সিরাজগঞ্জে তীব্র শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
এসএম তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জে হাড়কাঁপানো শীত, হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে। এতে যমুনার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে গরিব ও অসহায় মানুষের অবস্থা কাহিল। জেলা উপজেলা শহর প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে এবং সকাল থেকে দিনভর সূর্যের দেখা মেলেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় সপ্তাহ ধরে সিরাজগঞ্জে প্রচণ্ড শীত, ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়া বইছে। গতকাল রোববার ভোর রাত থেকে এ শীত, হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার প্রভাব আরো বাড়ছে।
এ কারণে শীতে কাঁপছে চরাঞ্চলসহ যমুনা পাড়ের মানুষ। শহর বন্দরের দোকানপাটে কেনাকাটাও কমে গেছে। শহর ও গ্রামঞ্চলে আগুনের কুণ্ডলী জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছে বিভিন্ন বয়সের মানুষ। মহাসড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন। এ শীতের প্রভাব বাড়তে থাকায় শিশুসহ নানা বয়সী মানুষের সর্দি কাশিসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। জেলা উপজেলা হাসপাতালে এ রোগে রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে এবং শিক্ষার্থীরা স্কুল ও কলেজে যেতে হিমশিম খাচ্ছে। এ শীতে গরিব ও অসহায় পরিবারের লোকজন শীতবস্ত্রের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এছাড়া কৃষকেরা মাঠে নামতেও হিমশিম খাচ্ছে এবং আয় উপার্জনও ব্যাহত হচ্ছে। শহর ও গ্রামঞ্চলের হাট-বাজারে শীত নিবারণের পুরাতন কাপড় সংকট ও মূল্য বৃদ্ধি ঘটছে। এতে অসহায় পরিবারের লোকজন শীত নিবারণে এ কাপড় কিনতে পারছে না।
এ শীতে যমুনা নদীর তীরবর্তী বেলকুচি, চৌহালী, কাজিপুর, শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের গরিব ও অসহায় পরিবারের লোকজনের অবস্থা এখন কাহিল। তবে এ শীত নিবারণে অসহায় পরিবারের মধ্যে সরকারি বেসরকারি সংস্থা থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ উপজেলার চরাঞ্চলের শীতার্তদের মধ্যে এরইমধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগেও মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কম্বল বিতরণ করেছেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শীতার্ত মানুষের মধ্যে সাড়ে ৫ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী বরাদ্দে শীতার্তদের মধ্যে কম্বল বিতরণ শুরু করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
