শিশুকে হাত-পা বেঁধে ট্যাংকে ফেলে হত্যা, অভিযুক্ত আটক

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ৬ বছরের এক শিশুকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের মোচাগড়া (পিপিয়াপাড়া) গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত নিহা মনি ওই গ্রামের প্রবাসী শরীফ মিয়ার মেয়ে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাসেল মিয়া (২৩) নামে এক যুবককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। সে একই গ্রামের নবী আলমের ছেলে ও নিহত নিহা মনির চাচাতো ভাই। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৯টার দিকে শিশু নিহা মনি বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাচ্ছিলেন না। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ির পাশের এনজিও ‘এসডিএফ’ অফিসের বাথরুমের ট্যাংকির ভেতরে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় একটি লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে সেটি নিহা মনির দেহ হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এ সময় রাসেলও তাদের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার ভান করে এবং এলাকায় মাইকিং করার পরামর্শ দেয়। তবে তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে এলাকাবাসী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে সে হত্যার কথা স্বীকার করে। উত্তেজিত জনতা তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

স্থানীয়দের ধারণা, বখাটে রাসেল মিয়া শিশুটিকে নির্জন স্থানে নিয়ে নির্যাতের পর হাত-পা মুখ বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে এবং লাশ ট্যাংকিতে ফেলে দিয়েছে।

সন্তানের এমন নৃশংস মৃত্যুতে মা তানিয়া আক্তার বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। শোকাতুর কণ্ঠে তিনি তার সন্তানের হত্যাকারীর ফাঁসি দাবি করেন। নিহা মনির এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মুরাদনগর থানা পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত যুবককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।