কেশর আলু চাষে লাভবান কৃষক
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আজাহার আলী, বগুড়া

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে মাঠের জমিতে সারি সারিভাবে চাষ হয় কেশর আলু। কেশর আলু একটি কন্দাল জাতীয় ফসল। প্রচলিত অর্থে এটি ফল না হলেও ফল বা সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। এটিতে প্রচুর পরিমাণ পানি, শর্করা ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাদ্য। কচকচে পানসে ও হালকা মিষ্টি স্বাদের এই আলু খেতে খুবই সুস্বাদু। যা কাঁচা খাওয়া যায়। বগুড়ায় আগাম জাতের কেশর আলু চাষ করে ভালো ফলন ও দাম পেয়ে খুশি কৃষক। স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে প্রতি মণ কেশর আলু বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১২শ’ টাকায়। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৫০ টাকায়। বালুর নিচে গুপ্তধনের মতো থোকা থোকা ধরে রয়েছে কেশর আলু। গাছ ধরে টান দিলে গাছের সাথে বালুর নিচ থেকে উঠে আসছে কেশর আলু। কৃষক জালাল জানায়, আমি উপজেলার কৃষি বিভাগের পরামর্শে প্রথম বারের মতো ৬ বিঘা জমিতে কেশর আলু চাষ করেছি। প্রতি বিঘাতে ৫০ থেকে ৬০ মণ কেশর আলু উৎপাদন হয়েছে। প্রতি বিঘাতে খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। প্রতি বিঘার কেশর আলু বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ হাজার টাকা। প্রতি বিঘার খরচের চেয়ে দ্বিগুণ লাভ হচ্ছে। কৃষক রফিক জানায়, এবার অনেক ভালো দামে কেশর বিক্রি করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, কেশর আলু মূলত ফালগুন-চৈত্র মাসে তোলা হয়। কিন্তু এ বছর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সঠিক পরামর্শে আগাম জাতের কেশর আলু চাষ করে আমরা লাভের মুখ দেখছি। সময় বীজ বপন ও সার প্রয়োগ করায় কেশর আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। এছাড়া এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় খেত থেকেই পাইকাররা কেশর আলু কিনে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদেরকে কষ্ট করে বিক্রির জন্য হাট বাজারে নিতে হচ্ছে না। ফলন ভালো হওয়ার দ্বিগুণ লাভ হচ্ছে। এর পরে আমরা আরো বেশি জমিতে কেশর আলুর চাষ করবো।
