ঢাকা শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

দিনাজপুরে লিচু বাগানে মধু আহরণ

রেকর্ড পরিমাণ সাফল্য অর্জন
দিনাজপুরে লিচু বাগানে মধু আহরণ

চলতি বছর দিনাজপুরে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমির লিচু বাগান থেকে ১২০০ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে। ৪৫০ জন মৌ চাষি মধু সংগ্রহ করে এরইমধ্যে বাজারজাতকরণ শুরু করেছেন। বিসিক দিনাজপুর অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে দিনাজপুরে ১৩টি উপজেলার ৬ হাজার হেক্টর জমির লিচু বাগানে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন ৪৫০ জন মৌ চাষি। এর মধ্যে ৪৩ জন স্থানীয় এবং ৪০০ জন মৌ চাষি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দিনাজপুরে গিয়ে লিচু বাগানে মৌ চাষ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। এখন প্রত্যেক মৌচাষি মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন। লিচু বাগানে রাখা বাক্স থেকে আধুনিক প্রযুক্তিতে মধু আহরণ করে এরইমধ্যে তা বাজারজাতকরণ করা হচ্ছে। দিনাজপুরে ধানের পাশাপাশি চলতি মৌসুমে ব্যাপকভাবে লিচু বাগানে মধু সংগ্রহের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। সারা দেশে লিচু থেকে সংগৃহীত মধুর চাহিদা ব্যাপক থাকায় এ কার্যক্রম ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মাধববাটি গ্রামের জমির মালিকরা লিচু বাগানে মধু চাষে অধিকতর যত্নবান ও আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এ গ্রামের বিশিষ্ট মধু চাষি ডা. শাহ মো. ইসমাইল হোসেন জানান, তিনি তার লিচু বাগানে ১২০টি মৌ বাক্স স্থাপন করেছেন। সাতক্ষীরা থেকে মৌ চাষি মো. মিলন দিনাজপুরে গিয়েছেন। প্রতি বছর সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ৪৫০ জন মৌ চাষি দিনাজপুরে গিয়ে মধু সংগ্রহ করেন। সিরাজগঞ্জের মৌ চাষি শহিদুল ইসলাম বলেন, এ বছর গাছে গাছে মুকুলের সংখ্যা ছিল অনেক। তাই মধু পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। মাধববাটি গ্রামজুড়ে লিচু বাগান থাকায় এখানেই মৌ চাষিদের আগমন বেশি। প্রতি চাষির সঙ্গে তিন থেকে চারজন শ্রমিক কাজ করছেন। মধু সংগ্রহে গ্রামগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। জেলার বাইরে থেকে আসা মধু চাষিরা জানান, স্থানীয় বাগান মালিক ও শ্রমিকরা যথেষ্ট সহযোগিতা করায় তাদের পক্ষে মধু আহরণ করা সম্ভব হচ্ছে। বাগান মালিক খাদেমুল ইসলাম বলেন, মুকুলে যত মৌমাছি বসবে ততই পরাগায়ণ হওয়ায় মধুর পরিমাণ স্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। গতবারের চেয়ে এবার মুকুলের সংখ্যা বেশি হওয়ায় মধু চাষে চাষিরা সাফল্য অর্জন করছেন। বিসিকের দিনাজপুরের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, লিচু থেকে আহরণকৃত মধুর চাহিদা সারা দেশেই রয়েছে। তাই এ ধরনের মধু ব্যবসা লাভজনক। এবার বিসিকের পক্ষ থেকে ১৫০ মৌ চাষিকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রত্যেককে একটি করে মৌ বাক্স দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ৬ হাজার হেক্টর জমির অসংখ্য লিচুর গাছে এবার মধু উৎপাদন বলতে গেলে রেকর্ড পরিমাণ হয়েছে। আর এ কাজে বিসিকের পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা বাগান মালিক ও মৌ চাষিদের কারিগরিসহ সবধরনের পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করছেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত