নওগাঁয় সরু চালের দাম কেজিতে বেড়েছে পাঁচ টাকা

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আব্বাস আলী, নওগাঁ

শস্যভান্ডার খ্যাত উত্তরের বৃহৎ জেলা নওগাঁ। বৃহৎ মোকাম হওয়ার পরও বেড়েছে চালের দাম। দুই সপ্তাহের ব্যবধানের পাইকারিতে সরু চাল ১ টাকা থেকে দেড় টাকা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ৪-৫ টাকা। তবে মোটা জাতের চাল স্বর্না-৫ দাম কমেছে কেজিতে ৫ টাকা। নওগাঁ পৌর খুচরা চাল বাজার সূত্রে জানা যায়- সরু চালের সরবরাহ কমেছে। এতে ৪-৫ টাকা দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে কাটারিভোগ ৭৫-৭৬ টাকা, জিরাশাইল ৬৮-৭০ টাকা, ব্রিআর-২৮ চাল ৬০-৬২ টাকা এবং আতব চাল ১৩০ টাকা কেজি। তবে দাম কমে স্বর্না-৫ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি। জেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে- জেলায় মোট যে ধান উৎপাদন হয় তার মধ্যে সরু ৫১ শতাংশ এবং মোটা জাতের ধান ২৯ শতাংশ। বাকিগুলো সুগন্ধি জাতের। জেলায় বোরো মৌসুমে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়। তবে সরু ধানের আবাদ হয়ে থাকে বোরো মৌসুমে। যা দিয়ে সারা বছর জেলার এবং জেলার বাইরের চাহিদা মেটানো হয়। যেহেতু বোরো মৌসুম অনেক আগেই শেষ হয়েছে।

এ কারণে বোরো ধানের যোগান বাজারে কমে এসেছে। এতে সরু চালের দাম বেড়েছে। চালের দাম বাড়ায় অস্বস্থিতে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের পরিবার। চালের দাম শোনার পর অনেকে হতভম্ব হয়ে পড়েছেন। তারা চাহিদা মতো চাল কিনতে পারছে না। চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে তাদের। ধান-চালের জেলায় চালের দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা। তবে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে চাল আমদানি করার কথা জানান ভোক্তারা। শহরের চকমুক্তার মহল্লার অটো রিকশাচালক তোফাজ্জল হোসেন বলেন- অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে চালানো হয়। দিনে আয় হয় ৭০০-৮০০ টাকা। এরমধ্যে ৩৫০ টাকা রিকশা ভাড়া দিতে হয়। পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৩ জন। প্রতিদিন ১ কেজির ওপর চাল লাগে। এছাড়া শাক-সবজি ও মাছসহ অন্য বাজারও লাগে। যে পরিমাণ আয় হয় তা দিয়ে হিমসিম খেতে হচ্ছে। এরমধ্যে চালের দাম বেড়েছে। নিম্নআয়ের মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

দিনমজুর আফসার আলী বলেন, বাড়িতে প্রতি সপ্তাহে ১০ কেজি করে চাল লাগে। এক সপ্তাহ আগেও জিরাশাইল ৬৪ টাকা করে কিনেছিলাম। এখন সেই চাল ৬৮ টাকা কেজি কিনতে হয়েছে। শুধু চাল কিনলে তো হবে না সঙ্গে সবজি ও মাছসহ অন্য বাজারও লাগবে। আমরা চালের দেশে বসবাস করি। তারপরও বেড়েছে চালের দাম। শুধু এখানে না, সারা দেশে এখন দাম বাড়বে। ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটও হতে পারে। প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি করছি।

খুচরা চাল বিক্রেতা রাশেদুল হক বলেন- আমরা সরু চাল ঠিকমতো পাচ্ছি না। বেশি দামে চাল কিনে, বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে মোটা চালের দাম কিছুটা কমেছে। চালের দাম বাড়ায় বেচাকেনাও কমে গেছে। এ অবস্থায় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো দরকার। চালের আমদানি বেশ কিছুদিন থেকে বন্ধ আছে। এর প্রভাবও পড়েছে বাজারে। চালের আমদানি শুরু হলে স্বাভাবিক হতে পারে। নওগাঁ জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন- পাইকারি মোকামে সরু চালে কেজিতে ১ টাকা থেকে দেড় টাকা বেড়েছে। কারণ বোরো ধানের মজুত শেষ হয়ে এসেছে। এতে বাজারে সরবরাহ কমে আসায় কাটারিভোগ ও জিরাশাইল ১ হাজার ৭৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। ধানের বাজার বাড়তি হওয়ায় চালের দামও বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন- বর্তমানে আমন মৌসুম চলছে। বাজারে ধানের সরবরাহ ভালো থাকায় ১ হাজার ১৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। ধানের দাম কম থাকায় চালের দামও আছে। কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত কমেছে।