তুরস্কের ইস্তানবুলে শায়িত মহান সাহাবি আবু আইয়ুব আল আনসারি (রা.)
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
মো. যুবায়ের সরকার

৬৭২ সালে আমির মুয়াবিয়া (রা.)-এর সময়ে মুসলমানরা নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবায়নে সর্বপ্রথম যখন কনস্টান্টিনোপল অভিযানে আসেন। তখন সাহাবি আবু আইয়ুব আল আনসারী (রা.) এর বয়স ছিল প্রায় ৯০ বছর। জিহাদের ডাক শুনে তিনি এ অবস্থাতেই অভিযানে আসেন। মৃত্যুর আগে তিনি বাকি সাথিদের বলেছিলেন, শহর যদি বিজয় নাও হয়! তাকে যেন কনস্টান্টিনোপল শহরের দেওয়ালের পাশে কবর দেওয়া হয়। পরদিন আবু আইয়ুব আল আনসারী (রা.) শাহাদত বরণ করেন এবং তার শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী ফিরে যাওয়ার সময়, তাকে কনস্টান্টিনোপলের যতটুকু পর্যন্ত মুসলমানরা পৌঁছাতে পেরেছে, সেখানেই দাফন করে যান। ধীরে ধীরে তার কবরটা পরিণত হয় এক তীর্থস্থানে। আল তারাবি, আল বালাজুরি, রোমান সম্রাট ম্যানুয়েল ওয়ান ও পিকে হিট্টি সবাই লিখে গেছেন, যখনই কনস্টান্টিনোপলে খরা দেখা দিত, খ্রিষ্টান পাদ্রিরা আবু আইয়ুব আল আনসারী (রা.) কবর খুলে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন। যতবার এভাবে প্রার্থনা করা হয়েছে, প্রতিবারই খরা দূর হয়েছে, আকাশ থেকে নেমে এসেছে অঝোর ধারায় বৃষ্টি।
ইস্তানবুলের আসল বিজয়ী তো এ মহান সাহাবি। তারই জিহাদের কল্যাণে এ ভূমিতে প্রথম ইসলামের আওয়াজ পৌঁছেছে এবং এ শহর এক মহান সাহাবির ‘মাদফান’ হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছে। যেটা এখনও তুর্কিদের মনে গৌরবের ন্যায় কাজ করে। তারও মৃত্যুর ৮০০ বছর পর সুলতান মুহাম্মদ আল ফাতিহ এ শহর বিজয় করেন এবং আবু আইয়ুব আল আনসারির কবর তিনি খুঁজে পান তার উস্তাদ আকা শামসুদ্দিনের মাধ্যমে। শহর বিজয়ের পর মুহাম্মদ আল ফাতিহ তার কবরের পাশে তার নামে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন।
মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতকালে আল্লাহর নবী তাঁরই বাড়িতে মেহমান হয়েছিলেন। নবীজির উট ‘কাছওয়া’ তার বাড়ির আঙিনায় থেমেছিল। তিনি ছিলেন, যুদ্ধে মুহাম্মদ (সা.) এর পতাকাবাহী সৈনিক। তার ব্যাপারে বলা হয়, ‘মুহাম্মদ (সা.) এর সময় থেকে মুয়াবিয়ার সময় পর্যন্ত মুসলিমদের এমন কোনো যুদ্ধে নেই যাতে তিনি অংশ নেননি, যদি না তিনি অন্য কোনো যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়োজিত থাকতেন।’
