‘ক্লিন সিটি গড়তে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে’

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) পরিচ্ছন্ন বিভাগকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। গতকাল শুক্রবার কক্সবাজারের জারা কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগের আয়োজনে হালিশহর টিজির ইনচার্জ মো. নুরুল আলমের বিদায় সংবর্ধনা ও পরিচ্ছন্ন বিভাগের বনভোজন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ক্লিন সিটি বাস্তবায়নে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, নিয়মিত ও কার্যকর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগকে আরও পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পরিচ্ছন্ন কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ওপরই একটি স্বাস্থ্যকর নগরীর ভিত্তি নির্ভর করে। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন দেশে মশা নিয়ন্ত্রণে আমেরিকান প্রযুক্তির লার্ভিসাইড বিটিআই ব্যবহারের কার্যক্রম শুরু করেছে। এই আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ফল পাওয়া যাবে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন পরিচ্ছন্ন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, নগরীর ভোর শুরু হয় আপনাদের হাত ধরেই। বৃষ্টি-রোদ, ঝুঁকি ও কষ্ট উপেক্ষা করে আপনারা যে নিরলস পরিশ্রম করেন, তার ফলেই নগরবাসী একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশে চলাচল করতে পারে। আপনাদের এই অবদান চসিক সবসময় সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করে এবং ভবিষ্যতেও কর্মীদের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন কর্মীরা শুধু একটি বিভাগের কর্মচারী নন, তারা এই শহরের স্বাস্থ্যরক্ষার সম্মুখসারির যোদ্ধা। কাজের প্রতি সততা, সময়ানুবর্তিতা ও দলগত শৃঙ্খলা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করলে চট্টগ্রামকে সত্যিকার অর্থেই একটি ক্লিন ও স্মার্ট সিটিতে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে চসিক কর্তৃপক্ষ প্রশিক্ষণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও কর্মবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। নগরবাসীর সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে মেয়র বলেন, বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ড্রাম ও পানির ট্যাংকে কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। এসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার ও শুকনো রাখলে মশার বংশবিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে এবং ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে। অনুষ্ঠানে তিনি পরিচ্ছন্ন বিভাগের বিদায়ী কর্মকর্তা মো. নুরুল আলমের দীর্ঘ কর্মজীবনের অবদান স্মরণ করে বলেন, পরিচ্ছন্ন বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে ক্লিন সিটি গড়ার লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন চৌধুরী ইফতেখার উদ্দিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুল ইসলাম, প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন, ফরহাদুল আলম, আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা সরফুল হক মাহি, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব শর্মা, জাহেদ উল্লাহ রাশেদ, খোরশেদ আলম, রিপন কিশোর রায়, ইয়াছিন সোহেল, শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, ইকবাল হোসেনসহ চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও সুপারভাইজাররা।