জোনায়েদ সাকিকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন সাবেক এমপি

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এমএ খালেক ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়িনোর ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি গণসংহতি আন্দোলনের প্রধানকে বিজয়ী করতে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। গতকাল শনিবার বিকাল ৪টায় বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তেজখালী হাই স্কুল মাঠে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন এমএ খালেক। এর আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে গত ৬ জানুয়ারি তার বৈঠকের পর থেকেই এ বিষয়ে নানা জল্পনা চলছিল। গত ৬ জানুয়ারি বিকালে তারেক রহমানের সঙ্গে এমএ খালেকের বৈঠকের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ বাঞ্ছারামপুর আসনের নির্বাচনি হিসাব-নিকাশ নতুন করে শুরু হয়। ওই বৈঠকের পরই এমএ খালেকের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো এবং তাকে দেওয়া আশ্বাস নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে এমএ খালেক বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাকে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন এবং তার প্রতি সম্মান দেখিয়েই তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে প্রায় ৩০ মিনিট ব্যাপী বৈঠকের কথা উল্লেখ করে এমএ খালেক বলেন, দেশের স্বার্থে আমাকে ত্যাগ স্বীকার করতে বলেছেন তারেক রহমান। তিনি খুব বিনয় ও আন্তরিকতার সঙ্গে কথা বলেছেন। পাশাপাশি আমাকে সম্মানজনক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এবং দলের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হবে বলেও জানিয়েছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এমএ খালেক বলেন, জুনায়েদ সাকিকে আমাদের সংসদে পাঠালে আমাদেরই লাভ। তিনি আগামী দিনে মন্ত্রী হতে পারেন। তিনি অনেক ডায়নামিক। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশের বাইরে আমি যেতে পারব না। তিনি কথা দিয়েছেন, আমার বহিষ্কার আদেশ তুলে নিয়ে পরবর্তীতে সম্মানজনক পদ দিবেন। উল্লেখ্য, ২০০১ সালে বিএনপির মনোনয়নে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আবদুল খালেক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে আসনটি জোটকে ছেড়ে দেওয়ায় বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এমএ খালেক ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান। এ কারণে দল থেকে তাদের বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে বাছাইয়ে বাদ পড়ে মেহেদী হাসানের মনোনয়ন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমএ খালেক নির্বাচনি মাঠে থাকলে বিএনপি জোটের প্রার্থীর জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠতে পারত। এ আসনে মোট ১৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসান পলাশ, শাহ মুর্তুজ আলী, মো. আবু কায়েস শিকদার, কাজী দবির উদ্দিন ও দেওয়ান মো. নাজমুল হুদার মনোনয়ন বাতিল হয়। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ জনে।

বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাঈদ উদ্দিন খান, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. হাবিবুর রহমান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. সফিকুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের সফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের আবু নাসের, স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. মো. সাইদুজ্জামান কামাল, গণসংহতি আন্দোলনের মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর কেএম জাবির এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের মো. মহসীন।