ঘূর্ণিঝড় মিধিলিতে নিখোঁজ ১৭ জেলে ভারতের কারাগারে

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি

বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার করতে গিয়ে দুই বছর আগে ঘূর্ণিঝড় মিধিলিতে নিখোঁজ বরগুনার ১৭ জেলের সন্ধান পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জেলেরা ভারতের গুজরাট কারাগারে বন্দি আছেন। জেলের স্বজনদের সাথে পুলিশের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে তাদেরকে দেশে ফিরে আনার বিষয়টি জানান। পুলিশের বিশেষ শাখা ডিআইও-১ কামরুজ্জামান জানান, ঘূর্ণিঝড় মিধিলিতে নিখোঁজ বরগুনা জেলার ১৭ জেলের সন্ধান পাওয়ার বিষয়টি পরিবারের সাথে কথা বলে ছবি ও তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে ঢাকার এসবি তে।

নিখোঁজ ১৭ জেলের মধ্যে ১৫ জেলের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলায়। নলটোনা ইউনিয়নের গাজী মাহমুদ গ্রামের ৭ জন, এরা হলেন আব্দুর রব মিয়া, মনির হোসেন, খলিলুর রহমান, লিটন হাওলাদার, শহিদুল ইসলাম, মো. কালু মিয়া, ও সিদ্দিক মৃধা।

ঢলুয়া ইউনিয়নের ৮ জন হলেন- আব্দুল খালেক বয়াতি, আউয়াল বিশ্বাস, আল আমিন, নান্টু খান, মো. ইউনুস, মো. সোবহান খান, ও মো. মাহাতাব। পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছোট টেংরা গ্রামের মো. কামাল ও মো. ফারুক হোসেন। নিখোঁজ হওয়া ট্রলারটির মালিকের বাড়ি পাথরঘাটা উপজেলার চরদানি ইউনিয়নের খলিফার হাট এলাকায়।

বরগুনা জেলার ট্রলার মালিক সমিতির সূত্র থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালে নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে ১৭ জন জেলে বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানী এলাকার এফবি এলাহি ভরসা নামের একটি ট্রলারে করে মাছ ধরার জন্য বঙ্গোপসাগরে যান। ২০২৩ সালের ১৭ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় মিধিলির কবলে পড়ে ওই ট্রলারসহ সব জেলে নিখোঁজ হন। দুই বছর নিখোঁজ থাকার পর গত সপ্তাহে তাদের সন্ধান পাওয়া যায়। বর্তমানে জেলেরা ভারতের গুজরাট কারাগারে বন্দী জীবন পার করছেন। ভারতের গুজরাট কারাগারে বন্দি জেলে ইউনুস সরদারের পরিবারে মা, স্ত্রী ও মেয়ে রয়েছে। নিখোঁজের পর তার বাবা ছেলে হারানোর শোকে মারা গেছেন। ওই তিনজনের খাবার জোটে অন্যের বাড়িতে কাজ করে। ইউনুস সরদারের মা তারা বানু (৭০) বলেন, পুলিশের কাছে শুনেছি আমার পোলাডা বেঁচে আছে এবং ভারতের কারাগারে আটকা আছে। তিনি আরো বলেন, দুই বছর পর আমার ছেলের বেঁচে থাকার খবরটা শুনে আমার বুকটা ভরে গেছে। অপেক্ষায় আছি কখন সে বাড়ি ফিরবে। কখন পোলাডার মুখটা একটু দেখমু। খবর শোনার পর থেকে আমার চেয়ে সুখী এই পৃথিবীতে আর একটি মানুষও নেই। ভারতে লোক পাঠিয়ে বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়েছি। কিন্তু কেহই কোনো সন্ধান দিতে পারেনি।

দুই বছর ধরে অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও তার কোনো প্রকার সন্ধান না পেয়ে ভাবছি আমার ছেলে আর বেঁচে নেই। এক পর্যায়ে আমরা তার বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। আমার সংসারের একমাত্র আয়ের লোক ছিল এই পোলাডা। অন্য এক জেলের স্ত্রী বলেন, প্রতিবেশীসহ আত্মীয়-স্বজনের সাহায্য করা টাকা পয়সা এবং খাবারদাবার খেয়েই আমরা বেঁচে আছি। এক সপ্তাহ আগে পুলিশ এসে আমাদের কাছে তার বেঁচে থাকার কথা জানান।

গুজরাট কারাগারে বন্দি আর এক জেলে আল আমিনের স্ত্রী সালমা আক্তার বলেন, দুই বছর তিন মাস নিখোঁজ থাকার পর আমার স্বামী ভারতের একটি কারাগারে বন্দী আছে বলে খবর পেয়েছি। ঢাকা থেকে বরগুনা পুলিশের কাছে নাম ঠিকানা পাঠানো হয়েছে। এই খবর শোনার পর আমরা সবাই সেখানে যাই। আমরা তার নাম ঠিকানা সব দিয়ে আসছি। এরপর আর কোনো খোঁজ পাইনি। সরকার সহযোগিতা করলে বন্দী জেলেরা খুব দ্রুত বাড়ি আসতে পারবেন।

বরগুনা জেলার ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে পাথরঘাটা উপজেলার চরদানী এলাকার এফবি এলাহি ভরসা নামে একটি মাছধরা ট্রলার ১৭ জেলেসহ গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যান। সেখানে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির কবলে পড়ে ওই ট্রলারসহ সব জেলে নিখোঁজ হন। বর্তমানে জেলেরা গুজরাটের একটি কারাগারে বন্দী আছেন। পুলিশ প্রশাসন থেকে তাদের তথ্য যাচাই বাছাই করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশা করি অল্পদিনের মধ্যেই সরকার তাদের দেশে ফিরিয়ে আনবেন।