মীর জুমলার প্রাচীন মসজিদ

মোস্তফা কামাল গাজী

প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মসজিদটির মূল অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে বহু আগেই। শুধু একটা মোটা মিনার দাঁড়িয়ে আছে মাথা উঁচু করে। মিনারের ভেতর একটুখানি জায়গা। লতাপাতা আর শৈবালে ছাওয়া পুরো দেয়াল। মনে হয় যেনো কোনো পরিত্যক্ত ভূতুড়ে বাড়ি!

কুড়িগ্রামের পাইকেরছড়া ইউনিয়নের বেলদহ মৌজায় অবস্থিত এই মসজিদ। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন বহন করে ৪০০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে এটি। সরকারি কোনো অনুদান ও সংস্কারের ব্যবস্থা না নেওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে হারিয়ে যেতে পারে মসজিদের পাশের প্রাচীন মিনারটিও।

১৬৬০ সালে মীর জুমলা আসাম আক্রমণের সময় পাটেশ্বরী হয়ে যাবার পথে এলাকায় কোনো মসজিদ না থাকায় এখানে একটি কারুকাজ সম্বলিত মসজিদ নির্মাণ করেন। আসাম অভিযান শেষে ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যু বরণ করেন। তখন থেকেই এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এতে নামাজ আদায় করে আসছেন। বৃটিশ শাসনের সময়ে মসজিদটি জঙ্গলে ঢাকা পড়ে দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যায়। এদিকে মসজিদের পাশের দরগার মাঠে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে মেলা বসত, কালের আবর্তনে তাও বন্ধ হয়ে যায়। দিনে দিনে জায়গাটি অচীন হয়ে যায়।

১৯৫৬ সালে উপজেলার ধলডাঙ্গার জনৈক প্রভাষক স্বপ্নযোগে জানতে পারেন, উক্ত স্থানে একটি মসজিদ আছে। তা সংস্কার করে নিয়মিত নামাজ আদায়ের নির্দেশ পেয়ে তিনি এলাকার বয়স্ক গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে স্বপ্নে নির্দেশিত স্থান খনন করতে থাকেন। এরপর সেখানে ২১ হাত লম্বা ১০ হাত চওড়া তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটির সন্ধান পান। মসজিদের ওপরে প্রায় ২০০ হাত লম্বা একটি পাকুড় গাছ ছিল। পরে গাছটি কেটে সংস্কার করে স্থানীয় লোকজন নামাজ আদায় করা শুরু করেন। মসজিদের পাশেই রয়েছে একটি দরগা। অনেকে বলেন, মীর জুমলার সঙ্গের কোনো ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তাকে এখানে তাকে সমাহিত করা হয়। মসজিদে একসঙ্গে ১৯/২০ জন মুসল্লির বেশি নামাজ পড়তে পারতেন না। এদিকে দিন দিন মসজিদের ইট ধ্বসে পড়তে শুরু করলে স্থানীয় লোকজন নিজ উদ্যোগে ১৯৯৪ সালে মূল মসজিদ ভেঙে নতুন মসজিদ নির্মাণ করেন। সেখানেই এখন নিয়মিত জামাত হয়। বর্তমানে মসজিদটি অতি প্রাচীন জামে মসজিদ নামে খ্যাত।

মসজিদ কমিটির সদস্য আজিজুল হক মুন্সী জানান, এই অতি প্রাচীন মসজিদের জন্য এযাবৎ কোনো সরকারী সাহায্য পাননি। অথচ মূল মসজিদ সংস্কার করা হলে বিশ্বের দরবারে এই ঐতিহাসিক মসজিদ হিসেবে ঠাঁই পেত। মসজিদের পাশের দরগা বলে খ্যাত মূল মসজিদের অংশটুকু সংস্কারসহ সরকারিভাবে সংক্ষণ করার জন্য মসজিদ কমিটি সরকারের আশু পদক্ষেপ কামনা করেছেন। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসেন। মসজিদের ধ্বংসাবশেষ দেখে তারা দুঃখ প্রকাশ করেন।