সরবরাহ বাড়ায় কমেছে সবজির দাম
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আব্বাস আলী, নওগাঁ

নওগাঁর বিভিন্ন মাঠে শীতকালীন বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজিতে ভরপুর। চারদিকে সবুজের সমারোহ। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি এবং বাজারে সরবরাহ বাড়ায় কমেছে দাম। সবজিভান্ডার হিসেবে পরিচিত উত্তরের জেলা নওগাঁ।
জেলার বিভিন্ন মাঠে সবুজের চাদরে মোড়ানো শীতকালীন বিভিন্ন শাক-সবজি। শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, বেগুন ও লাউসহ অন্তত ২০ প্রকার শীতকালীন শাক-সবজি চাষবাদ হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ জেলার শাকসবজি চলে যায় ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বেড়েছে উৎপাদন। পাইকারি পর্যায়ে প্রকারভেদে টমেটো ৫০ টাকা কেজি, শিম ১২-১৫ টাকা, বেগুন ও গাজর ৩০ টাকা, মুলা ১৫-২০ টাকা কেজি, ফুলকপি ৮-১২ টাকা পিস ও লাউ ১৫-২০ টাকা পিস।
কৃষকরা বলছেন- শাক-সবজি চাষাবাদে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় তারা দাম পাচ্ছেন না।
বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির সরবরাহে বেশি হওয়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। এছাড়া চাহিদা মতো রাসায়নিক সার না পাওয়ায় বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। নওগাঁ সদর উপজেলার লক্ষিপুর গ্রামের কৃষক আতাউল হক। চলতি মৌসুমে এক বিঘা জমিতে দেশি জাতের শিমের আবাদ করেছেন। যেখানে বিঘাতে খরচ পড়েছে অন্তত ৩০ হাজার টাকা। ৪ মাসের এ ফসল বিক্রি হয় প্রায় ৬০-৭০ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত খরচের টাকা উঠলেও দাম কমে আসায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি।
কৃষক আতাউল হক বলেন- বেশ কিছুদিন থেকে শীমের দাম কম। তবে শীম বাঁচাতে রোগ ও পোকামাড়ক নিয়ন্ত্রণে সপ্তাহে প্রায় ৬০০-৭০০ টাকা কীটনাশক স্প্রে করতে হচ্ছে। যে দাম দিয়ে শিম বিক্রি হচ্ছে তা থেকে পরিশ্রম ও কীটনাশক ব্যয়ে লোকসান হচ্ছে। লাভ হবে কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি।
লক্ষনপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন- বাজারে সবধরনের সবজির সরবরাহ বেড়েছে। এজন্য দাম কম এবং আমরা কৃষকরা লোকসানে পড়েছি। এছাড়া সবজিতে সার দিতে হবে, দোকানে পাওয়া যাচ্ছে না। আবার পাওয়া গেলেও ডিএপি সরকারি দাম ১ হাজার ৫০ টাকা, আমাদের কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকা বস্তা। অথচ বাজারে সবজি বিক্রি করতে গেলে দাম নেই।
চকবালুভরা গ্রামের কৃষক লিটন হোসেন বলেন- সবজি উৎপাদনে যে খরচ হচ্ছে সে টাকাই উঠছে না। লোকসান করে চাষাবাদ করতে হচ্ছে। আগাম সবজির দাম ভালো পাওয়ায় কিছুটা সুবিধা হয়েছে।
এখন ভরামৌসুমে যেসব সবজি উঠছে সেগুলোর দাম পাওয়া যাচ্ছে না। জমি তো আর ফেলে রাখা যায় না। বাধ্য হয়ে চাষবাদ করতে হয়। সোনারপাড়া গ্রামের কৃষক দুলাল হোসেন বলেন- গত বছর এই মৌসুমে ফলকপি বিক্রি হয়েছিল ৩০-৩৫ টাকা পিস। এবার তা বিক্রি হচ্ছে ৮-১২ টাকা পিস। যেখানে খরচই হচ্ছে ৮ টাকা পিস।
কপির দাম কমে যাওয়ার কারণ পাইকারি ব্যবসায়ীরা মৌসুমের শুরুতে কৃষকদের কাছ থেকে কিনে ঢাকায় নিয়ে যেত। এখন ব্যবসায়ীরা কপি ঢাকায় না নেওয়া দাম কমেছে। নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হোমায়রা মন্ডল বলেন- জেলায় এ বছর শীতকালিন শাকসবজির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৬০০ হেক্টর। এর বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ৯ হাজার ৩০০ হেক্টর।
যা থেকে প্রায় দেড় লাখ টন শাক-সবজি উৎপাদনের আশা। আগাম সবজির দামে কৃষক লাভবান হলেও ভরমৌসুমে উৎপাদনের পরিমাণ বেশি হওয়ায় কমেছে দাম। তবে অতিরিক্ত সবজি সংরক্ষণ করা গেলে কৃষক লাভবান হবেন।
