ইসলাম সভ্যতায় নবজাতকের কানে আজান-ইকামত
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২২, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইসলামি সভ্যতা ও সংস্কৃতিতে যখন কোনো নবজাতকের জন্ম হয়, তখন তার ডান কানে আজান এবংব বাম কানে ইকামত দিতে হয়। এর দার্শনিক ভিত্তি হচ্ছে, মানব শিশু যখন মায়ের গর্ভ ছেড়ে দুনিয়ার কোলাহলে প্রবেশ করে তখন তার কানে প্রথম কী কথাগুলো শোনানো দরকার। নিশ্চয়ই পৃথিবীর সবচেয়ে সত্য, পবিত্র ও বলিষ্ঠ কথাগুলো এমন সুরে শোনানো দরকার, যেই সুর আর ছন্দ আল্লাহর তসবিহ পাঠের এবং গোটা সৃষ্টিজগত সেই সুরের মূর্ছনায় নিত্য আন্দোলিত। যে কোনো গবেষণায় প্রমাণ হবে, আজানের আহ্বান, সুর ও ছন্দের চেয়ে মধুময় কিছু দুনিয়ার বুকে নেই এবং এই আজান ধ্বনী সুললিত কণ্ঠে নবজাতকের কর্ণকুহরে প্রবেশ করানোই যুক্তি ও সভ্যতার দাবি। তাই শরিয়তের বিধান অনুযায়ী নবজাতক বাচ্চার ডান কানে আজান ও বাম কানে ইকামত দেওয়া সুন্নত। ছেলেমেয়ে উভয়ের জন্যই আজান দেওবার বিধান সমান। এটা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
হজরত হাসান (রা.) এর জন্মের সময় স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) তার কানে আজান দিয়েছিলেন।
(কিতাবুন নাওয়াজেল ১৪/৬৮৪)
হাদিস শরিফে এসেছে, উবাইদুল্লাহ ইবনু আবু রাফি (রা.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমাহ (রা.) যখন আলী (রা.)-এর পুত্র হাসান (রা.)-কে প্রসব করলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কানে সালাতের আজানের মতো আজান দিয়েছিলেন। (তিরমিজি ১৫১৪, আবু দাউদ ৫১০৫, ইরওয়া ১১৭৩, মুসনাদে আহমাদ ২৩৮৬৯, শু’আবুল ঈমান ৮৬১৭)
মোল্লা আলী কারি (রহ.) বলেন, উক্ত হাদিস প্রমাণ বহন করে যে, নবজাতক বাচ্চার কানে আজান দেওয়া সুন্নত।
হজরত হাসান বিন আলী (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যার সন্তান হয়, তারপর লোকটি সন্তানের ডান কানে আজান ও বাম কানে ইকামত দেয়, তাহলে তাকে উম্মুস সিবয়ান ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবে না।
হজরত হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন যে, যার সন্তান হয়, সে যেন তার ডান কানে আজান এবং বাম কানে ইকামত দেয়।
{শুয়াবুল ঈমান, হাদিস নং-৮৬১৯, মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদিস নং-৬৭৮০, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং-৭৯৮৫}
আলোকিত ডেস্ক
