
চায়ের রাজধানীখ্যাত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের কাজী আশরাফ জামে মসজিদ দেশের অন্যতম সুন্দর মসজিদ। শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৬ নং আশিদ্রোন ইউনিয়নের টিকরিয়া বি-চক এলাকায় ১৩ শতাংশ জায়গাজুড়ে এর অবস্থান। মসজিদটি সৌন্দর্য ও নান্দনিকতায় ভরপুর। চমৎকার স্থাপত্যশৈলী, অসাধারণ কারুকাজ ইত্যাদির কারণে কাজী আশরাফ জামে মসজিদ সিলেট বিভাগের গর্বের স্থাপনায় পরিণত হয়েছে। টার্কিশ স্থাপত্যশৈলী অনুসরণে নির্মিত অনিন্দ্য সুন্দর এই মসজিদ নির্মাণ কাজে গম্বুজ তৈরিতে মসজিদে নববির আদল অলংকৃত করা হয়েছে। উন্নতমানের মার্বেল পাথর, কাচসহ কাঠের কারুকাজে মসজিদের বিভিন্ন স্থানকে আকর্ষণীয় করতে নান্দনিক নকশার কাজ করা হয়েছে। ভেতরের অংশ দেখলে জুড়ে যায় দুই চোখ।
মসজিদটির মেঝেতে বসানো হয়েছে সাদা রঙের চমৎকার টাইলস। মসজিদটির ভেতরে অত্যাধুনিক ঝাড়বাতি লাগানো হয়েছে। মসজিদের ভেতর এবং বাইরের দর্শনীয় স্থানগুলোতে শোভা পাচ্ছে নানা রকমের বাতি এবং ক্যালিগ্রাফি। মসজিদটিতে পাঁচশতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদের মেহরাবের পশ্চিম পাশের দেয়ালে খুব সুন্দর করে লেখা হয়েছে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সা.’। মুসল্লিদের সুবিধার্থে স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেম। মুসল্লিদের জন্য রয়েছে অজুর সুব্যবস্থা। আধুনিক ডিজাইনের টাইলস, বিদেশি পেইন্টের বৈচিত্র্য, রাতের আলোকসজ্জা, চোখ জুড়ানো খিলানে নিপুণ হাতের কারুকাজ সব মিলে এক অসাধারণ সৌন্দর্য দেখে যে কারোই প্রাণ জুড়াবে। মসজিদটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ আসেন। বিশেষ করে শ্রীমঙ্গলে ঘুরতে আসা পর্যটকরা সময় পেলেই ছুটে আসেন মসজিদটি দেখতে। সন্ধ্যার পর মসজিদের লাইটগুলো জ্বালানো হলে অপূর্ব সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। এই মসজিদকে ঘিরে মুগ্ধতার শেষ নেই স্থানীয়দের। ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি এই মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করা হলেও মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০২১ সালে। শেষ হয় ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি। মসজিদটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর নির্মাণকাজে ব্যয় হয় প্রায় এক কোটি টাকা। হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ মিয়া মসজিদ নির্মাণের নকশা করেন। মসজিদের প্রতিষ্ঠা ও উদ্যোক্তা শ্রীমঙ্গলের মরহুম কাজী আশরাফ পরিবার। শ্রীমঙ্গলের নতুন বাজারের ‘কাজী ট্রাংক’ চেনেন না সিলেট অঞ্চলে এমন মানুষের সংখ্যা নেহাতই কম। ৮০-৯০-এর দশকে এ অঞ্চলের ঘরে ঘরে জনপ্রিয় এ কাজী ট্রাংক দেখা যেত। কাজী আশরাফ আলী ছিলেন শ্রীমঙ্গলের নতুন বাজারের কাজী ট্রাংক ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী। তিনি একজন পরোপকারী ও দ্বীনদরদি মানুষ ছিলেন। কাজী আশরাফের মৃত্যু আর প্লাস্টিকের পণ্যের আধিপত্যে স্টিলের তৈরি ‘কাজী ট্রাংক’-এর সেই কদর না থাকলেও মরহুম কাজী সাহেবের সুযোগ্য সন্তানরা পৈতৃক সেই ব্যবসা এখনও জিইয়ে রেখেছেন। মরহুম কাজী আশরাফের ছেলেমেয়েরা এখন দেশ-বিদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত। বাবার মৃত্যুর পর সন্তানরা বাবার স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে পিছপা হননি। বাবার স্মৃতি ধরে রাখতেই কাজী আশরাফ আলী জামে মসজিদ নির্মাণ। চমৎকার এ মসজিদ পেয়ে এলাকাবাসী খুব উচ্ছ্বসিত।
লেখক : প্রিন্সিপাল, শ্রীমঙ্গল আইডিয়াল স্কুল, মৌলভীবাজার