নিখোঁজের তিন দিন পর মিলল জামায়াত কর্মীর লাশ
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে নিখোঁজের তিনদিন পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মীর লাশ মিলেছে মেঘনা নদীর তীররক্ষা বাঁধে। গতকাল সোমবার দুপুরে পুলিশ উপজেলার মাতাব্বরহাট এলাকার মেঘনা নদীর তীর রক্ষার জন্য নির্মাণাধীন ব্লক বাঁধের ভিতর থেকে তার লাশটি উদ্ধার করেন। নিহত ওই জামায়াত কর্মীর নাম মো. নুরুল আলম (৩৫)। তিনি উপজেলার চরজগবন্ধু এলাকার বশির আহাম্মদের ছেলে। পেশায় শ্রমিক নুরুল আলম উপজেলার সাহেবেরহাট ইউনিয়নে ৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার পর নিজ এলাকা থেকে নিখোঁজ হন তিনি।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নুরুল আলম বাড়ি থেকে স্থানীয় মাতাব্বরহাট বাজারের উদ্দেশে বের হয়ে আর ফেরেননি। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এমনকি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন গত শনিবার বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
নুরুল আলমের স্ত্রী শিউলি আক্তার জানান, স্থানীয়রা গতকাল সোমবার সকালে মাতাব্বরহাট মেঘনা নদীর তীর রক্ষার জন্য নির্মাণাধীন ব্লকবাঁধের ভিতরে তার স্বামীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করেন। তিনি জানান, দুই সন্তানের জনক তার স্বামী পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন। ইটভাটায় কাজের পাশাপাশি তিনি মেঘনা নদীর পাড়ে নির্মাণাধীন বাঁধেও শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। সহজ-সরল প্রকৃতির হওয়ায় এলাকায় তার সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল না। ঠিক কী কারণে তার স্বামী এমন মৃত্যুর স্বীকার হয়েছেন তিনি তা বুঝতে পারছেন না।
সাহেবেরহাট ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. লোকমান হোসেন বলেন, নুরুল আলম আমাদের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তার লাশের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও জখমের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, গত রোববার রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে লাশ ঘটনাস্থলে ফেলে রাখে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদুল আলম জানান, নিখোঁজ জামায়াতকর্মীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে, তার মৃত্যুর কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছেন।
