মুসলিম দর্শনের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশধারা

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২১, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মো. মুরাদ হোসেন

জগৎ ও জীবন সম্পর্কে জানার প্রবল আকাক্সক্ষা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। এই জগৎ ও জীবন সম্পর্কিত মৌলিক জিজ্ঞাসাকে কেন্দ্র করে দর্শনশাস্ত্রের উৎপত্তি। দর্শনের শাব্দিক অর্থ জ্ঞানের প্রতি অনুরাগ। যার ইংরেজি শব্দ ঢ়যরষড়ংড়ঢ়যু, যিনি জ্ঞান ও সত্যের প্রতি অনুরাগী ও অনুসন্ধানী হন তাকে দার্শনিক বা ঢ়যরষড়ংড়ঢ়যবৎ বলা হয়। জগতের চরম তত্ত্ব তথা স্রষ্টা ও তাঁর সৃষ্টি, মন-প্রাণ-আত্মা, জীবন-জগৎ, ইহকাল-পরকাল সম্পর্কে মুসলিম মানসের স্বকীয় সামগ্রিক ধারণা, হৃদয়ঙ্গম উপলব্ধি, সুস্পষ্ট চিন্তাময়ী ব্যাখ্যা ও অভিমতকে মুসলিম দর্শন বলে। সাইয়েদ আবদুল হাই বলেন, ‘মুসলিম দর্শন হলো সামগ্রিক জীবনবোধের আলোকে মুসলিম চিন্তাচেতনার একটি স্বতন্ত্র ও পদ্ধতিগত আলোচনা।’

মুসলিম দর্শন বেশ কিছু উৎস থেকে উৎপত্তি ঘটলেও প্রধান উৎপত্তিস্থল হলো কোরআন ও হাদিস। পবিত্র কোরআন অবতরণ শুরু হয় জ্ঞান অর্জনের নির্দেশনা দিয়ে। বিশ্ব মানবকে মহান আল্লাহ প্রথমেই আদেশ দেন, ‘পড়, তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা আলাক : ০১)। পরে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়, ‘তিনি তোমাদের জন্য নিয়োজিত রেখেছেন রাত, দিন, সূর্য ও চাঁদকে। আর নক্ষত্রগুলোও তো তারই নির্দেশে নিয়োজিত। নিশ্চয় এসবের মধ্যে বুদ্ধিমানদের জন্য রয়েছে নিদর্শনাবলি।’ (সুরা নাহল : ১২)। প্রকৃত মোমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে কোরআনে বলা হয়, ‘তারা আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিশৈলী সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করে এবং বলে, আমাদের প্রভু! এসব অনর্থক সৃষ্টি করোনি।’ (আলে ইমরান : ১৯৩)।

বিশ্বমানবের জন্য কোরআনে পূর্ণাঙ্গ জীবন নির্দেশনা রয়েছে। আল্লাহ বলেছেন, এই গ্রন্থে আমি কোনো কিছুর বর্ণনা বাকি রাখিনি। মহাগ্রন্থ আল কোরআন মানুষকে প্রাকৃতিক ঘটনাবলি, বিশ্বজাহান সৃষ্টি, ঋতুর পরিবর্তন, দিন-রাতের আবর্তন, সাগর-মহাসাগর-নদীর প্রবাহ, মেঘ-বাতাস-বৃষ্টির গতিশীলতা, মহাশূন্যে সূর্য, চন্দ্র ও অসংখ্য নক্ষত্রের পরিভ্রমণ, জন্ম-মৃত্যুর রহস্য সম্পর্কে গভীর চিন্তা ও গবেষণার আদেশ দেয়। স্বয়ং আল্লাহ কোরআনকে অবহিত করেন বিজ্ঞানময় মহাগ্রন্থ নামে। বস্তুত কোরআনের উৎসাহব্যঞ্জক ও নির্দেশক আয়াতগুলোর ভিত্তিতে মুসলিম চিন্তাবিদরা সৃষ্টির রহস্য নিয়ে গভীরতম গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন; ফলে মুসলিমদের চিন্তা জগতে আসে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। আর এখান থেকেই মুসলিম দর্শনের মূল উৎপত্তি।

মহাগ্রন্থ আল কোরআনের মত হাদিসেও দার্শনিক চিন্তা ও গবেষণায় ব্যাপক উৎসাহমূলক দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) এর বাণী, ‘যে জ্ঞান অন্বেষণ করে তার মৃত্যু নেই,’ বা ‘এক ঘণ্টা আল্লাহ সৃষ্টির বিষয়ে গবেষণা করা হাজার বছর নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম।’ কোরআনের দার্শনিক নির্দেশনাগুলোর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মহানবী (সা.) হাদিসে মুসলিম দর্শনের প্রথাগত অগ্রযাত্রা সূচনা করেন। তিনি সাহাবায় কেরামকে জীবনের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় প্রজ্ঞা (আকল), সামাজিক প্রথা ও সাহায্য গ্রহণ করতে বলেছেন। রাসুলের উৎসাহে মুসলিমরা জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় আত্মনিয়োজিত হোন।

কোরআন-হাদিসের পরে মুসলিম দর্শনের অন্যতম প্রধান উৎস হলো ‘ইজতিহাদ’। কোরআন-হাদিসের মূলনীতির ভিত্তিতে মানব জীবনের নতুন নতুন সমস্যা সমাধানের অনুশীলনকে ইজতিহাদ বলা হয়। ইজতিহাদের বিভিন্ন রূপ যেমন কিয়াস বা সাদৃশমূলক অনুমান, ইজমা বা চিন্তা ও সামাজিক মতৈক্য, ইসতিহসান বা নির্বাচন, ইসতিসলাল বা কল্যাণকর বিবেচনা, ইসতিদলাল বা একটি অনুমান থেকে অন্যটি অনুমান প্রভৃতি পদ্ধতি ও ধারা উদ্ভব হয়েছে। কোরআন-হাদিসের গবেষণায় আত্মনিবেদিত গবেষকদের সব উদ্ভাবন ও গবেষণায় সর্বজনীন স্বীকৃতি লাভ করেছে এসব ধারা থেকে। মুসলিম দর্শনের উৎপত্তির বিকাশধারায় ইজতিহাদের অবদান অনস্বীকার্য।

পাশ্চাত্যের বেশ কিছু দার্শনিকের ধারণা, গ্রিক দার্শনিক পিথাগোরাস, প্লেটো, অ্যারিস্টটল ও নব্য প্লেটোবাদীদের চিন্তাধারা মুসলিম দর্শনের চিন্তা-গবেষণার রসদ সরবরাহ করেছে। মহানবী (সা.) এর তিরোভাবের অর্ধ শতাব্দীর মধ্যে গ্রিক দর্শন ও বিজ্ঞান শিক্ষার কেন্দ্রগুলো মুসলিমদের শাসনাধীনে চলে আসে এবং মুসলিম চিন্তাবিদরা একান্তভাবে গ্রিক চিন্তাধারার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান। পরবর্তী সময়ে আব্বাসীয় শাসক আল-মনসুর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় গ্রিক গ্রন্থগুলো আরবিতে ভাষান্তর করেন। ফলে মুসলিম চিন্তাধারায় গ্রিক দর্শন সর্বব্যাপী প্রভাব বিস্তার করতে সমর্থ হয়। একটি পর্যায়ে এ প্রভাব এতটাই প্রবল হয়ে ওঠে যে, শীর্ষস্থানীয় মুসলিম দার্শনিকরা আলাদাভাবে গ্রিক দর্শনের চর্চা অব্যাহত রাখেন। তবে এটাও সর্বজনস্বীকৃত যে, মধ্যযুগে মুসলিম জাতি জ্ঞান-বিজ্ঞান, স্থাপত্য, সংগীত ও দর্শনে যে সুউচ্চ আসন লাভ করেছেন, আধুনিক ইউরোপীয় জ্ঞান-বিজ্ঞান-দর্শন-স্থাপত্য-সংগীতের ইতিবৃত্তকাররাও পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে তাদের মৌলিক ও যুগান্তকারী অবদানের কথা স্বীকার করেছেন।

কাজেই মধ্যযুগের গতিমান সৃষ্টিশীল জাতি মুসলিম দার্শনিকরা গ্রিক দর্শন থেকে গ্রহণ করেছেন যতটুকু, দিয়েছেন তার চেয়ে অনেক বেশি। যেমন আধুনিক ইউরোপের চিন্তাবিদরা পৃথিবীর বিভিন্ন জাতির সাধনাসঞ্চিত জ্ঞান সংগ্রহ করে নিজেদের জ্ঞান ভান্ডার সমৃদ্ধ করেছেন সত্য কিন্তু এরপর পৃথিবীকে ফিরিয়ে দিয়েছেন এর চেয়ে শতগুণ বেশি। দর্শন আলোচনায়ও মুসলিম দর্শনে একই বিষয়ের পুনরাবৃত্তি দেখা গিয়েছে। গ্রিক দার্শনিকদের চিন্তা ও দর্শনের সঙ্গে পরিচিত হয়ে মুসলিম দার্শনিকরা তার মধ্যে নিজেদের বিলীন করে দেননি বরং সেখান থেকে গ্রহণীয় বিষয়গুলো গ্রহণ করে নিজেদের চিন্তাকে আরও শানিত করেছেন, সমৃদ্ধ করেছেন নিজেদের জ্ঞান ভান্ডার এবং এভাবেই নির্মাণ করেছেন পৃথিবীর দর্শন-চর্চার ইতিহাসে আদর্শভিত্তিক সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র্য একটি দার্শনিক ধারা।

মুসলিম দর্শনের ক্রমবিকাশ

দার্শনিক চিন্তাগোষ্ঠী হিসেবে জাবারিয়ারা প্রথম ক্রমবিকাশের ধারায় যুক্ত হন। একে একে আবির্ভূত হয় মুরজিয়া, কাদরিয়া, সুন্নী, আশ’আরিয়া, মুতাযিলা, সুফি, ইখওয়ানুস সাফা প্রভৃতি দার্শনিক-ধর্মতাত্ত্বিক সম্প্রদায়। ভারত উপমহাদেশে মুসলিম দর্শনের অন্যান্য ধারার চেয়ে সুফিবাদেরই অধিকতর বিকাশ লক্ষ করা যায়। কাদরিয়া, চিশতিয়া, মুজাদ্দেদিয়া, নকশাবন্দিয়া, সুহরাওয়াদিয়া, মৌলভিয়া প্রভৃতি সুফি তরিকা এ অঞ্চলে মুসলিম দর্শনের বিকাশধারাকে নানাভাবে সমৃদ্ধ করে চলেছে। তবে মুসলিম দর্শনের ক্রমবিকাশ ধারাকে যুগে যুগে নিয়ন্ত্রণ করেছেন অমিত প্রতিভাধর কিছু সংখ্যক দার্শনিক। যেমন, আল-কিন্দি (৮১৩-৮৭৪ খ্রি.) হলেন প্রথম মুসলিম দার্শনিক। তাকে আরব জাতির দার্শনিকও বলা হয়। মুসলিম দর্শনে তিনি প্রথম অধিবিদ্যা চিন্তাধারার সূচনা করেন।

আল-কিন্দি দর্শন চর্চায় গণিতের ব্যবহার প্রচলন করেন। কার্যকারণ, মানবাত্মা, জ্ঞান, বুদ্ধি, নির্গমন প্রভৃতি বিষয়ে মুসলিম ঐতিহ্য, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং দার্শনিক দৃষ্টিকোণের সমন্বয়ে আল-কিন্দি মুসলিম দর্শন চর্চার গোড়াপত্তন করেন। এ জন্য তিনি গ্রিক দর্শনের ওপর ব্যাপক পড়াশোনা করেন। আল-কিন্দি বিখ্যাত হন তার পঞ্চ-উপাদান তত্ত্ব দিয়ে। এতে তিনি পাঁচটি উপাদান জড়, আকার, গতি, কাল ও দেশ সম্পর্কে সর্বাধিক গ্রহণীয় মত ব্যক্ত করেন। দর্শন ও অন্যান্য বিষয়ে আল-কিন্দি প্রায় ২৭০টি গ্রন্থ লেখেন। গ্রিক ভাষা থেকে বহু দর্শনগ্রন্থ অনুবাদ করে তিনি সেগুলোর দুর্বোধ্যতা ও জটিলতা দূর করেন। অনেকগুলো গ্রন্থে টীকা সংযোজন করেন। তার প্রত্যক্ষ ভূমিকায় মুসলিম জাতি দর্শন চর্চায় এগিয়ে আসে।

আল-কিন্দির প্রতিষ্ঠিত ‘ফালাসিফা’ গোষ্ঠীর শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদ হলেন আল-ফারাবি (৮৭০-৯৫০)। তাকে মুসলিম দার্শনিকদের মধ্যেও সর্বশ্রেষ্ঠ মনে করা হয়। প্রাচ্যের সুধী মহলে এ জন্য তাকে ‘আল-মুআল্লিমুস সানী’ বা দ্বিতীয় শিক্ষক বলা হতো। প্রথম শিক্ষক বলা হতো অ্যারিস্টটলকে। আল-ফারাবি গ্রিক দর্শন ও মুসলিম দর্শনের সমন্বয় সাধন করেন। তিনি সত্যানুশীলনকে দর্শন চর্চার মূল উৎস মনে করেন। যুক্তিবিদ্যা, জ্ঞানতত্ত্ব অধিবিদ্যা, আদিকারণ, নৈতিক দর্শন, রাষ্ট্রদর্শন, শক্তিতত্ত্ব, মানবাত্মা ও অস্তিত্ব সম্পর্কে ফারাবির চিন্তাধারা মুসলিম দর্শনকে সমৃদ্ধ করে তোলে। দর্শন বিষয়ে আল-ফারাবি শতাধিক গ্রন্থ লেখেন। এর মধ্যে অর্ধেকই বিগত দার্শনিকদের গ্রন্থের টীকা বা সমালোচনা গ্রন্থ।

ইবন সিনা (৯৮০-১০৩৭খ্রি) বেশি পরিচিত চিকিৎসাবিজ্ঞানী হিসেবে। তবে দর্শনেও তার অবদান অবিস্মরণীয়। তিনিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান-চর্চার একমাত্র মাধ্যম হিসেবে দর্শনকে মূল্যায়ন করেন। যুক্তিবিদ্যা, মনোবিজ্ঞান, অধিবিদ্যা, মুসলিম দর্শন ও দার্শনিক, পদার্থবিদ্যা ও বিবর্তনবাদ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দার্শনিক মতবাদ উপস্থাপন করে তিনি মুসলিম দর্শনকে সমৃদ্ধ করেন। মুসলিম দার্শনিকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মৌলিক চিন্তাবিদ দার্শনিক হলেন আল-গাজ্জালি (১০৫৮-১১১১খ্রি)। তিনি সমকালীন চিন্তাধারাকে নিয়ন্ত্রণ করে মুসলিম জাতিকে নানা বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করেন। সামগ্রিক চিন্তাজগতেও তিনি কতকগুলো নতুন ধারণার জন্ম দেন। আল-গাজ্জালি ধর্মের নতুন মূল্যায়ন করেন এবং দর্শনের ধর্মতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ পেশ করেন। সুফিবাদের যথার্থতা নিরূপণ করে তিনি তাসাউফকে মুসলিম দর্শনের অন্তর্ভুক্ত বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। তার আগে এটিকে সন্দেহের চোখে দেখা হতো।

আল-গাজ্জালি জ্ঞানের উৎস ও মাধ্যম নির্ধারণের পাশাপাশি কিছু পথভ্রষ্ট দার্শনিকদের মূর্খতা থেকে কোরআনের মর্যাদা রক্ষা করেন। এসব দার্শনিক মনে করতো অ্যারিস্টটলের দর্শন ও কোরআন অভিন্ন। পাশ্চাত্যের মুসলিম দার্শনিকদের মধ্যে ইবন রুশদ (১১২৬-১১৯৮) সর্বশ্রেষ্ঠ। তার চেষ্টায় ধর্ম ও দর্শনের সমন্বয় সাধিত হয় এবং অ্যারিস্টটলের দর্শনের সঙ্গে ইসলামের সুন্দর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি আল-কিন্দি ও আল-ফারাবির অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করেন এবং জ্ঞানবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা, সৃষ্টিতত্ত্ব, মনোবিজ্ঞান, নৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয়গুলোতে সহজবোধ্য দার্শনিক চিন্তাধারা প্রবর্তন করেন। ‘তাহফাতুত তাহফাত’, ‘কিতাবুল ফালাসিফা’ তার বিশ্বখ্যাত দুটি দর্শনগ্রন্থ।

আধুনিক মুসলিম দর্শনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষ্যকার হচ্ছেন আল্লামা ইকবাল (১৮৭৩-১৯৩৮খ্রি.)। তার দর্শনগ্রন্থ ও দার্শনিক কবিতা বিশ শতকের মুসলিম চিন্তাধারায় প্রবল আলোড়ন তোলে। ‘খুদি দর্শন’ তার সর্বাধিক আলোচিত দার্শনিক চিন্তাধারা। এছাড়া রাষ্ট্রদর্শন, সজ্ঞাদর্শন, জগৎ ও শিক্ষা দর্শন বিষয়ে ইকবালের চিন্তাধারা বিশেষ গুরুত্ব পায়। এভাবে কোরআন-হাদিসের শিক্ষায় প্রাসঙ্গিক অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক প্রেরণায় মুসলিম দর্শনের উৎপত্তি ঘটে এবং কালজয়ী কিছু মুসলিম মনীষীর প্রচেষ্টায় এর পরিপূর্ণ বিকাশ সাধিত হয়। মুসলিম দর্শনের ক্রমবিকাশের এ ধারা বর্তমানে বিদ্যমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়