বিএনপি নেতাকে খুনের ঘটনায় আটক দুই

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যশোর প্রতিনিধি

যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে খুনের মাস্টারমাইন্ড তার মেয়ের স্বামী পরশ। পারিবারিক কলহ এবং শ্বশুরের সম্পত্তি ও গাড়ির প্রতি লোভের কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জামাতা পরশসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। গতকাল রোববার পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম।

আটকরা হলেন- শংকরপুর এলাকার বাসেদ আলী পরশ (নিহতের জামাতা) ও একই এলাকার আমিনুল ইসলাম সাগর। এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় দুজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নিহত আলমগীরের স্ত্রী।

পুলিশ সুপার জানান, আলমগীরের মেয়ের সঙ্গে ১০-১২ বছর আগে পরশের বিয়ে হয়। তাদের দুটি বাচ্চা রয়েছে। বর্তমানে বাচ্চাসহ মেয়েটি আলমগীরের বাড়িতে বসবাস করছিল। সে কারণে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল পরশের।

এ ছাড়া, শ্বশুরের সম্পত্তি ও গাড়ির প্রতি লোভ ছিল। এসবের জের ধরেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এ ছাড়া, আমিনুল ইসলাম সাগরের সঙ্গেও আলমগীরের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শত্রুতা চলছিল। তারা দুজনই পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে বলে তিনি জানান। তবে তারা কেউ সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেননি। ভাড়াটে খুনি দিয়ে এই হত্যা সংঘটিত হয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে, গত শনিবার সন্ধ্যায় যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বত্তরা। নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে চলন্ত অবস্থায় তাকে গুলি করা হয়।

নিহত আলমগীর হোসেন শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর হোসেন জমি কেনাবেচার ব্যবসা করতেন। সন্ধ্যার পর যশোর মেডিকেল কলেজ-সংলগ্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিজের মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বাড়ির অদূরে শংকরপুর ইসহাক সড়কে পেছন থেকে আসা মোটরসাইকেলে চলন্ত অবস্থায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এ সময় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ ও ডিবি পুলিশ যৌথভাবে অভিযানে নেমে তাদের আটক করে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম।