তারেক রহমানের সফর ঘিরে চাঙা নীলফামারীর বিএনপি
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
স্বপ্না আক্তার স্বর্ণালী শাহ, নীলফামারী

উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করতে আগামী ১৩ জানুয়ারি নীলফামারীতে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই আগমনকে ঘিরে নীলফামারীজুড়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ জেলা মহিলা দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারিকৃত কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, তারেক রহমানের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহিদ নেতাকর্মীদের কবর জিয়ারত ও তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ, পাশাপাশি আহত ও নির্যাতিত নেতাকর্মী এবং শহিদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও খোঁজখবর নেওয়া।
দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, আন্দোলন-সংগ্রামে আত্মত্যাগকারী পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো বিএনপির নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্বের অংশ। এছাড়াও সফরকালে তিনি উত্তরাঞ্চলে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম সরেজমিনে তদারকি করবেন এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে চলমান রাজনৈতিক আন্দোলনের রূপরেখা, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের কৌশল এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি সম্পর্কে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেবেন। দলীয় নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে থাকা তৃণমূল নেতাকর্মীদের জন্য তারেক রহমানের সরাসরি উপস্থিতি নতুন সাহস ও আত্মবিশ্বাস যোগাবে। বিশেষ করে নীলফামারীসহ উত্তরাঞ্চলে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত আরও শক্তিশালী করতে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার আগমনকে ঘিরে নীলফামারী জেলা বিএনপি ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল ও নীলফামারী জেলা মহিলা দল মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ধারাবাহিক প্রস্তুতি সভা, গণসংযোগ এবং সাংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের এই সফর শুধু একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়; বরং এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাসরিন আক্তার বলেন, তারেক রহমান দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক। তার নীলফামারী সফর নারী নেতাকর্মীদের জন্যও বড় অনুপ্রেরণা। শহিদ পরিবার ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর এই কর্মসূচিতে জেলা মহিলা দল শুরু থেকেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপির প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে মহিলা দল অতীতেও রাজপথে ছিল, আগামীতেও গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ১৩ জানুয়ারি নীলফামারী বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে একটি ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে, যা আগামী দিনের আন্দোলন ও সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
