চুয়াডাঙ্গায় জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সংকট

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  শরীফ উদ্দিন, চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে পাওয়া যাচ্ছে না জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন। ফার্মেসিগুলোতেও তা মিলছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, অক্টোবরে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের যে পরিমাণ চাহিদা ছিল নভেম্বর ও ডিসেম্বরে তার চাহিদা বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়। ১৫ ডিসেম্বরের পর জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ আছে। যতদিন ছিল, ততদিন দেওয়া হয়েছে। ভ্যাকসিন না পেয়ে কুকুর ও বিড়ালের আক্রমণের শিকার রোগীরা ভোগান্তির পাশাপাশি দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। জানা গেছে, সম্প্রতি কুকুর ও বিড়ালের আক্রমণের শিকার রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এ কারণে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের চাহিদাও বেড়েছে। চিকিৎসকরা আক্রমণের তারিখ উল্লেখ করে বিভিন্ন কোম্পানির ভ্যাকসিনের নাম লিখে ফার্মেসি থেকে কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন। রোগীরা জীবন রক্ষায় ভ্যাকসিনের জন্য ছোটাছুটি করছেন। দুই-একটি ফার্মেসিতে পাওয়া গেলেও তারা দাম বেশি নিচ্ছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ডিসেম্বরের ভ্যাকসিন এখনও হাসপাতালে পৌঁছেনি। গত ২১ ডিসেম্বর হাসপাতালের র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের মজুত সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়ে যায়। এরপর প্রায় ১৮ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত নতুন করে কোনো ভ্যাকসিন সরবরাহ আসেনি। কবে নাগাত আসবে সেটারও নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। এতে জেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালের জরুরি জলাতঙ্ক প্রতিরোধ চিকিৎসা কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত র‌্যাবিস ভ্যাকসিন বিতরণ কক্ষে প্রতিদিনই বিভিন্ন বয়সী রোগী ও তাদের স্বজনরা ভিড় করছেন। তবে ভ্যাকসিন না থাকায় চিকিৎসা না নিয়েই হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের। হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত কয়েকদিনে কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী টিকা নিতে এসেছেন। কিন্তু হাসপাতাল ও ফার্মেসি- কোথাও ভ্যাকসিন না পেয়ে সবাইকে ফিরে যেতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান নেই বলে জানা গেছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দ্বিতীয় ডোজ নিতে আসা জীবননগর উপজেলার কাশিপুর গ্রামের ইয়াসিন আলী (৩৫) বলেন, হাসপাতালে ভ্যাকসিন নেই। তৃতীয় ডোজে কী হবে তা নিয়ে এখন থেকে দুশ্চিন্তায় পড়েছি। ‘দামুড়হুদা থেকে আসা বদর উদ্দিন জানান, বাজারে যাওয়ার সময় রাস্তায় কুকুর আঁচড় দেয়। এরপর সদর হাসপাতালে আসি কিন্তু এখানে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নেই। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, র‌্যাবিস বা জলাতঙ্ক একটি অত্যন্ত মরণঘাতী রোগ, যা কুকুর, বিড়াল, শেয়াল ও বেজির মতো প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। এ রোগ প্রতিরোধে সরকারিভাবে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়। তিনি বলেন, দেশজুড়ে র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে সরকারিভাবে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সদর হাসপাতালে গত ২১ ডিসেম্বর ভ্যাকসিনের মজুত শেষ হয়ে গেছে। নিয়মিত চাহিদা পাঠানো হলেও আপাতত ভ্যাকসিন সরবরাহ সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহম্মেদ জানান, শুধু চুয়াডাঙ্গা নয়, দেশব্যাপীই র‌্যাবিস ভ্যাকসিন সংকট চলছে। সরকারি ও বেসরকারি- কোথাও পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। প্রতিটি উপজেলার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাহিদাপত্র দিয়ে রাখা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা করেন।