দুয়ারে কড়া নাড়ছে রমজান, প্রস্তুতি নিয়েছেন?
আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
প্রতিটি ইবাদতের সওয়াব বহুগুণে বাড়িয়ে দেয় রমজান। বদলে দেয় মুমিনের জীবন। এ মহাসুযোগ যেন কিছুতেই হাতছাড়া না হয়, সেজন্য প্রত্যেক মুমিন-মুসলমানের রমজান পূর্ব প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। প্রতিটি মুসলমানের উচিত, নিজেকে আল্লাহর কাছে নিবেদন করতে রমজানের আগেই যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করা। রমজানের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা যেতে পারে-
জ্ঞানার্জনের প্রস্তুতি : জ্ঞান শিক্ষা করা মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর ফরজ। মুসলমানের উচিত, পবিত্র রমজান মাসের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন মাসয়ালা-মাসায়েল আগ থেইে জেনে নেওয়া। রমজানে পবিত্র কোরআনের জ্ঞানার্জনে নিজেকে নিয়োজিত রাখা প্রয়োজন। যারা কোরআন শুদ্ধভাবে তেলাওয়াত করতে পারেন না, তারা তেলাওয়াত শিখতে পারেন। যারা কোরআনের তেলাওয়াত পারেন, তারা কোরআনের অর্থ ও ব্যাখ্যা পড়ায় সময় কাটাতে পারেন। এ ছাড়া ইসলামি জ্ঞানার্জনে এখনই কিছু বই নির্বাচন করুন। কখন কোন বইটি পড়বেন, সেটিও ঠিক করে ফেলুন।
ব্যক্তিগত প্রস্তুতি : রমজান মাসটি কীভাবে কাটাবেন তার একটি পরিকল্পনা তৈরি করুন। দিনের কোন সময় কী কাজ করবেন এবং রাত কীভাবে কাটাবেন- সব কাজের বিস্তারিত তালিকা ও সময়সূচি তৈরি করুন। এ ছাড়া সাংসারিক কাজ বা দায়িত্ব আঞ্জাম দেওয়া, চাকরি বা ব্যবসায় সময় দেওয়াসহ কখন কোন ইবাদত বা আমল করবেন, তারও একটি সময়সূচি তৈরি করে নিলে ভালোভাবে রমজান কাটানো সম্ভব হবে।
পরিবারিক প্রস্তুতি : রমজান মাসে মুসলিম পরিবারে বেশ কিছু বাড়তি আমল-আয়োজন সংযুক্ত হয়। সেজন্য প্রত্যেকটি মুসলিম পরিবারে সফলভাবে রমজান যাপনের জন্য পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ আবশ্যক। পরিবারের সদস্যদের রমজানের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে রোজার ফজিলত নিয়ে আলোচনা করুন। তালিম করুন। সবাই মিলে একটি পারিবারিক রুটিন তৈরি করুন।
সামাজিক প্রস্তুতি : রমজান মাসে কোনোভাবেই যেন সমাজ কলুষিত না থাকে; সেজন্য সমাজের পরিচালক-অভিভাবকদের উচিত প্রস্তুতি গ্রহণ করা। রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় এ মাস আসার আগেই সামাজিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে, যেন সমাজটাও হয় ইসলামবান্ধব।
গৃহিণীর প্রস্তুতি : রমজান মাসে সাহরি ও ইফতার ব্যবস্থাপনায় নারীদের ভূমিকা মুখ্য। মা-বোন বা স্ত্রী-গৃহিণীরা রমজান আসার আগেই এ জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পারেন। কিছু কাজ এগিয়ে রাখতে পারেন। পারিবারিক কাজ করতে গিয়ে যেন নামাজ, তারাবি ছুটে না যায়। সেজন্য আগে থেকে রমজানের পরিকল্পনা ঠিক করুন।
শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি : রমজানে স্কুলগুলো সাধারণত বন্ধ থাকে। তাই এ সময় অভিভাবকগণ সন্তানদের কোরআন শেখানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। এ ছাড়া অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কোর্স বা প্রশিক্ষণ গ্রহণে সময় ব্যয় করতে পারেন।
চাকরিজীবীদের প্রস্তুতি : চাকরিতে মালিককে না ঠকানো এবং ইবাদত ছেড়ে নিজেকে না ঠকানোই চাকরিজীবীর দায়িত্ব। রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষার্থে সব ধরনের অনৈতিক অভ্যাস ত্যাগ করা উচিত। অফিসের কাজের ফাঁকে ও যাতায়াতের সময় নিজেকে বিভিন্ন ইবাদতে মশগুল রাখা দরকার। মোবাইলে কোরআন শরিফসহ বিভিন্ন ইসলামিক অ্যাপস চালু করে তা কাজে লাগানো যেতে পারে।
ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি : রমজান এলেই একশ্রেণির ব্যবসায়ীরা দ্বিগুণ লাভের আশায় পণ্য মজুত করে রাখেন—এটা কোনোভাবেই ইসলাম সমর্থন করে না। পণ্য মজুদকরণ বা অপকৌশলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে ‘বড়লোক’ হওয়ার স্বপ্নে বিভোর থাকা মুসলিম ব্যবসায়ীর আদর্শ হতে পারে না। ব্যবসায়ীদের উচিত, রমজান উপলক্ষে কীভাবে পণ্যের মূল্য কমিয়ে রোজাদারদের সহযোগিতা করার মাধ্যমে সওয়াব অর্জন করা যায়, সে প্রস্তুতি গ্রহণ করা।
