রাবিপ্রবির প্রকল্প পরিচালক সাময়িক বরখাস্ত

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  রাঙামাটি প্রতিনিধি

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ও প্রকল্প পরিচালক আবদুল গফুরকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইসিটি সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অস্থিরতা সৃষ্টি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বুধবার অনুষ্ঠিত রিজেন্ট বোর্ডের সভায় বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি- অভিযুক্ত কর্মকর্তার কিছু কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক পরিবেশকে বিঘ্নিত করেছে এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। রিজেন্ট বোর্ড সভায় উপস্থিত সদস্যরা মত দেন, একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা, সহনশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড যদি এসব মৌলিক নীতিমালার পরিপন্থী হয়, তবে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি।

তার আগে আব্দুল গফুর টেন্ডার ও কোটেশনবিহীন আসবাবপত্র সরবরাহের নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি এক সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডে কর্মরত ছিলেন। এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষায় রিজেন্ট বোর্ড এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে এবং তদন্ত শেষে আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, তদন্তকালীন সময়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা কোনো ধরনের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

এছাড়া রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে ২১ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে এবং এসব নিয়োগ পাওয়া কোনো কর্মকর্তাই পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসী নন। প্রকল্প পরিচালক ও পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আব্দুল গফুরের এমন একটি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে উপাচার্য উত্তরে বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য ২৪ শতাংশ কোটা নিশ্চিত করা হলেও শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো আঞ্চলিক কোটা নেই, নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মেধার ভিত্তিতে।