ঢাকা বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

কেশর আলুর ভালো দামে কৃষক খুশি

কেশর আলুর ভালো দামে কৃষক খুশি

কেউ দা দিয়ে গাছ কেটে খেত থেকে সরিয়ে রাখছেন। আবার কেউ কোদাল দিয়ে মাটি খুঁজে বের করছেন কেশর আলু। জমিতে সারি সারি ভাবে রাখা হয়েছে কেশর এই আলু। আবার মহিলারা ওই কেশর আলুর অপ্রয়োজনীয় অংশ দা দিয়ে কেটে মাটিতে রাখছেন। রোদে হালকা শুকানোর পর মাটি থেকে তুলে পরিষ্কার করে রাখা হচ্ছে নেটের ওপর। এমন দৃশ্য নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কোমারপুর গ্রামে মাঠে। এ এলাকার কৃষকরা এখন কেশর আলু উঠানোতে ব্যস্ত সময় পার করছে। কোদাল দিয়ে বেলে দোআঁশ মাটি খুঁড়লেই মিলছে এ সব কেশর আলু। বলা যায় এ সব সাদা সোনা। কেশর আলু একটি কন্দাল জাতীয় ফসল। প্রচলিত অর্থে এটি ফল না হলেও ফল বা সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। এটিতে প্রচুর পরিমাণ পানি, শর্করা ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাদ্য। কচকচে পানসে ও হালকা মিষ্টি স্বাদের এই আলু খেতে খুবই সুস্বাদু। যা কাঁচা খাওয়া যায়। পরিশ্রম কম এবং ফলন ও ভালো দাম পেয়ে খুশি কৃষক। পরিশ্রম কম হওয়ায় কৃষকদের মাঝে চাষাবাদে আগ্রহ বাড়ছে। কেশর আলু ভাদ্র মাসের ১৫ থেকে আশ্বিন মাসের ১৫ পর্যন্ত রোপনের সময়। রোপনের আগে সর্বোনিম্ন তিনটি চাষ দিতে হয়। এ ছাড়া সামান্য পরিমাই রাসায়নিক সার ও বিঘা প্রতি ১০-১২ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়। একবার সেচ দিলেই হয়। বেলে দোআঁশ মাটি কেশর আলু চাষের জন্য উপযুক্ত। তিন মাসের এ ফসলটি অগ্রহায়ন থেকে উঠানো শুরু হয়। প্রতি বিঘাতে ফলন ভালো হলে ৫০-৬০ মণ পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে ফলন কম হলেও ২০-৩০ মন হয়ে থাকে। মৌসুমের শুরুতে ১৬০০ থেকে ১৭০০ টাকা মণ বিক্রি হয়ে থাকে। তবে কিছুদিন রেখে দিতে পারলে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা মন হিসেবে দাম পাওয়া যায়। কোমারপুর গ্রামের কৃষক রানা বলেন- এক বিঘা জমিতে কেশর আলু চাষ করা হয়। যেখানে বিঘাতে খরচ হয়েছে ১৩ হাজার টাকা। গত বছর বীজের দাম ছিল হাজার টাকা কেজি। এ বছর ৩৫০ টাকা কেজি। বীজের দাম কম হওয়ায় তুলনামুলক খরচ কম পড়েছে। এ আলু চাষে পরিশ্রম ও খরচ কম। বিঘা প্রতি ফলন হয় প্রায় ৫০ মণ। মৌসুমের শুরুতে কয়েক দফা বৃষ্টি হয়। এতে সমস্যা হওয়ায় ফলনও কম হয়েছে। বিঘাতে ফলন হয়েছে ২৫ মন। তবে খরচের তুলনায় ৩-৪গুণ লাভ থাকে। এরপর আবার ওই জমিতে আলু রোপন করা হবে। একই এলাকারা কৃষক আয়নাল হোসেন বলেন- এলাকার মাটি বেলে দোআঁশ হওয়ায় কেশর আলু চাষের জন্য উপযোগী। প্রতি বছরই বাড়ছে এ আলুর চাষ। ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মাঝে চাষাবাদে আগ্রহ বাড়ছে। হাটে-বাজারে গিয়ে বিক্রি করার দরকার হয় না। ব্যবসায়িরা এসে জমি থেকে কিনে নিয়ে যান। প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে ১৬০০ থেকে ১৭০০ টাকা। তবে ভালো বীজ পাওয়া গেলে উৎপাদনও ভালো হবে। বদলগাছী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সাবাব ফারহান বলেন, এ উপজেলার মাটি বেলে দোআঁশ হওয়ায় কেশর আলু চাষের জন্য উপযোগী। খরচ ও পরিশ্রম কম হওয়ায় কৃষকর আগ্রহ নিয়ে চাষাবাদ করে থাকে। ভালো দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছে তারা। কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে ৫ হেক্টর জমিতের কেশর আলু চাষ হয়েছে। যা থেকে ৬০ টন উৎপাদনের সম্ভাবনা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত