অনিন্দ্য সুন্দর পুত্রা মসজিদ
মোস্তফা কামাল গাজী
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়ার পুত্রা মসজিদ। অনিন্দ্য সুন্দর রূপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মাথা উঁচু করে। জলের ওপর নির্মিত বলে অনেকটা ভাসমান বলেই মনে হয়। ভেতর বাইরের সর্বত্র বাহারি রূপ আর সৌন্দর্য বিমুগ্ধ করবে যে কাউকে। মসজিদের দু-একটি ছবি দেখে এর সৌন্দর্য বোঝার উপায় নেই। কুয়ালালামপুরের পুত্রাজায়া শহরটি যেমন তুলির আঁচড়ে পটে আঁকা ছবির মতো সুন্দর তেমন সুন্দর এই মসজিদও। তাই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মসজিদের তালিকায় অনায়াসে উপরের দিকে স্থান পায় এ মসজিদের নাম। যানজটমুক্ত, পরিকল্পিত ও সাজানো-গোছানো পুত্রাজায়া শহরটি পৃথিবীর অন্যতম প্রধান আধুনিক ও শৈল্পিক-স্থাপত্যশিল্পের পরিপাটি নগরী হিসেবে বিখ্যাত; যার অন্যতম নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে দৃষ্টিনন্দন পুত্রা মসজিদ।
নির্মাণগত দিক দিয়ে মসজিদটি যেমন সুন্দর তেমনি একে আলাদা সৌন্দর্য দান করেছে এর অবস্থানগত কারণ। মসজিদটি পুত্রাজায়া লেকের মধ্যে অবস্থিত। নগরীকে সুশীতল ছোঁয়া দেওয়ার জন্য গড়ে তোলা হয়েছে ৬৫০ মিটারের লেকটি, যা পুত্রা লেক নামে পরিচিত। এটি বর্তমানে মালয়েশিয়ার জলক্রীড়ার প্রধান স্পটে পরিণত হয়েছে। ৬ হাজার ৮১৫ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট লেকটি তৈরি করা হয় ১৯৯৩ সালে। একে সকলের জন্য উন্মুক্ত করা হয় ১৯৯৭ সালে। এই লেকটি পুত্রাজায়ার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সৌন্দর্য যেনো আরও বিকশিত করেছে।
মোট কথা, এটি গোটা পুত্রাজায়াকেই এনে দিয়েছে এক ভিন্ন আঙ্গিক। মসজিদের প্রবেশপ্রান্ত স্থলভাগের সঙ্গে যুক্ত। মসজিদটির কয়েক গজ দূরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন পারাদানা পুত্রা। তাই স্বাভাবিকভাবেই এর চারদিকে অপরূপ শোভামণ্ডিত। মসজিদের সামনে বিশাল গোলচত্বরটিও পুত্রাজায়া লেকবেষ্টিত। মালয়েশিয়ার পুত্রজায়া উইলিয়ার প্রধান মসজিদ এটি। ১১৬ মিটার উচ্চার এই মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৯৭ সালে। নির্মাণকাজ শেষ হতে সময় লেগেছিলো মাত্র ২ বছর। নজরকাড়া এই মসজিদ নির্মাণে খরচ হয়েছে ২৫০ মিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিংগিত, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫২০ কোটি টাকা। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি কার্যালয়ের পাশে লেকবেষ্টিত পুত্রা মসজিদটি দৃষ্টি কাড়ে পর্যটকদের। রাতের বেলায় মসজিদের রংবেরঙের বাতিগুলোর ছায়া এই লেককে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। তখন এই এলাকা হয়ে ওঠে স্বপ্নপুরীর মতো সুন্দর। মসজিদের সামনের দিকে একটি বৃহৎ বর্গক্ষেত্র রয়েছে, যেখানে মালয়েশিয়ার রাজ্যগুলোর পতাকা উড়ানো হয়।
মসজিদটি সাজানো হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ৯টি গোলাপি গম্বুজে; যার মধ্যে সর্ববৃহৎ গম্বুজটির উচ্চতা ১৬০ ফুট। মসজিদের পাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ মিনার; যার উচ্চতা ৩৮১ ফুট। মসজিদে ব্যবহৃত গোলাপি রঙের গ্রানাইটগুলো মসজিদের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মসজিদের ডিজাইনের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ান, পারসিয়ান ও আরব-ইসলামিক স্থাপত্য নকশাগুলোকে সমন্বয় করা হয়েছে। মসজিদটির মূল প্রবেশদ্বার মুসলিম পারস্যের পাবলিক বিল্ডিং গেটগুলোর অনুরূপ বানানো হয়েছে। তবে কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে স্থানীয় কারুকাজ শিল্প ও দেশীয় উপকরণ। গোটা মসজিদ কমপ্লেক্সের ডিজাইন করা হয়েছে তিনটি ভাগে। মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের জন্য রয়েছে মূল মসজিদ। আছে বিশাল উঠান এবং বিভিন্ন শিক্ষার সুবিধা ও ফাংশন রুম; যেগুলো ভাগ করা হয়েছে অডিটরিয়াম, ডাইনিং রুম ও লাইব্রেরি হিসেবে। এই মসজিদে একসঙ্গে ১৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।
মসজিদটি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। তবে নামাজের সময়গুলোতে অমুসলিমদের মসজিদে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিরুৎসাহ করা হয়। এ ছাড়া মসজিদের আঙিনায় ধূমপান সম্পূর্ণ নিষেধ। নারী পর্যটকদের এখানে প্রবেশ করার জন্য এক ধরনের বিশেষ গোলাপি পোশাক পরে নিতে হয়, যা গেটের কাউন্টার থেকে পরে নেওয়ার ব্যবস্থা আছে।
