র‌্যান্ড কর্পোরেশনের বর্গীকরণ ও মুসলিম সমাজ বিশ্লেষণের ধারা

মুসা আল হাফিজ

প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

র‌্যান্ড কর্পোরেশন একটি মার্কিন থিংকট্যাংক- যা প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, সমাজ ও পররাষ্ট্রনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নীতিনির্ধারণে সহায়তা করে। মুসলিম বিশ্ব নিয়ে তাদের বেশ কয়েকটি গবেষণা রিপোর্ট রয়েছে। র‌্যান্ড কর্পোরেশনের রিপোর্টগুলোতে মুসলিম সমাজকে সাধারণত চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে-

১. Fundamentalists (মূল্যবাদী/মূলবাদী) : তারা ইসলামের ঐতিহ্যগত, অপ্রয়োগযোগ্য ও অপরিবর্তনযোগ্য রূপে বিশ্বাস করে এবং আধুনিকতা ও পশ্চিমা গণতন্ত্রে অবিশ্বাসী।

২. Traditionalists (প্রথাগত) : তারা ধর্মীয় রীতিনীতির অনুসরণে আগ্রহী, তবে পরিবর্তনের বিরুদ্ধে নয়; ধর্মীয় কর্তৃত্বকে মান্য করে।

৩. Modernists (আধুনিকতাবাদী) : তারা ইসলামের উদার, যুক্তিনির্ভর ও আধুনিক ব্যাখ্যাকে সমর্থন করে; পুঁজিবাদ, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতি সহানুভূতিশীল।

৪. Secularists (ধর্মনিরপেক্ষ) : তারা ধর্ম ও রাজনীতিকে পৃথক রাখতে চায় এবং পশ্চিমা আদর্শে বিশ্বাস করে।

এ ধরনের বর্গায়ন শুধু ইসলামেই নয়, বরং সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সময়ও হয়েছিল। মডারেট কমিউনিস্ট ও রিফর্ম কমিউনিস্ট বিভাজনের মাধ্যমে কমিউনিস্টদের মধ্যে তৈরি করা হয় দ্বন্দ্ব, সংশয় ও বিতণ্ডা। মুসলিম বিশ্ব নিয়ে র‌্যান্ড কর্পোরেশনের এই শ্রেণিবিন্যাস ওয়েস্টার্ন রাজনীতির প্রয়োজন পূরণ করে এবং মডারেট মুসলিম নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরামর্শ দেয়। র‌্যান্ডের এই বর্গায়ন গভীর খেলার অংশ। এটি মুসলিম সমাজ ও জীবনে কৌশলগত হস্তক্ষেপ- যা মুসলিম সমাজকে ভেতর থেকে বিভক্ত ও দুর্বল করতে চায়।

এই বর্গায়ন ওরিয়েন্টালিস্টিক ও কলোনিয়াল মাইন্ডসেটের প্রতিফলন, যেখানে মুসলিমদের ব্যাখ্যা বা শ্রেণিবিন্যাস করা হচ্ছে পশ্চিমা রাজনৈতিক প্রয়োজনে। এই বর্গায়ন ইসলামি নৈতিক স্বাতন্ত্র্যবোধের ওপর ভয়াবহ বহিরাগত চাপ, যেখানে ইসলামকে একটি পলিটিক্যাল কনট্রোল সিস্টেম হিসেবে দেখান হয়েছে। ইসলামের আত্মিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক ঐতিহ্যকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এই বর্গায়নের মধ্য দিয়ে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে তাওহিদণ্ডভিত্তিক ঐক্যকে। কারণ ইসলামে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে তাওহিদ একটি অবিচ্ছেদ্য বিশ্বাস। র‌্যান্ডের প্রকল্প এই ঐক্যকে খণ্ডিত করতে চায়। মুসলিম সমাজে ideological fragmentation ঘটিয়ে পশ্চিমা কূটনীতিকে সহজ করতে চায় এবং তা বড় অর্থে ঘটছেও।

ইসলামি দার্শনিক ঐতিহ্যে সংস্কার বা তাজদিদ সর্বদা আত্মজ মুক্তি ও নৈতিক পরিশুদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। যা মুসলিম সমাজের নানা প্রবণতা ও অংশকে নিয়ে কাজ করে। কিন্তু র‌্যান্ড গোটা ব্যাপারটিকে রাজনৈতিক ও জিওস্ট্র্যাটেজিক অস্ত্রে পরিণত করল। পশ্চিমা থিংকট্যাংকগুলোর রাজনৈতিক বয়ানে মুসলিম শব্দটি প্রায়ই অর্থ ও অভিধা বদলে ফেলে। এখানে মুসলিম পরিচিতি ‘উগ্র’ অথবা ‘সহযোগী’ এ দুটি মাত্রায় পড়ে। এর মানে হলো মুসলিমরা কেবলমাত্র গ্রহণযোগ্য অথবা নির্মূলযোগ্য- এই দুই চূড়ান্ত বিভাজন। এ ক্ষেত্রে তারা ব্যবহার করেন এক ধরনের পূর্বস্থির কল্পনা, যার প্রকৃত লক্ষ্য হলো মুসলমানদের ভবিষ্যত চিন্তার জিনোম বা ভাবনার মৌল কাঠামো নিয়ন্ত্রণ করা।

র‌্যান্ড কর্পোরেশনের এই বর্গায়ন একটি বৌদ্ধিক ভূরাজনীতি (Intellectual Geopolitics), যা মুসলিম সমাজে জ্ঞানতাত্ত্বিক পরাধীনতা সৃষ্টি করতে চায়। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি শুধুমাত্র বিভক্তির কৌশল নয়, বরং আত্মচিন্তা ও আত্মমর্যাদার বিরুদ্ধে একপ্রকার নীরব উপনিবেশবাদ। র‌্যান্ডের ‘মডারেট মুসলিম’ হয়ে উঠেছে একটি আত্মণ্ডপরিত্যাগের ফর্মুলা। তথাকথিত মডারেট অংশকে প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন ও তাদের পক্ষে ন্যারেটিভণ্ডগঠনের মাধ্যমে একে প্রক্সি আইডেন্টিটিতে পরিণত করা হয়েছে। ‘মডারেট’ শব্দটি একটি মানসিক জেলখানা, যেখানে মুসলমানকে তার নিজস্ব পরিপূর্ণতা ভুলে যেতে শেখান হয়। প্রকৃত অর্থে এটি এক প্রকার ‘মনোবিশ্বাসঘাতকতা।

সুফি, সালাফি, আহলুস সুন্নাহ- সবাইকে আলাদা গেইট বানিয়ে র‌্যান্ড সেই গেইটে ‘পছন্দনীয়’ ‘অপছন্দনীয়’ ট্যাগ লাগিয়ে দিয়েছে। এটা চেতনার কারাগার। শুধু বোমা নয়, বানান দিয়েও মানুষ হত্যা করা যায়। তারা মুসলিমদের শরীরকে স্বাধীনতা দিতে চায়, যেন আত্মা তাদের অধীনে থাকে। র‌্যান্ডের শ্রেণিবিন্যাস মূলত ‘রুহানিয়্যাতের কলোনাইজেশন’।

র‌্যান্ডের মডেল দাবি করে, ধর্মীয় নিরপেক্ষতা একটি সর্বজনীন ও নিরপেক্ষ কাঠামো, এবং ‘মডারেট ইসলাম’ বলতে এমন ইসলাম বোঝায় যা সেক্যুলার কাঠামোর সঙ্গে একাত্ম। কিন্তু সেক্যুলারিজম আসলে একটি রাজনৈতিক ও ইতিহাসগত নির্মাণ, যা নিরপেক্ষ নয় বরং ক্ষমতার বাস্তবায়ন। আর সেই ক্ষমতা কাজ করে পশ্চিমা চিন্তা, মনোভঙ্গি ও রাজনীতির একচ্ছত্রতা তৈরিতে।

র‌্যান্ডের ‘মডারেট মুসলিম’, সেই মুসলিম, যার ধর্মীয় অবস্থান রাষ্ট্র-সমর্থিত সেক্যুলার কাঠামোর সেবায় নিয়োজিত। মডারেট হওয়া মানে নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির শিথিলতা, আর রাজনীতি ও তাওহিদের প্রশ্নে আত্মসমর্পণ। যারা মুসলিম মনকে এভাবে গঠনের চেষ্টা করছে, তারা ইসলামকে ‘স্নায়ুশূন্য, প্রতিবাদহীন ও আত্মসমর্পণকারী’ ধর্ম বানাতে চায়।

র‌্যান্ডের কৌশল কথিত মডারেট ধারার মধ্য দিয়ে মুসলিম সমাজে এমন শ্রেণি করতে চায়, যারা নিজেদের ঐতিহ্যিক প্রাণশক্তি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। মডারেশনের ফর্মুলা মূলত রাজনীতি, জিহাদ, শরিয়া বা রাষ্ট্রব্যবস্থায় ইসলামের ভূমিকাকে অবজ্ঞা করে।

র‌্যান্ড রিপোর্ট ইসলামকে যে অর্থে ব্যাখ্যা করে- তাতে শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্র ধারণা অনুপস্থিত। সে তার মডারেট প্রকল্পের মাধ্যমে সবচেয়ে বিপদে ফেলে মুসলিম সমাজের মধ্যপন্থাকে। কারণ মধ্যপন্থাকে আমেরিকার পছন্দের প্রকল্প হিসেবে প্রচার করে র‌্যান্ড। এর সঙ্গে যুক্ত করে এমন সব বৈশিষ্ট, যা আরোপিত। ইসলামের মধ্যপন্থা আল্লাহ নির্ধারিত; এটি পশ্চিমা বুরোক্রেসির মানদণ্ডে নির্ধারিত হতে পারে না। মুসলিমদের অবশ্যই মধ্যপন্থি হতে হবে এবং তা ইসলামের মানদণ্ডে। র‌্যান্ড এই মানদণ্ডকে নাই করে দিতে চায়। তার বর্গায়ন হয়ে উঠে ডিভাইড অ্যান্ড রুল নীতির আধুনিক রূপ। যা মুসলিম রাজনৈতিক ঐক্য ও আত্মনির্ধারণের ঐতিহ্যকে ধ্বংস করতে চেয়েছে এবং একধরনের cognitive imperialism বা চিন্তাগত সাম্রাজ্যবাদ তৈরি করেছে, যেখানে এক মুসলমান অন্য মুসলমানকে সংজ্ঞায়িত করবে আমেরিকার বাতলানো তরিকায়। এর মধ্য দিয়ে পরস্পর পরস্পরকে আক্রমণ করবে, চিত্রিত করবে এবং মুসলিম হওয়া-না হওয়ার মাত্রা পরিমাপ করবে।

একটা সচেতন সমাজ জানবে, মুসলিমদের এমনতরো বিভাজনের লক্ষ্য হলো উম্মাহর চেতনাশক্তি, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জ্ঞানিক ঐতিহ্যকে খণ্ডিত করা এবং নিজেদের পলিসি অনুযায়ী পরিচালিত করা। এটা সচেতনভাবে ইসলামের ইশতেহার-সত্তাকে ভেঙে দেওয়ার প্রক্রিয়া। র‌্যান্ড পরিভাষা দেয় ও ন্যারেটিভ গড়ে। কারণ ভাষার মধ্য দিয়েই আধিপত্য কায়েম হয়। এ জাতীয় মতাদর্শিক শ্রেণিবিন্যাস মুসলিমদের শব্দ-সত্তা (ontological vocabulary) কে বিভক্ত ও নিরস্ত্র করে।

র‌্যান্ডের মতো বর্গায়ন প্রকল্প একটি বায়োপলিটিক্যাল কৌশল, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়কে ‘ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার’ ভাষায় রূপান্তর করা হয়। এতে সাড়াদানের মধ্য দিয়ে মুসলিমরা নিজের ইতিহাস, দর্শন ও তুরাস বা ট্রাডিশনকে ভুলে, পশ্চিমের ভাষা ও চিন্তার কাঠামো দিয়ে নিজেদের ব্যবচ্ছেদ করে। এই শ্রেণিবিন্যাস মুসলিম সমাজকে মৌলিক বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা থেকে সরিয়ে, বিদেশি প্যারাডাইম অনুযায়ী রিয়েকটিভ করে তোলে। সাম্প্রতিক মুসলিম বুদ্ধিজীবী সমাজের বড় অংশ আত্মপরিচয়ের অনুশীলনের বদলে আত্মপ্রতিক্রিয়ায় যে আটকে আছে, এর মাত্রা র‌্যান্ড আরও বাড়িয়ে দেয়। এতে সাড়াদানের স্রোত দেখে বুঝা যায় মুসলিম সমাজ কতো বেশি পতিত? কারণ আমাদের বৃহত্তর অংশ বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে বন্ধ্যা হয়ে পড়েছে- অর্থাৎ নিজের পরিস্থিতির ব্যাখ্যা ও সমস্যার সমাধান খুঁজছে বাইরের কাঠামোতে। এটি সাম্রাজ্যবাদী-ঔপনিবেশিক শক্তির সামর্থ্যরে গভীরতাকে প্রমাণ করে। কারণ তাদের আসল শক্তি বোমারু বিমানে নয়, বরং তা নিহিত আছে উপনিবেশিত বা টার্গেট জনগোষ্ঠীর আত্মা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত ও চালিত করার ক্ষমতায়। র‌্যান্ডের মুসলিম শ্রেণিবিন্যাস মুসলিমদের মধ্যে সেই ‘উপনিবেশযোগ্য মনোভাব’ খুঁজে বের করছে, যাকে ব্যবহার করে বৃহৎ জিওপলিটিক্যাল খেলায় চাল চালানো যায়।

র‌্যান্ড চায় রাষ্ট্র-সহায়ক মুসলিম, কিন্তু ইসলামে রাষ্ট্রের সঙ্গে সহায়তা অসহযোগিতার নিজস্ব মানদণ্ড আছে। ইসলাম চায় আত্ম-সচেতন ও সভ্যতাঋদ্ধ সৃষ্টিশীল মুসলিম। র‌্যান্ডের গুড মুসলিম ব্যাড মুসলিম নিছক পশ্চিমা কল্পনার ফল। ইসলামের কাছে মুসলিম হওয়া মানেই ঈমান-আমলের অনুশীলনে নির্দিষ্ট কালচারাল ও সিভিলাইজেশনাল উত্তরাধিকার বহন করা।

র‌্যান্ডের মুসলিম বর্গায়ন শুধু একধরনের রাজনৈতিক প্রকল্প নয়, বরং ভাষা ও আত্মার ওপর চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মনস্তাত্ত্বিক ‘ডিজাইন’। মুসলিম তরুণদের বড় এক অংশ এই ডিজাইনের কবলে পড়েছে। তারা মুসলিমদের মধ্যে প্রতিনিয়ত নতুন প্রবণতার নানা ফাটল কল্পনা করছে এবং এতে র‌্যান্ডের ডিজাইন ও পরিভাষাগুলোর দেদারসে ব্যবহার করছে। অথচ মুসলিমদের নানা অংশ ও প্রবণতাকে সংজ্ঞায়ন, বিশ্লেষণ ও বিচার করার ইসলামি মানদণ্ড রয়েছে।

র‌্যান্ড কর্পোরেশন মুসলিম সমাজে ‘আইডিওলজিকাল ফ্র্যাগমেন্টেশন’ ঘটিয়ে জ্ঞানিক উপনিবেশায়নের কৌশল প্রয়োগ করছে। সে মুসলিমদের অন্তলোজিক্যাল ভোকাবুলারি গড়ে দিচ্ছে। এর মাধ্যমে মুসলিম সমাজকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল, আত্মপরিচয়ে বিভ্রান্ত এবং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে আরও বেশি পরনির্ভরশীল করে তোলা হচ্ছে। মুসলিমদের ভুলে যাওয়া উচিত নয়, শব্দের মাধ্যমে চিন্তা নিয়ন্ত্রিত হয়। পশ্চিমের Linguistic Conditioning মডারেট’ বা ‘এক্সট্রিমিস্ট’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে মুসলিমদের আত্মউপলব্ধি নির্ধারণ করছে। তারা শ্রেণিবিন্যাস করছে, এর মধ্যে আছে প্রিস্ক্রিপটিভ অ্যাজেন্ডা।

কারণ শ্রেণিবিন্যাস শুধু বর্ণনামূলক নয়, বরং কীভাবে সমাজকে পরিচালনা করতে হবে, তারও দিকনির্দেশনা। সমাজ বা জাতিকে শ্রেণিবিন্যাস করার বিজ্ঞান উপনিবেশিক জ্ঞানব্যবস্থার অংশ। ব্রিটিশ উপনিবেশিক আমলে সায়েন্স অব ক্লাসিফিকেশনের নাম করে মুসলমানদের ‘মার্শাল রেস’ বা ‘লয়্যালিস্ট’ বলা হতো। তাদের মার্শাল রেস থিওরি মুসলিমদের সামাজিকভাবে বিভাজিত করেছে। সুন্নি-ওয়াবি বর্গীকরণ ধর্মীয় সংঘাতকে আরও বিপজ্জনক করেছে। বর্গীকরণের মাধ্যমে তারা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, জ্ঞানতাত্ত্বিক আধিপত্য এবং বিভাজননীতিকে ধারাবাহিক করেছে। কিন্তু ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা মুসলিম সমাজকে কমই শিখিয়েছে।

মুসলিম সমাজের উচিত বাইরের টেমপ্লেটকে ছুড়ে ফেলা, পশ্চিমা রাষ্ট্রনীতির কৌশলগত প্রয়োজনে তৈরি শব্দফাঁদগুলো পরিহার করা এবং নিজের পরিচয় ও সংজ্ঞার কর্তৃত্ব নিজের হাতে নেওয়া। সেটা সম্ভব হবে ইসলামি সমাজ বিশ্লেষণের কাঠামো অবলম্বনে। সে সরবরাহ করবে মুসলিমদের প্রকাশ্য অবস্থা ও অন্তর্বাস্তবতা সংজ্ঞায়িত করার ভাষা।