বিদ্যালয় না থাকায় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত শতাধিক শিশু

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের মাঝেরচর গ্রামে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। তবে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় শতাধিক শিশু প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

স্থানীয় মাঝেরচর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, এই গ্রামে সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। আগে একটি এনজিও শিশুদের জন্য অস্থায়ীভাবে পাঠদান চালু করলেও সেটি বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে শিশুদের পড়াশোনার জন্য আর কোনো ব্যবস্থা নেই। এই গ্রামটি খরস্রোতা বিষখালী নদী মধ্যখানে অবস্থিত।

যার কারণে ছোট বড় সকলকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি বড় নদী পার হয়ে এসে সাংসারিক বাজার সদাইসহ পারিবারিক সব কাজের চাহিদা মেটাতে হয়। বিদ্যালয়ে যেতে হলে শিশুদের এই নদী পার হয়ে পাশের এলাকায় যেতে হয়। ঝুঁকিপূর্ণ এই নদীপথে চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম ও ঝড়-তুফানের সময় এর ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এ কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠদানের জন্য পাঠাতে পারছেন না।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাবে অনেক শিশু অল্প বয়সেই পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে। কেউ কেউ পরিবারের কাজে যুক্ত হচ্ছে। এতে করে চরাঞ্চলের একটি বড় অংশের শিশু শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

৬ এবং ৮ বছরের দুই সন্তানের অভিভাবক নিজাম উদ্দিন মিয়া বলেন, আমার শিশুসন্তান প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। এত বড় নদী পারাপারের ঝুঁকির কারণে আমরা প্রতিদিন সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকি। তাদের মতে, মাঝেরচরে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে শিশুদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে।

এ ব্যাপারে পাথরঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিনাত জাহান বলেন, আমি পাথরঘাটা উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। এরকম একটি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই এ বিষয়টি আমার পুরোপুরি জানা নেই । বিষয়টি নিয়ে আমি জানার চেষ্টা করছি। মাঝেরচর গ্রামে কোনো বিদ্যালয় নেই এটা দুঃখজনক । আমি বিষয়টি ভালোভাবে জেনে দ্রুত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউওনো) ইশারাত জাহান বলেন, মাঝেরচর গ্রামে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।