন আবাদ করে এখন চেয়ে আছে পানির দিকে। পানির যে মূখ্য সময় ঠিক সে সময় খালে পানি না থাকা তাদের ভাবিয়ে তুলেছে। হয়ত সময়মত পানির অভাবে আমন নিয়ে কৃষকদের স্বপ্ন মাটি হয়ে যাবে। কৃষির উপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করতে হবে। যে ধান কেটে ঘরে তুলে কেউ বছরের খোরাক হিসেবে গোলায় ভরবে কেউবা বিক্রি করে পরিবারের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করবে। কিন্তু পানির অভাবে তা কি পূরণ হবে? আর এ চিন্তায় দিশেহারা শত শত প্রান্তিক কৃষক। প্যারালাল খাল হালদা নদীর বোয়ালিয়া খাল সংযুক্ত হলেও কিছুটি উঁচু হওয়ায় জোয়ারেও তেমন পানি প্রবেশ করেনা ফলে বোয়ালিয়া স্লুইচগেট খুলে বোয়ালিয়া খাল থেকে প্যারালাল খালে সেচ যন্ত্রের মাধ্যমে পানির ব্যবস্থা করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু কৃষকদের অভিযোগ কোন সময়েই আমন মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড কৃষকদের ন্যায্য দাবি পানির ব্যবস্থা করেন না। বরং উল্টো যারা খালে বাঁধ দিয়ে যার যার ফসলি জমিতে পাম্পের মাধ্যমে সেচ দেন তাদের বাধা দিয়ে থাকেন। সরেজমিন দেখা গেছে, কিছু কিছু কৃষক খালে জমানো পানি পাম্পের মাধ্যমে জমিতে সেচ দিচ্ছেন যদিও তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি অল্প। তারপরও কোনমতে আবাদ করা ধানকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টামাত্র। খালের পশ্চিম, পূর্ব, উত্তর ও দক্ষিণে বিলজুড়ে আমনের ব্যাপক আবাদ হয়েছে। কোথাও কাইচ থোড়, কোথাও ফুলে ভরপুর ধানের আঁটি। কিন্তু এ সময়ে পানির চাহিদা থাকলেও তার ছোঁয়া পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় কানু চৌকিদারের পুত্র কৃষক ঝুন্টু নাথ (৩৭) বলেন, প্রতি বছর আমন মৌসুমে পানির সমস্যার সম্মুখিন হই। দিনরাত পরিশ্রম করেও আশানুরুপ ফলন পাইনা। প্রতিবছর এ মৌসুমে ১৬/১৭ বিঘা চাষ করলেও এবার কয়েক টুকরোয় সাড়ে ১৩ বিঘা করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড ইরি (বোরো) মৌসুমে পানির ব্যবস্থা করলেও আমন মৌসুমে করেন না। তাহলে কি আমরা আমন আবাদ বন্ধ করে দেব। আমরা প্যারালাল খালে পানি চাই। পৌরসভার নজির আহমদের বাড়ীর মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে কৃষক সিরাজদ্দৌলা প্রকাশ সিরাজ (৪৮) বলেন, এ অঞ্চলে অনেকেই এ পেশা থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন তার একমাত্র কারণ পানির অভাব। পর্যাপ্ত পানি পাওয়া না গেলে দিনরাত পরিশ্রমের কোনও মূল্যই নেই। তিনি বলেন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অনেকবার এ সমস্যার কথা অবগত করা হয়েছে কিন্তু কে শোনে কার কথা। জানতে চাইলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ সময়ে সেচের খুব প্রয়োজন। সেচ না দিলে ধান চিটা হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। প্যারালাল খালের পানির উপর কয়েকশ কৃষকের ২০ হেক্টর আবাদ নির্ভরশীল। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রতিবারের ন্যয় বিষয়টি অবগত করা হয়েছে।
