দুর্ঘটনার সময় যা করবেন

আলিফ মাহমুদ

প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আল্লাহতায়ালা তাঁর বান্দাদের বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করেন, আর ধৈর্যশীলরাই হন সফল। ইসলামের দৃষ্টিতে এই দুনিয়া মুমিনের জন্য পরীক্ষাস্থল। আল্লাহ বলেন, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা, সম্পদ, প্রাণ ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা বাকারা : ১৫৫)। এ আয়াতটি আমাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয় যে, দুনিয়ার যাবতীয় বিপদ, দুর্ঘটনা ও কষ্ট মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে এক ধরনের পরীক্ষা।

দুর্ঘটনায় ধৈর্য ধারণকারীদের মর্যাদা : দুর্ঘটনা ঘটলে অনেকেই হতাশায় পড়ে যান, কেউ কেউ আল্লাহর প্রতি সন্দেহ পোষণ করেন। কিন্তু একজন মুমিনের উচিত ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা। রাসুল (সা.) বলেন, ‘একজন মুসলমান কোনো কষ্ট, অসুখ, উদ্বেগ, দুঃখ, দুশ্চিন্তা কিংবা বিষণ্ণতায় পতিত হলে, এমনকি তার শরীরে কোনো কাঁটা বিঁধলেও, আল্লাহ তাতে তার গুনাহ মাফ করে দেন।’ (বোখারি : ৫৬৪১)। এই হাদিস প্রমাণ করে, আল্লাহ তাঁর বান্দাকে কোনো দুর্ঘটনার মাধ্যমে কষ্ট দিলেও, এর বিনিময়ে তিনি বান্দার গুনাহ ক্ষমা করে দেন, যা পরকালীন মুক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নবী-রাসুলরাও পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন : পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বিভিন্ন নবীর জীবনে দুর্ঘটনা ও কষ্টের উল্লেখ করেছেন, যা থেকে বোঝা যায় যে, আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদেরও বিপদে ফেলেন। যেমন ইউসুফ (আ.)-কে তাঁর ভাইয়েরা কূপে ফেলে দেয় এবং পরে দাস হিসেবে বিক্রি করে। আইয়ুব (আ.) দীর্ঘ ১৮ বছর রোগে ভোগেন এবং সব সন্তান ও সম্পদ হারান। মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনে উহুদ যুদ্ধ, তায়েফের ঘটনা, স্ত্রী খাদিজা ও চাচা আবু তালিবের মৃত্যু সবই ছিল কঠিন পরীক্ষা। আল্লাহ বলেন, ‘আপনি কি মনে করেন যে, আপনি ঈমান আনবেন এবং পরীক্ষা করা হবে না?’ (সুরা আনকাবুত : ২)।