মহররম মাস কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
ফারহান হাসনাত
প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মহররম বরকতময় মাস। হিজরি বা আরবি মাসের প্রথম মাস। পবিত্র কোরআনে চার মাসকে সম্মানিত বলা হয়েছে। এর মধ্যে মহররম একটি। এ মাসের ১০ তারিখকে আশুরা বলা হয়।
রমজানের পর হিজরি সনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মাস মহররম। এ মাসকে ‘আল্লাহর মাস’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন মহানবী (সা.)। তিনি বলেন, ‘রমজানের পর সবচেয়ে উত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা। ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ (তাহাজ্জুদ)।’ (মুসলিম : ২৬২৬)।
আরেক হাদিসে আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘(রমজানে পর) শ্রেষ্ঠ মাস হচ্ছে আল্লাহর মাস, যাকে তোমরা মহররম বলে থাক।’ (কুবরা : ৪২১৬)।
ওপরের দুটি হাদিস থেকে মহররমের বিষয়ে দুটি কথা পাওয়া যায়। এক. মহররম আল্লাহর মাস। সম্মানিত ও মহিমান্বিত মাস। দুই. এর সম্মান রক্ষা এবং এ থেকে যথাযথ উপকৃত হওয়ার একটি মাধ্যম হচ্ছে, এ মাসে রোজা রাখার প্রতি যত্নবান হওয়া। বিশেষ করে এ মাসের ১০ তারিখে আশুরার দিন এবং তার আগে বা পরের একদিন রোজা রাখা যেতে পারে। এক সাহাবি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে জানতে চাইলেন, রমজানের পর আপনি কোন মাসে রোজা রাখতে বলেন? তিনি বললেন, ‘তুমি যদি রমজানের পর রোজা রাখতে চাও, তাহলে মহররমে রোজা রাখ। কেননা মহররম হচ্ছে আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একদিন আছে, যেদিন আল্লাহতায়ালা (অতীতে) অনেকের তওবা কবুল করেছেন। ভবিষ্যতেও অনেকের তওবা কবুল করবেন।’ (জামে তিরমিজি: ৭৪১)। হাদিস ব্যাখ্যাকারীরা এ দিনটি আশুরার দিন হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখ করেছেন।
আয়েশা (রা.) বলেন, ‘(জাহেলি সমাজে) লোকেরা রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার দিন রোজা রাখত। এ দিন কাবায় গিলাফ জড়ানো হতো। এরপর যখন রমজানের রোজা ফরজ হলো তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, যে এ দিন রোজা রাখতে চায়, সে রাখুক। যে না চায় না রাখুক।’ (বোখারি: ১৫৯২)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) এ দিন রোজা রাখতেন। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে এ দিনের রোজা ফরজ ছিল। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর এ দিন রোজা রাখা মুস্তাহাব।
রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় এসে দেখলেন, ইহুদিরা এ দিনকে বিশেষভাবে উদযাপন করছে। মহানবী তাদের জিজ্ঞেস করলেন, এ দিনে তোমরা কী জন্য রোজা রাখছ? তারা বলল, এটি একটি মর্যাদাপূর্ণ দিন। আল্লাহতায়ালা এ দিনে হজরত মুসা (আ.) ও তাঁর জাতিকে (ফেরাউনের কবল থেকে) মুক্তি দিয়েছেন। ফেরাউনকে তার দলবলসহ (দরিয়ায়) নিমজ্জিত করেছেন। এরপর হজরত মুসা (আ.) এ দিনে শুকরিয়া আদায়স্বরূপ রোজা রাখতেন। তাই আমরাও রোজা রাখি। মহানবী এ কথা শুনে বললেন, মুসা (আ.)-এর অনুসরণের ক্ষেত্রে তো আমরা তোমাদের চেয়ে অধিক হকদার। এরপর মহানবী নিজেও রোজা রাখলেন এবং অন্যদের রোজা রাখতে বললেন। (মুসলিম : ১১৩০)।
আশুরার দিনের রোজার ফজিলতের বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আশুরার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা রাখি, তিনি আগের এক বছরের (সগিরা) গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (মুসলিম : ১১৬২)।
