ফরিদপুরে কাউন ও বার্লি চাষ

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২২, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  বি কে সিকদার সজল, ফরিদপুর

ফরিদপুরের বসু নরসিংহদিয়া গ্রামের মাঠের কৃষি মিউজিয়ামে ওটসের সমজাতীয় ফসল কাউন ও বার্লি আবাদ করে সফলতা অর্জিত হয়েছে। অপ্রচলিত এ ফসল চরের পতিত জমিতে আবাদ করলে একদিকে পতিত জমি কৃষি জমিতে রূপান্তরিত হবে, অন্যদিকে ভাগ্যের পরিবর্তন হবে চরবাসীর। ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. হযরত আলী আগ্রহী কৃষকদের অপ্রচলিত দানাদার ফসল আবাদে কারিগরি সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন। গবেষণা বিভাগের ফরিদপুর অঞ্চলের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সেলিম আহমেদ জানান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ থেকে অপ্রচলিত দানাদার ফসলের কিছু আধুনিক ও উন্নত জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে, যার মধ্যে ওটস, কাউন ও বার্লি উল্লেখযোগ্য। প্রায় সব ধরনের মাটিতেই কাউন চাষ করা যায়। তবে পানি দাঁড়ায় না এমন বেলে দো-আঁশ মাটিতে এর ফলন ভালো হয়। ছোট দানা বিশিষ্ট কাউন বাংলাদেশের চরাঞ্চল অথবা কম ঊর্বর জমিতে কম খরচে চাষ করা যায়। কাউন দিয়ে তৈরি খাবার খেতে সুস্বাদু, পুষ্টিগুণেও ভরপুর। ১০০ গ্রাম কাউনের চালে ৩৭৮ ক্যালরি প্রোটিন, ৯ গ্রাম পানি, ৭৩ মিলিগ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৪ গ্রাম মিনারেল, ৭৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি, ৩০০ ক্যালরি ডায়েটরি ফাইবার, ৬০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম রয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এ পর্যন্ত মোট ৪টি কাউনের জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে বারি কাউন-৩-এর জীবনকাল ফসল ১২০-১২৫ দিন। এ জাতটি খাট প্রকৃতির হওয়ায় নুয়ে পড়ে না, গাছের পাতাগুলো খাড়া ও অগ্রভাগ সুঁচালো হওয়ায় পাখির আক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারে। দেশের উত্তরাঞ্চলে অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত বীজ বোনার উপযুক্ত সময়। সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসে বীজ বোনা হয়। সাথী ফসল হিসেবে খরিপ মৌসুমেও বীজ বোনা যায়। গড় ফলন প্রতি হেক্টরে আড়াই থেকে তিন টন। স্থানীয় জাতের চেয়ে ফলন শতকরা ৩৫ ভাগ বেশি। বারি কাউন-৪ জাতটির কাণ্ড দৃঢ়, শক্ত, মজবুত ও অপেক্ষাকৃত খাটো হওয়ায় গাছ সহজে হেলে পড়ে না। হেক্টর প্রতি উৎপাদন ৩.৫৩ টন। জাতটি দ্রুত বর্ধনশীল এবং ১০৮ দিনে পরিপক্ব হয়। খাদ্য ও পানির চাহিদা কম হওয়ায় খরাপ্রবণ ও চরাঞ্চলেও চাষ করা যায়।

আরেকটি দানা জাতীয় ফসল বার্লি। এর স্থানীয় নাম যব। সাধারণত চরাঞ্চলের অনুর্বর জমিতে স্বল্প ব্যয়ে এর চাষ করা হয়। বার্লি দিয়ে শিশু খাদ্য, ওভালটিন, হরলিক্স প্রভৃতি সুস্বাদু খাদ্য তৈরি হয়। বার্লিতে আমিষ ১১.৫০ ও ও শর্করার পরিমাণ ৬৯.৬০ ভাগ। আঁশের পরিমাণ যেখানে গমে ১.৯ সেখানে বার্লিতে এর পরিমাণ ৩.৯০ ভাগ। বার্লিতে নিয়াসিন (ভিটামিন বি-৩), থায়ামিন (ভিটামিন বি-১), সেলিনিয়াম, লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, ফসফরাস, কপার ইত্যাদি খনিজ পদার্থ থাকে। এটি মানুষের শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধির কাজে লাগে এবং রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

বারি বার্লি-৭ জাতটির শীষ ছয় সারি বিশিষ্ট ও দানাগুলো খোসামুক্ত। গাছ খাটো আকৃতির। জীবনকাল ৯০-১০৫ দিন। ফলন হয় হেক্টর প্রতি ২.২০ থেকে ২.৫০ টন।